Dr. Neem on Daraz
Victory Day

“ডক্টর রাধাবিনোদ পাল”


আগামী নিউজ | আগামী নিউজ ঃ প্রকাশিত: মার্চ ২, ২০২৬, ১১:১৯ পিএম
“ডক্টর রাধাবিনোদ পাল”

“ডক্টর রাধাবিনোদ পাল”

আগামী নিউজ ঃ ১৯৪৮ সালের ১২ই নভেম্বর। টোকিওর উপকণ্ঠে আদালতে বিশ্বযুদ্ধে পরাজিত জাপানের প্রধানমন্ত্রী তোজোসহ পঞ্চান্ন জন শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তির বিচার চলছে। আন্তর্জাতিক সামরিক ট্রাইব্যুনালের সেই বিশাল হলঘরে এগারোজন বাঘা বাঘা জুরি উপস্থিত। নির্ধারিত হবে আঠাশ জন 'ক্লাস-এ' যুদ্ধাপরাধীর ভাগ্য, যাদের অপরাধ প্রমাণিত হলে একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। একের পর এক বিচারক গম্ভীর স্বরে ঘোষণা করছিলেন—"গিল্টি"... "গিল্টি"... "গিল্টি"। হঠাৎ সেই নিস্তব্ধতা ভেঙে এক ভিন্ন স্বর শোনা গেল—"নট গিল্টি!"
হলঘরে নেমে এল পিনপতন নিস্তব্ধতা। সবার চোখ তখন এক বিচারকের দিকে। তিনি ডক্টর রাধাবিনোদ পাল। টোকিও আসার আগে তিনি ছিলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। তিনি শান্ত অথচ দৃঢ় কণ্ঠে বললেন, যুদ্ধাপরাধের জন্য কেবল জাপানকে এককভাবে দায়ী করা হবে চরমতম ঐতিহাসিক ভুল। তাঁর যুক্তি ছিল অকাট্য—মিত্রশক্তিও কি আন্তর্জাতিক আইনের সংযম ও নিরপেক্ষতার নীতিমালা লংঘন করেনি? জাপানের আত্মসমর্পণের ইঙ্গিত উপেক্ষা করে হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমা ফেলে প্রায় দুই লক্ষাধিক নিরীহ মানুষকে হত্যার বিচার কে করবে? যদি জাপানের বিচার করতে হয়, তবে বাকিদেরও কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে।
এই অকুতোভয় মানুষটির শিকড় কুষ্টিয়ার এক অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারে। ১৮৮৬ সালে জন্ম নেওয়া এই শিশুটি ছোটবেলাতেই পিতৃহীন হয়ে মায়ের সাথে আশ্রয় নিয়েছিলেন চুয়াডাঙ্গার এক গ্রামে। দারিদ্র্য ছিল নিত্যসঙ্গী, কিন্তু তাঁর মেধার দীপ্তি ছিল সূর্যের মতো প্রখর। জেলায় সর্বোচ্চ নম্বর নিয়ে স্কুল ফাইনাল পাস করে প্রেসিডেন্সি কলেজে ভর্তি হওয়া এই মানুষটি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণিতে এম.এসসি এবং পরবর্তীতে আইনে ডক্টরেট করেন। সম্পূর্ণ বিপরীত দুটি বিষয় বেছে নেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলতেন, "আইন এবং গণিত খুব একটা আলাদা নয়।"
ডক্টর পালের সেই বারোশো বত্রিশ পাতা জুড়ে লেখা রায় ছিল বিজয়ী শক্তির দম্ভের মুখে এক  চপেটাঘাত। সেই রায়ের প্রতিটি পাতায় ছিল আইনের চুলচেড়া বিশ্লেষণ এবং মানবিকতার এক গভীর আবেদন। তাঁর অকাট্য যুক্তির কাছে হার মানতে হয়েছিল অনেক জুরিকে। তাঁর রায়ের প্রভাবে অধিকাংশ জুরি অভিযুক্তদের 'ক্লাস-এ' থেকে 'ক্লাস-বি'তে নামিয়ে আনতে বাধ্য হন, ফলে অনেকেই রেহাই পান নিশ্চিত মৃত্যুদণ্ডের হাত থেকে। আন্তর্জাতিক আদালতে তাঁর এই নিরপেক্ষ রায় তাঁকে  বিশ্বজোড়া সুখ্যাতি এনে দেয়।
জাপান ভোলেনি এই মহান নিঃস্বার্থ বাঙালি বন্ধুকে। সম্রাট হিরোহিতো একবার বলেছিলেন, “যতদিন জাপান থাকবে, জাপান হবে বাঙালির চিরকালের নিঃস্বার্থ বন্ধু।” ১৯৬৬ সালে সম্রাট তাঁকে জাপানের সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান ‘কোক্কো কুনশাও’-এ ভূষিত করেন। টোকিও এবং কিয়োটোর দুটি ব্যস্ত রাস্তা আজও তাঁর নামে পরিচিত। জাপানের আইন পাঠক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে তাঁর লেখা সেই ঐতিহাসিক রায়। 
টোকিওর রাজপথে হাঁটতে হাঁটতে যদি হঠাৎ সুপ্রিম কোর্টের সামনে গাউন পরা এক বিচারকের মূর্তির নিচে চোখ পড়ে, চমকাবেন না। সেখানে লেখা আছে এক বঙ্গসন্তানের নাম। Justice Radhabenod Pal. Collected

আগামী নিউজ এর সংবাদ সবার আগে পেতে Follow Or Like করুন আগামী নিউজ এর ফেইসবুক পেজ এ , আগামী নিউজ এর টুইটার এবং সাবস্ক্রাইব করুন আগামী নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে

জাতীয় বিভাগের আরো খবর