Dr. Neem on Daraz
Dr. Neem Hakim

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধী আসামি ৫ বছর পর গ্রেপ্তার


আগামী নিউজ | নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: আগস্ট ৮, ২০২২, ০২:০২ পিএম
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধী আসামি ৫ বছর পর গ্রেপ্তার

ঢাকাঃ যুদ্ধাপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মো. নজরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে এন্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ)। রোববার (৭ আগস্ট) রাজধানীর শাহ আলী থানায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সোমবার (৮ আগস্ট) এটিইউ’র পুলিশ সুপার (মিডিয়া অ্যান্ড অ্যাওয়ারনেস উইং) মোহাম্মদ আসলাম খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল রোববার বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে রাজধানীর শাহ আলী থানাধীন এলাকা থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুন্যাল-১ এর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতার নজরুল ইসলাম তার মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মামলা হওয়ার পর থেকে আত্মগোপনে যান এবং দীর্ঘ পাঁচ বছর পলাতক ছিলেন। তার অনুপস্থিতিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুন্যাল গত ২৮ জুলাই মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় খুলনার বটিয়াঘাটার ছয়জনের মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত ছয় আসামি হলেন- আমজাদ হোসেন হাওলাদার, সহর আলী সরদার, আতিয়ার রহমান, মোতাছিম বিল্লাহ, কামাল উদ্দিন গোলদার ও নজরুল ইসলাম। তাদের মধ্যে নজরুল ইসলাম পলাতক থাকলেও অন্য পাঁচ আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায়ে আসামিদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং গণহত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হয়।

গ্রেফতার নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলেও জানান এটিইউয়ের এ কর্মকর্তা।

একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধকালীন হামলা, নির্যাতন, হত্যা এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে বর্বরোচিত তাণ্ডব চালানোর অভিযোগের এ মামলায় মোট আসামি ছিল সাতজন। এরমধ্যে ছয়জন গ্রেফতার হয়ে কারাগারে ছিলেন। গ্রেফতারদের মধ্যে অভিযোগ গঠনের আগে আসামি মোজাহার আলী শেখ মারা যান। পরে বাকি ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করেন আদালত। এরমধ্যে নজরুল ইসলাম পলাতক ছিলেন।

এ মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ:
প্রথম অভিযোগ: ১৯৭১ সালের ১০ আগস্ট আমজাদ হোসেন হাওলাদারসহ চার-পাঁচজন রাজাকার বটিয়াঘাটার মাছালিয়া গ্রামের শান্তি লতা মণ্ডলের বাড়িতে হামলা চালিয়ে বিনোদ মণ্ডলকে অবৈধভাবে আটক-নির্যাতন, অপহরণ ও গুলি করে হত্যা করে।

দ্বিতীয় অভিযোগ: ১৯৭১ সালের ১৫ অক্টোবর বটিয়াঘাটার পূর্বহালিয়া গ্রামের চাপরাশী বাড়িতে হামলা চালিয়ে নিরস্ত্র হরিদাস মজুমদারকে আটক, নির্যাতন ও গুলি করে হত্যা করেন আসামিরা।

তৃতীয় অভিযোগ: মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ২১ অক্টোবর হিন্দু সম্প্রদায়কে নিশ্চিহ্ন করতে বটিয়াঘাটার সুখদাড়া গ্রামে হামলা চালিয়ে নিরীহ নিরস্ত্র হিন্দু সম্প্রদায়ের চারজনকে হত্যা, চার-ছয়টি বাড়ির মালামাল লুট এবং অগ্নিসংযোগ করে।

চতুর্থ অভিযোগে: ১৯৭১ সালের ২৯ নভেম্বরে আসামিরা বটিয়াঘাটার বারোআড়িয়া গ্রামে হামলা চালিয়ে মুক্তিযোদ্ধা জ্যোতিষ মণ্ডল ও আব্দুল আজিজকে গুলি করে হত্যা করে।

এমবুইউ