August
Dr. Neem on Daraz
Dr. Neem Hakim

ভারতে আশ্রয় নিয়েছিল শেখ হাসিনা হত্যাচেষ্টা মামলার আসামি পিন্টু


আগামী নিউজ | নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: জুন ২৬, ২০২২, ০২:১১ পিএম
ভারতে আশ্রয় নিয়েছিল শেখ হাসিনা হত্যাচেষ্টা মামলার আসামি পিন্টু

ঢাকাঃ দিনাজপুরের উদ্দেশে যাওয়ার সময় ১৯৯৪ সালে পাবনার ঈশ্বরদী রেল স্টেশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বহনকারী ট্রেনে হামলা ও গুলিবর্ষণের মাধ্যমে হত্যাচেষ্টার মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি জাকারিয়া পিন্টুকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। শনিবার রাতে কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে তাকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। 

র‌্যাবের সন্দেহ, তিনি পাবনা অঞ্চলের প্রভাবশালী চরমপন্থি দলের প্রভাবশালী সদস্য। তার নিজেরও ছিল একটি সন্ত্রাসী বাহিনী। পিন্টু অস্ত্রসহ একাধিক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত ও ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি।

প্রধানমন্ত্রীকে হত্যাচেষ্টার মামলায় ২০১৯ সালে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পর আত্মগোপনে যান তিনি। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত ছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে ছিলেন তিনি। সর্বশেষ তিনি টেকনাফ থেকে গ্রেপ্তার হন।

রবিবার (২৬ জুন) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের জনসংযোগ ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক খন্দকার আল মঈন এক সংবাদ সম্মেলনর এসব তথ্য জানান।

র‌্যাব জানায়, জাকারিয়া পিন্টুর নেতৃত্বে ঈশ্বরদীতে আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, মারামারিসহ বিভিন্ন অরাজকতা চলতো। প্রথমে ১৯৮৮ সালে ও পরবর্তীতে বিভিন্ন অপরাধে সম্পৃক্ততায় তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়। সেসব মামলায় গ্রেফতার এড়াতে এলাকা ত্যাগ করে ২০০৪ সাল থেকে ঢাকার মিরপুরে বসবাস শুরু করেন তিনি। পরিবার ঢাকায় থাকলেও তিনি নিয়মিত ঈশ্বরদীতে যাতায়াত করতেন। ২০১৫ সালে ঈশ্বরদীতে উপজেলা নির্বাচনে স্বতন্ত্রভাবে অংশগ্রহণ করে এবং পরাজিত হন।

জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার জাকারিয়া জানিয়েছেন, তিনি ১৯৯৪ সালে ঈশ্বরদীতে চম্পা হত্যা মামলার অভিযুক্ত আসামি এবং ২০০৯ সালে ঈশ্বরদীতে আজম হত্যা মামলায় অভিযুক্ত হয়ে কারাবরণ করেন। পরে ২০১১ সালে অস্ত্রসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক গ্রেফতার হন এবং তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে কুষ্টিয়া ভেড়ামারা থানায় একটি মামলা হয়। এই মামলায় তিন মাস কারাভোগ করলেও পরে জামিনে মুক্তি নিয়ে ফেরারি হন। সেই মামলায় আদালত তাকে ১৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।

এছাড়াও ২০১২, ২০১৪ এবং ২০১৫ সালে আধিপত্য বিস্তার, বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ১০টি মামলা হয়। এপর্যন্ত তার নামে একটি মৃত্যুদণ্ড ও একটি ১৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের সাজা পরোওয়ানা ছাড়াও বিভিন্ন অপরাধে ছয়টি গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় সর্বমোট ১৯টি মামলা রয়েছে।

২০১৯ সালে প্রধানমন্ত্রীকে হত্যাচেষ্টা মামলার রায় ঘোষণার পর থেকেই আত্মগোপনে ছিলেন পিন্টু। রায় ঘোষণার পরদিনই আইনশঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে তিনি দেশত্যাগ করে পাশের দেশে আত্মগোপন করেন। সেখানে কিছুদিন অবস্থানের পর পুনরায় দেশে ফিরে আসেন। পরে করোনা সংক্রমণের বাড়লে সীমান্ত যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ঢাকা, রাজশাহী ও কক্সবাজারসহ বিভিন্ন জায়গায় আত্মগোপন করেন। সর্বশেষ কক্সবাজারের টেকনাফে বন্ধুর বাসায় আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় র‌্যাব-২ তাকে গ্রেফতার করে। পিন্টুর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

আত্মগোপনে তিনি ভারতে আশ্রয় নেন

গ্রেপ্তার পিন্টুকে জিজ্ঞাসাবাদে র‌্যাব আরও জানতে পারে, ২০১৯ সালে প্রধানমন্ত্রীকে হত্যাচেষ্টা মামলার রায় ঘোষণার পর থেকে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। রায় ঘোষণার পরের দিনই তিনি দেশ ত্যাগ করে ভারতে আত্মগোপন করেন। সেখানে কিছুদিন অবস্থানের পর আবার দেশে ফিরে আসেন। পরে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় সীমান্ত যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তিনি ঢাকা, রাজশাহী ও কক্সবাজারসহ বিভিন্ন জায়গায় আত্মগোপন করেন। সর্বশেষ কক্সবাজারের টেকনাফে তার বন্ধুর বাসায় আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় র‌্যাব-২ তাকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তার পিন্টুর রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে জানতে চাইলে কমান্ডার মঈন বলেন, যে সময় হামলার ঘটনা ঘটেছিল তখন পাবনা-কুষ্টিয়া অঞ্চলে ছিল সর্বহারা ও চরমপন্থিদের আধিপত্য। তবে মামলার ধরনে বলা যায়, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। ১৯৮৮ সাল থেকে তার সন্ত্রাসী হামলা কর্মকাণ্ড রয়েছে। তিনি ২০১৫ সালের ঈশ্বরদী অঞ্চলে স্বতন্ত্র নির্বাচন করেছেন। র‌্যাবের ধারণা তিনি চরমপন্থি দলের প্রভাবশালী নেতা ছিলেন। বিশদ জিজ্ঞাসাবাদে এ ব্যাপারে স্পষ্ট হওয়া যাবে। গ্রেপ্তার পিন্টুর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

উল্লেখ্য, ১৯৯৪ সালের ২৩শে সেপ্টেম্বর শুক্রবার ট্রেনযোগে খুলনা থেকে সৈয়দপুর যাওয়ার পথে ঈশ্বরদী রেল স্টেশনে পৌঁছলে সন্ধ্যা আনুমানিক ৬ টা ২০মিনিটে শেখ হাসিনাকে বহনকারী বগিকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। সেই ঘটনায় পাবনার ঈশ্বরদীর জিআরপি থানায় বিষ্ফোরক আইনে মামলা হয়।

সিআইডির তদন্ত কর্মকর্তা ১৯৯৭ সালের ৩ এপ্রিল ৫২ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। এর মধ্যে পাঁচ আসামি মৃত্যুবরণ করায় তাদের ওই মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়ে বাকি ৪৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০১৯ সালের ৩ জুলাই গ্রেফতার জাকারিয়া পিন্টুসহ নয়জনকে মৃত্যুদণ্ড, ২৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ১৩ জনকে ১০ বছর মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। রায় ঘোষণার পর থেকে পলাতক ছিল পিন্টু।

এমবুইউ