Dr. Neem
Dr. Neem Hakim

ডেসটিনি-যুবকের আদলে এসপিসি ওয়ার্ল্ডের প্রতারণা


আগামী নিউজ | নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: অক্টোবর ৪, ২০২১, ০৯:৪৪ পিএম
ডেসটিনি-যুবকের আদলে এসপিসি ওয়ার্ল্ডের প্রতারণা

ছবিঃ আগামী নিউজ

ঢাকা: প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে গ্রেপ্তার ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ‘এসপিসি ওয়ার্ল্ড’-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. আল আমীন ডেসটিনি ২০০০ এর উচ্চ পর্যায়ের টিম লিডার ও প্রশিক্ষক ছিলেন। ডেসটিনি ও যুবকের আদলেই তিনি এসপিসি ওয়ার্ল্ডকে গড়ে তুলেছেন।এর আগে গত নভেম্বরে ২৬৮ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে তিনি গ্রেফতার হয়েছিলেন।

সোমবার (৪ অক্টোবর) পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) এডিশনাল ইন্সপেক্টর জেনারেলের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিশেষ পুলিশ সুপার (ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম) হুমায়ুন কবির এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, প্রতারণা, মানি লন্ডারিংসহ চারটি মামলায় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান এসপিসি ওয়ার্ল্ড এক্সপ্রেস লিমিটেডের সিইও মো. আল আমীন ও পরিচালক শারমীন আক্তারকে বেইলি রোড থেকে গ্রেফতার করে সিআইডির একটি টিম। সিআইডির কাছে এখন পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে চারটি মামলার তথ্য রয়েছে।

সিআইডির অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার দায়রুল আমিনের সার্বিক দিকনির্দেশনায় এলআইসির একটি চৌকশ টিম এ অভিযান পরিচালনা করেন। এসময় তাদের কাছ থেকে সাদা রঙের একটি এক্সিও প্রাইভেটকার জব্দ করা হয়। ২০১২ সালের মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের মামলায় তাদের গ্রেফতার করা হয়।

হুমায়ুন কবির বলেন, তারা বিভিন্নভাবে টাকা আয় করার প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন পেশার মানুষের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করে কোম্পানির হিসাব থেকে প্রায় এক কোটি ১৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা পাচার করার চেষ্টা করেছিল। জিজ্ঞাসাবাদে এসপিসি ওয়ার্ল্ড এক্সপ্রেসের সিইও জানান, বর্তমানে তার প্রতিষ্ঠানের গ্রাহক সংখ্যা প্রায় এক কোটি। এক মাসের মধ্যে তারা প্রায় ৫/৬ কোটি টাকার অর্ডার পায়। এ পর্যন্ত তারা এক কোটি গ্রাহক থেকে ২২ কোটি টাকা নিয়েছেন।

তিনি জানান, সম্প্রতি কয়েকটি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের প্রতারণাকাণ্ডে অত্যন্ত উৎকণ্ঠায় রয়েছে গ্রাহক-ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্টরা। ই-কমার্স সাইটগুলো ঈদ ধামাকা সাইক্লোন অফার, ডাবল অফারসহ বিভিন্ন চটকদার বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে সাধারণ গ্রাহকদের আকৃষ্ট করে। ৫০ শতাংশ মূল্যছাড়ে নতুন মোটরসাইকেল, মুঠোফোন, কম্পিউটার, ল্যাপটপ, ফ্রিজ, ওভেনসহ অন্যান্য ইলেকট্রনিকস পণ্য দিনের মধ্যে ডেলিভারি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় এবং শর্ত সাপেক্ষে ৮০ শতাংশ থেকে ১৫০ শতাংশ পর্যন্ত ক্যাশ-ব্যাক দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে শর্ত ভঙ্গ করার প্রেক্ষিতে দেশের বিভিন্ন থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, মানি লন্ডারিং ও প্রতারণা আইনে মামলা হয়।

সিআইডির এই কর্মকর্তা বলেন, প্রাথমিক অবস্থায় এসপিসি ওয়ার্ল্ড এক্সপ্রেস কিছু পণ্য ডেলিভারি করে সেই গ্রাহকদের দিয়ে তাদের ফেসবুক পেজে ইতিবাচক রিভিউ পোস্ট করিয়ে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে বিশ্বাস স্থাপন করে। পরে বেশি অর্ডারের মাধ্যমে অগ্রিম অর্থ নেওয়ার পর তারা পণ্য ডেলিভারি না দিয়ে গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণা শুরু করে।

অনেক দিন পেরিয়ে গেলে গ্রাহকরা যখন বুঝতে পারেন, তারা প্রতারণার শিকার হয়েছেন, তখন বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে প্রতিকার দাবি করে বক্তব্য দিতে থাকেন। যারা খুব বেশি চাপ প্রয়োগ করেন, তাদের টাকা ফেরতের মিথ্যা আশ্বাস হিসেবে চেক দেওয়া হয় এসপিসির পক্ষ থেকে। কিন্তু অপর্যাপ্ত ব্যালেন্স থাকায় চেক ডিজঅনার হওয়ায় গ্রাহকদের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে লাপাত্তা হয়ে যায় তারা।

উল্লেখ্য,অবৈধ মাল্টি লেভেল মার্কেটিং কোম্পানি (এমএলএম) পদ্ধতির ব্যবসার নাম করে দেশে একযুগ ধরে প্রতারনা করেছে ডেসটিনি-২০০০ লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির কর্তাব্যক্তিরা সুকৌশলে জনগণের কাছ থেকে ৪ হাজার ১১৯ কোটি টাকা আত্মসাত করেন। এর মধ্যে ৯৬ কোটি টাকা পাচারও করেন তারা।

২০১২ সালে গ্রাহকের অর্থ আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠলে ডেসটিনি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রফিকুল আমীনসহ ৫৩ জনের বিরুদ্ধে দুটি আলাদা মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। একটিও নিষ্পত্তি হয়নি তবে চুরান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ২০১২ সাল থেকে রফিকুল আমীনসহ ডেসটিনির শীর্ষ ব্যক্তিরা কারাগারে রয়েছেন এবং কিছু কর্তারা পলাতক রয়েছেন। 

জানা গেছে,আল আমিনের মতো ডেসটিনির উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা নামে বেনামে বিভিন্ন ধরনের অবৈধ মাল্টিলেভেল কোম্পানী (এমএলএম) খুলে প্রতারণা করে আসতেছেন। 

ডেসটিনির দুর্নীতি ও মানি লন্ডারিংয়ের মামলার কয়েকজন পলাতক আসামী প্রশাসনের চোখের সামনেই আইনের চোখ ফাঁকি দিয়ে অবৈধ এমএলএম কোম্পানি পরিচালনা করছে। 

যেখানে ডেসটিনি ২০০০ লিঃ এর অর্থ-আত্মসাৎ মামলায় প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার সাজা প্রাপ্ত হয়ে জেল খাটছেন সেই অবস্থাতেও তারা  প্রশাসনকে বৃদ্ধা আঙ্গুল দিখিয়ে দিব্বি ঘুরে বেডাচ্ছেন এবং অবৈধ ব্যবসা (এমএলএম) ও ভয়াবহ প্রতারনার মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাচার করছেন। 

আগামীনিউজ/শরিফ