Agaminews
Dr. Neem Hakim

১০০ গ্রাহকের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জালিয়াতি 


আগামী নিউজ | নিজস্ব প্রতিবেদক   প্রকাশিত: মার্চ ২২, ২০২০, ১২:৪১ পিএম
১০০ গ্রাহকের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জালিয়াতি 

ঢাকা: অনলাইন ব্যাংক জালিয়াত করে শতাধিক গ্রাহকের অর্ধকোটি টাকার হাতিয়ে নেওয়া চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ডিএমপির সিটিটিসি।

গত শুক্রবার ও শনিবার এডিসি মো. নাজমুল ইসলাম এর তত্ত্বাবধানে এসি ধ্রুব জ্যোতির্ময় গোপ এর নেতৃত্বে সাইবার নিরাপত্তা ও অপরাধ বিভাগের সোস্যাল মিডিয়া টিম তাদেরকে গ্রেফতার করে।  

সিটিটিসি সূত্র জানায়, সাইবার ব্যাংক প্রতারক চক্রের প্রধান মামুন তালুকদারকে কক্সবাজারের একটি হোটেল থেকে শুক্রবার (২০ মার্চ) ভোর ৫ টায় গ্রেফতার করে। চলমান অভিযানে সেদিনই দুই সহযোগীর অন্যতম একজন রাজু ফারাজীকে ঢাকার যাত্রাবাড়ি থেকে সন্ধ্যা ৭টায় এ এবং পরদিন মো. মিঠু মৃধাকে ফরিদপুরের ভাঙা থেকে শনিবার (২১ মার্চ) ভোর সোয়া ৫ টায় গ্রেফতার করে। 

এ সময়ে তাদের কাছ থেকে ব্যাংকিং প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত একটি এক্সিও গাড়ি, ৭ টি বিশেষ  অ্যাপযুক্ত মোবাইল ফোন, বহু ভুয়া রেজিস্ট্রেশন কৃত মোবাইল সিমকার্ড, একাধিক ব্যাংক, বিকাশ, নগদ ও স্ক্রিল একাউন্ট জব্দ করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা তাদের অপরাধের কথা স্বীকার করে।

এডিসি মো. নাজমুল ইসলাম সুমন জানান, বেশ কিছু মাস যাবত এই প্রতারক চক্র অভিনব ও সুনিপুণ কায়দায় বিভিন্ন ডায়লার অ্যাপ দিয়ে কয়েকটি ব্যাংকের হেড অফিসের কার্ড ডিভিশনের মোবাইল নম্বর স্পুফ করে শাখা-ম্যানেজারদের কল দিয়ে আগের মাসের নতুন কার্ড ব্যবহারকারীদের নাম, কার্ড নম্বর এবং মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করত। তারপর প্রতারকরা ব্যাংকের কাস্টমার কেয়ার এজেন্ট সেজে গ্রাহকদের কল করে বলত যে তারা ব্যাংক থেকে তার নতুন কার্ডটি একটিভ করা বা অন্য কিছু ফিক্স করার জন্য কল করেছে। এরপর চক্রটি কৌশলে স্পুফড মোবাইল কলের মাধ্যমেই গ্রাহকদের কার্ডের মেয়াদ, ৩/৪ ডিজিটের সিভিভি কোড এবং প্রয়োজন সাপেক্ষে মোবাইলের ওটিপি সংগ্রহ করে গ্রাহকদের কার্ড থেকে টাকা/ডলার প্রতারকদের লন্ডন ভিত্তিক ই কমার্স এপ স্ক্রিল একাউন্ট, বিকাশ বা নগদ এ ট্রান্সফার করে ও পরবর্তীতে এটিএম বুথ বা বিকাশ বা নগদ এজেন্ট থেকে ক্যাশ আউট করত। 

তিনি জানান, এভাবে দেশের একাধিক শীর্ষ স্থানীয় ব্যাংকের শতাধিক গ্রাহকদের অর্ধ কোটি টাকা চুরি গেলে কয়েকটি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ডিএমপির সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইম বিভাগের উপ কমিশনার আ ফ ম আল কিবরিয়া এর কাছে অভিযোগ জানালে তিনি সাথে সাথেই বাংলাদেশ ব্যাংককে ঘটনাটি অবহিত করেন এবং তার প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ ও নির্দেশনায় উক্ত টিম ঢাকা, ফরিদপুরের ভাঙ্গা এবং কক্সবাজারের প্রায় লক্ষাধিক মোবাইল নাম্বার ও ডায়লার অ্যাপের আইপি বিশ্লেষণসহ উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে উক্ত প্রতারক চক্রকে সনাক্ত করে।

এই ঘটনায় ডিএমপির ধানমন্ডি থানায় নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। রোববার (২২ মার্চ)  উক্ত তিনজন অভিযুক্তদের ৪ দিনের পুলিশ রিমান্ডের আবেদন করে আদালতে পাঠানো  হয়েছে বলে জানান এডিসি নাজমুল।  

আগামীনিউজ/সুমন/মিজান    
 

Dr. Neem