Dr. Neem on Daraz
Victory Day
“পান্তাভাতের উপকারীতা”

“পান্তাভাতের উপকারীতা”


আগামী নিউজ | আগামী নিউজ - প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২৬, ১২:৩৯ পিএম
“পান্তাভাতের উপকারীতা”

“পান্তাভাতের উপকারীতা”

আগামী নিউজ ঃ   পান্তাভাত নিয়ে প্রথম একাডেমিক গবেষণা করে ভারতের আসাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি বিজ্ঞানীদের একটি দল। তারা পান্তাভাতে পাওয়া উপাদান গুলির ক্ষতিকর দিক ও উপকারিতা নিয়ে বিশদভাবে গবেষণা করেছেন। এই গবেষণার নেতৃত্বে ছিলেন কৃষি ও জৈব প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক ডঃ মধুমিতা বড়ুয়া।
পরে এই গবেষণার ফল প্রকাশিত হয়, "এশিয়ান জার্নাল অফ কেমিস্ট্রি" তে । 

গবেষণায় পাওয়া যায় পান্তাভাতে যথেষ্ট পরিমাণে উপকারী খনিজ পদার্থ যেমন : আয়রন, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, পটাসিয়াম, জিঙ্ক, ফসফরাস, ভিটামিন বি ইত্যাদি থাকে যার পরিমাণ গরমভাতের তুলনায় অনেক টাই বেশি।

১০০ গ্রাম সাধারণ ভাতে আয়রনের পরিমাণ থাকে ৩.৫ মিলিগ্রাম। কিন্তু ১২ ঘণ্টা ভিজিয়ে তৈরি পান্তা ভাতে এর পরিমাণ বেড়ে গিয়ে হয় ৭৩.৯ মিলিগ্রাম।

একইভাবে ক্যালসিয়ামের পরিমাণও অনেক বেড়ে যায়। ১০০ গ্রাম সাধারণ ভাতে যেখানে ক্যালসিয়াম থাকে ২১ মিলিগ্রাম, সেখানে পান্তা ভাতে এর পরিমাণ দাঁড়ায় ৮৫০ মিলিগ্রাম।

ভাতের মধ্যে ফাইটেটের মতো যে এন্টি-নিউট্রিশনাল ফ্যাক্টর আছে সেটা আয়রন, ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও জিংকের মতো পুষ্টিকর পদার্থকে বেঁধে রাখে।

ফলে ভাত খাওয়ার পরেও মানুষের শরীর এসব গ্রহণ করতে পারে না।

কিন্তু ফারমেন্টেশনের কারণে পান্তা ভাতের ফাইটেট দুর্বল হয়ে পড়ে এবং তখন পুষ্টিকর পদার্থগুলো উন্মুক্ত হয়ে পড়লে আমাদের শরীর সেগুলো গ্রহণ করতে পারে।

নিয়মিত পান্তাভাত গ্রহণ শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, এতে থাকা আয়রন দেহের রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা বাড়িয়ে রক্ত সঞ্চালন সঠিক রাখে, রক্তের সাস্থ্য রক্ষায় ভূমিকা পালন করে, ক্যালসিয়াম হাড় গঠনে ভূমিকা রাখে, ম্যাগনেসিয়াম এনজাইম কে চাঙ্গা করে।

নির্দিষ্ট সময় ধরে গাজনের ফলে পান্তাভাতে পুষ্টির পরিমাণ অনেকাংশে বেড়ে যায় গরমভাতের তুলনায়। অন্তত বার ঘন্টা ভিজিয়ে এরপর পান্তা খেতে হয় তাহলে পান্তার পুষ্টি ঠিকঠাক পাওয়া যায়।

অনেকেই পান্তাভাতের পানি ফেলে দিয়ে স্টাইল মেরে ধুয়ে খান এতে করে পান্তাভাতের ৮০% পুষ্টি উপাদান থেকে তিনি নিজেকে বঞ্চিত করেন। 

পান্তাভাতের পানিতে উপকারী ব্যাকটেরিয়ার (প্রোবায়োটিক) উপস্থিতি পাওয়া গেছে আমেরিকার পাশাপাশি থাইল্যান্ডের খাদ্য ভিত্তিক গবেষণায় । 

আরো একটা কথা...ভাতের  চাল নির্বাচন করুন দেখেশুনে। পালিশ করা, সরু চাল/মিনিকেট কে না বলুন। লালচে, কালচে, অসুন্দর, খসখসে দেশি ধানের চাল কে সাদরে গ্রহণ করুন ... 

চালধোয়া জল, ভাতের ফ্যান/ মাড় ফেলবেন না (ঠান্ডা করে) এগুলো উৎকৃষ্ট জৈব তরল সার  হিসেবে ফুল গাছ / ছাদ বাগানের গাছের খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করুন।( সংগৃহীত)

আগামী নিউজ এর সংবাদ সবার আগে পেতে Follow Or Like করুন আগামী নিউজ এর ফেইসবুক পেজ এ , আগামী নিউজ এর টুইটার এবং সাবস্ক্রাইব করুন আগামী নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে

জাতীয় বিভাগের আরো খবর