Dr. Neem
Dr. Neem Hakim

রাসেল-শামীমার ১০ দিনের রিমান্ড চায় পুলিশ


আগামী নিউজ | ডেস্ক রিপোর্ট প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২১, ০৩:১৯ পিএম
রাসেল-শামীমার ১০ দিনের রিমান্ড চায় পুলিশ

ছবিঃ সংগৃহিত

ঢাকাঃ অর্থ আত্মসাত ও প্রতারণার মামলায় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোহাম্মদ রাসেল এবং চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনকে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে রাসেল ও তার স্ত্রীকে হাজির করে তাদের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। বিকাল ৩টার দিকে ঢাকা মহানগর হাকিম আতিকুল ইসলামের আদালতে তাদের রিমান্ড শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

গুলশান বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান জানান, ইভ্যালির মোহাম্মদ রাসেল এবং তার স্ত্রী শামীমা নাসরিনকে আজই আদালতে পাঠানো হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড চাওয়া হবে। 

এর আগে বুধবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাতে আরিফ বাকের নামে একজন ভুক্তভোগী গুলশান থানায় আত্মসাৎ ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ করে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে বৃহস্পতিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৫টা ২০ মিনিটে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাসেলকে মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। ৪০৩ কোটি টাকা দেনা থাকা ইভ্যালির দুই কর্ণধারকে নেওয়া হয় র‌্যাব সদরদপ্তরে। সেখানেই চলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ।পরে শুক্রবার তাদেরকে প্রতারণার মামলায় গুলশান থানায় হস্তান্তর করে।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, আরিফ বাকের গত ২৯ মে ও জুন মাসের বিভিন্ন সময়ে ইভ্যালিতে মোটরসাইকেলসহ বেশ কয়েকটি পণ্য অর্ডার করেন। এগুলো ৭ থেকে ৪৫ কার্যদিবসের মধ্যে দেওয়ার কথা থাকলেও তারা (ইভ্যালি) দেয়নি। ইভ্যালির কাস্টমার কেয়ারে ফোন দিয়ে সমাধান পাওয়া যায়নি। অফিসে গিয়ে তাদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বললে খারাপ ব্যবহার করেছে। প্রতিষ্ঠানটির সিইও রাসেলের সঙ্গেও দেখা করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন বাকের। তার সঙ্গে ইভ্যালি চরম দুর্ব্যবহার করেছে।

আরিফ অভিযোগ করেন, পণ্যগুলো ৭-৪৫ কার্যদিবসের মধ্যে সরবরাহে ব্যর্থ হলে উক্ত প্রতিষ্ঠান সমুদয় টাকা ফেরত দিতে অঙ্গীকারবদ্ধ ছিল। কিন্তু ওই সময়ের মধ্যে তারা পণ্য সরবরাহ করেনি। আমি বহুবার ইভ্যালির কাস্টমার কেয়ারে ফোন করি। প্রতিবার তারা আমার পণ্যগুলো ‘শিগগিরই দিচ্ছে’ বলে আশ্বস্ত করে যাচ্ছিল। এক পর্যায়ে ইভ্যালি পণ্য অথবা টাকা প্রদানে ব্যর্থ হওয়ার পর আমি তাদের অফিসে যাই। তখন প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী কর্মকর্তা (সিও) মো. রাসেলের সঙ্গে দেখা করতে চাইলে বাধাপ্রাপ্ত হয়েছি। 

এজাহারে আরিফ জানান, গত ১০ সেপ্টেম্বর তিনিসহ তার বন্ধুরা ইভ্যালি অফিসে গিয়ে পণ্যের অর্ডার সম্পর্কে কথা বলতে চাইলে তারা উত্তেজিত হয়ে চিৎকার-চেঁচামেচি করেন। এক পর্যায়ে অফিসের অভ্যন্তরে থাকা ইভ্যালির সিইও রাসেল উত্তেজিত হয়ে তার রুম থেকে বেরিয়ে আরিফকে ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে এবং পণ্য অথবা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এক পর্যায়ে প্রাণনাশের হুমকিও দেন বলে অভিযোগ করেছেন আরিফ। 

পণ্য না পাওয়ায় আর্থিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন জানিয়ে আরিফ বলেন, ইভ্যালি পণ্য বিক্রয়ের নামে নানা প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে আমার মতো বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তের অসংখ্য গ্রাহকের নিকট থেকে আনুমানিক ৭০০ থেকে ৮০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে।