Dr. Neem on Daraz
Dr. Neem Hakim
কক্সবাজারে ধর্ষণ

৫০ হাজার টাকা চাঁদা না পেয়ে জিম্মি-সংঘবদ্ধ ধর্ষণ


আগামী নিউজ | নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২৭, ২০২১, ০১:১২ পিএম
৫০ হাজার টাকা চাঁদা না পেয়ে জিম্মি-সংঘবদ্ধ ধর্ষণ

র‍্যাবের হাতে আটক প্রধান আসামি আশিক

ঢাকাঃ পর্যটন নগরী কক্সবাজারে স্বামী-সন্তানকে জিম্মি করে এক নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনার মূলহোতা ও প্রধান আসামি মো. আশিকুল ইসলামকে মাদারীপুর থেকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব।

র‍্যাব জানায়, আট মাস বয়সের ওই শিশু সন্তানের জন্মগতভাবে হার্টে ছিদ্র। চিকিৎসায় জন্য ১০ লাখ টাকা প্রয়োজন। সেই চিকিৎসার অর্থের আশায় স্বামীসহ কক্সবাজারে অবস্থান করছিলেন পরিবারটি। তারা বিত্তবান পর্যটকদের নিকট হতে অর্থ সাহায্য চাইতেন। সেখান থেকে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন আশিকুল ইসলাম আশিকের চক্র। না পেয়ে স্বামী-সন্তানকে জিম্মি করে ওই নারীকে ধর্ষণ করে বলে জানিয়েছে র‍্যাব। র‍্যাব জানায়, এ ঘটনার আগের দিনই ওই নারীর সঙ্গে পরিচয় হয় আশিকের।

সোমবার (২৭ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজার র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাবের লিগ্যাল আ্যন্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, গত ২২ ডিসেম্বর রাতে কক্সবাজারে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন এক নারী। এ ঘটনায় ওই নারীর স্বামী বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখ করে ও আরও দুই-তিনজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।

বিষয়টি স্থানীয় মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে জানাজানি হলে আশিক আত্মগোপণে চলে যায়। পরবর্তীতে ঘটনার দুদিন পর সে বেশভুষা পরিবর্তন করে কক্সবাজার থেকে একটি এসি বাসযোগে ঢাকায় আসে। এরপর ঢাকা থেকে পটুয়াখালী যাওয়ার পথে মাদারীপুরের মোস্তাফাপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে গ্রেফতার হয়।

খন্দকার আল মঈন বলেন, গ্রেপ্তারকৃত আশিক কক্সবাজারে পর্যটক এলাকায় একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের মূল হোতা। এই চক্রের সদস্য সংখ্যা ৩০-৩৫ জন। বিগত ২০১২ সাল হতে কক্সবাজার পর্যটক এলাকায় বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। সে প্রথম ২০১৪ সালে অস্ত্রসহও গ্রেপ্তার হন। সে ও তাঁর সিন্ডিকেট পর্যটন এলাকা কক্সবাজারে চুরি, ছিনতাই, অপহরণ, জিম্মি, চাঁদাবাজি, জবরদখল, ডাকাতি ও মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধ কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত। সে পর্যটন এলাকায় বিভিন্ন হোটেলে ম্যানেজারের সঙ্গে যোগসাজশে পর্যটকদের ফাঁদে ফেলে জিম্মি করত।

গত বুধবার সন্ধ্যায় সংঘবদ্ধ একটি চক্র কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের লাবণী পয়েন্ট থেকে ২৫ বছর বয়সী এক নারী পর্যটককে তুলে নেয়। তারা তাঁর স্বামী-সন্তানকে জিম্মি করে ও হত্যার হুমকি দিয়ে কয়েক দফা ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ করা হয়। 

পরে খবর পেয়ে গভীর রাতে কক্সবাজারের জিয়া গেস্ট ইন নামের এক হোটেল থেকে ওই নারীকে উদ্ধার করে র‍্যাব। এ ঘটনায় হোটেলের ম্যানেজার রিয়াজ উদ্দিন ছোটনকে আটক করেন র‍্যাব সদস্যরা। 

ঘটনার পরদিন বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ওই নারীর স্বামী চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও তিনজনের বিরুদ্ধে কক্সবাজার থানায় মামলা করেন। আসামিদের মধ্যে ম্যানেজার রিয়াজও রয়েছেন। আসামিরা কক্সবাজার শহরসহ জেলার বিভিন্ন স্থানের বাসিন্দা। এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন—আশিকুর রহমান ও তাঁর তিন সহযোগী ইস্রাফিল খোদা ওরফে জয় ও মেহেদি হাসান ওরফে বাবু এবং হোটেল ম্যানেজার রিয়াজ উদ্দিন ছোটন। আসামিদের মধ্যে জিয়া গেস্ট ইনের ম্যানেজার রিয়াজ উদ্দিন ছোটনকে বৃহস্পতিবার রাতেই গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। 

এ নিয়ে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। 

চাঁদা না পেয়ে অপহরণ সংঘবদ্ধ ধর্ষণ

র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার আশিক আরও জানায়, আশিক ও তার সহযোগীরা ভিকটিম ও তার পরিবারের কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। ভিকটিম ও তার পরিবার চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এরপর লাবনী বিচ এলাকার রাস্তা থেকে ভিকটিমকে সিএনজিতে করে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।

গ্রেফতার আশিকুল ইসলাম ভিকটিমকে ধর্ষণ ও জিয়া গেস্ট ইন হোটেলে আটক করে রেখে ভিকটিমের স্বামীর কাছে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। এরপর ভিকটিমকে হোটেলে আটকে রেখে গ্রেফতার আশিক হোটেল থেকে বের হয়ে যায়।

বিষয়টি ব্যাপকভাবে স্থানীয় পর্যায়েও বিভিন্ন মিডিয়াতে জানাজানি হলে আশিক আত্মগোপনে চলে যায়। পরে গ্রেফতার বেশভূষা পরিবর্তন করে ঘটনার দুদিন পর কক্সবাজার থেকে একটি এসি বাস যোগে ঢাকায় আসে। পরে ঢাকা থেকে পটুয়াখালী যাওয়ার পথে সে মাদারীপুরের মোস্তাফাপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে গ্রেফতার হয়।

হোটেল জবরদখলে বেশি ভাড়া আদায়, ট্যুরিস্টদের হয়রানি

গ্রেফতার আশিক পর্যটন এলাকা কক্সবাজারে আধিপত্য বিস্তারসহ বিভিন্ন রকম জবরদখল ও অবৈধ কর্মকান্ডে জড়িত রয়েছে। সে পর্যটন এলাকার সুগন্ধা এলাকায় ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট জোরপূর্বক কম টাকা দিয়ে ভাড়া নিয়ে ক্ষেত্রে বিশেষে দ্বিগুণ ও তিনগুণ ভাড়া আদায় করে মূল মালিকদের বঞ্চিত করে থাকে। গ্রেফতার আশিক বিভিন্ন ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি অবৈধ দখল করে ও চাঁদা দাবি করে। তার চক্রের সদস্যরা রাতে বিচে আসা ট্যুরিস্টদের হেনস্তা, মোবাইল ছিনতাই, ফাঁদে ফেলা ও নিয়মিত ইভটিজিং করত। পাশাপাশি হোটেল-মোটেল জোনে বিভিন্ন ট্যুরিস্টদের সুযোগ বুঝে ফাঁদে ফেলে ব্ল্যাকমেইল করে অর্থ আদায় করত।

২০১৮ থেকে ২০২১ আড়াই বছর জেলেই ছিল আশিক

তার নামে ইতোমধ্যে কক্সবাজার সদর থানায় অস্ত্র, মাদক, নারী নির্যাতন ও চাঁদাবাজিসহ ১২টি মামলা চলমান রয়েছে। আগে সে পাঁচবার পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়। ২০১৮ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত সে প্রায় আড়াই বছর কারাভোগ করেছে। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। ওই ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে।

আগামীনিউজ/বুরহান