Dr. Neem
Dr. Neem Hakim

প্রেমের ফাঁদে ফেলে ধর্ষণ করতো ‍‍`সিরিয়াল রেপিস্ট‍‍` সাগর


আগামী নিউজ | ডেস্ক রিপোর্ট প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২১, ১০:৩৯ পিএম
প্রেমের ফাঁদে ফেলে ধর্ষণ করতো ‍‍`সিরিয়াল রেপিস্ট‍‍` সাগর

ছবিঃ সংগৃহীত

ঢাকাঃ কক্সবাজারের রিসোর্টে চাঞ্চল্যকর নারী হত্যার প্রধান আসামি সাগর মিজিকে (২৪) রাজধানীর সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ড টোলপ্লাজা এলাকায় গ্রেফতার করা হয়েছে। তার কাছ থেকে তিনটি মোবাইল ফোন ও ১৫ হাজার টাকা জব্দ করা হয়। র‌্যাব জানিয়েছে, অভিযুক্ত সাগর নারী ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রীদের টার্গেট করে প্রেমের ফাঁদে ফেলতেন। পরে কৌশলে তাদেরকে বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে ধর্ষণ করতেন। প্রেম করে ধর্ষণ করাই ছিল তার নেশা।

শনিবার বিকেলে রাজধানীর কাওরানবাজারে অবস্থিত র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান র‍্যাব-১০-এর অধিনায়ক (সিও) অতিরিক্ত ডিআইজি মো: মাহফুজুর রহমান।

মাহফুজুর রহমান বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাগর কক্সবাজারে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি বিভিন্ন এলাকায় একাধিক নারীকে মিথ্যা প্রেমের ফাঁদে ফেলে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধ্য করেছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে ঘুরতে নিয়ে কৌশলে ধর্ষণ করে আসছিলেন সাগর।

র‌্যাবের কাছে সাগর স্বীকার করে জানিয়েছেন, পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরে নিহত নারীকে স্ত্রী পরিচয়ে কক্সবাজার ‘আমারি রিসোর্টে’ নিয়ে যান তিনি। রিসোর্টের ৪০৮ নম্বর রুমে নিয়ে ভিকটিমকে ধর্ষণ করেন সাগর। একপর্যায়ে তার সাথে ভিকটিমের ধস্তাধস্তি শুরু হয়। ধস্তাধস্তির সময় তিনি ভিকটিমের গলা চেপে ধরে দেয়ালে সাথে ধাক্কা দিলে ওই নারী মেঝেতে পড়ে যান। তখন আবার ভিকটিমের গলা চেপে ধরেন সাগর। এ সময় পাশে থাকা গ্লাস দিয়ে দুই-তিনবার মাথায় আঘাত করে হত্যা করেন। পরে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান তিনি।

এর আগে ২১ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকার হোটেল-মোটেল জোনের ‘আমারি রিসোর্ট’ থেকে ওই নারীর লাশটি উদ্ধার করা হয় বলে জানান টুরিস্ট পুলিশের কক্সবাজার জোনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মহিউদ্দিন আহমেদ।

হোটেলের নথিতে নিবন্ধন মতে, নিহত ফারজানা আক্তার (২৩) কুমিল্লা জেলার সদর উপজেলার বাগদিয়া ইউনিয়নের কল্যাণদী এলাকার মোহাম্মদ সাগরের স্ত্রী। তার স্বামী সাগর ওই এলাকার মো: জয়নাল মিজির ছেলে।

হোটেল কর্তৃপক্ষের বরাতে মহিউদ্দিন বলেন, রোববার স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে মোহাম্মদ সাগর ও ফারজানা কক্সবাজারের ওই রিসোর্টে ওঠেন। মঙ্গলবার তারা হোটেল ছাড়ার কথা ছিল। দুপুরের পরও তারা হোটেল কক্ষ থেকে বের হয়নি। পরে হোটেলের লোকজন ডাকাডাকি করলেও ভেতর থেকে তাদের কোনো ধরনের সাড়া শব্দ পায়নি। তিনি আরো জানান, এ সময় হোটেল কক্ষ তালাবন্ধ পাওয়া যায়। এতে সন্দেহ সৃষ্টি হলে দরজা ভেঙে দেখা যায়, ফারজানা আক্তার খাটে শোয়া অবস্থায় পড়ে আছেন। এ সময় স্বামী পরিচয়ে হোটেলে ওঠা সাগর কক্ষের ভেতরে ছিলেন না। পরে হোটেল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করে। খবর শুনে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে হোটেল কক্ষের ভেতরে খাটে শোয়া অবস্থায় ওই তরুণীর লাশ উদ্ধার করে।