Dr. Neem
Dr. Neem Hakim
দূর্ঘটনা প্রবণ জোন

দিনাজপুর-ঢাকা মহাসড়কের পাশে অবৈধ স্থাপনা,দুর্ঘটনার ঝুঁকি


আগামী নিউজ | জিকরুল হক, উত্তরাঞ্চল প্রতিনিধি প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২১, ০৩:০৪ পিএম
দিনাজপুর-ঢাকা মহাসড়কের পাশে অবৈধ স্থাপনা,দুর্ঘটনার ঝুঁকি

ছবিঃ আগামী নিউজ

রংপুরঃ দিনাজপুর-ঢাকা মহাসড়কের দূর্ঘটনা প্রবণ এলাকায় গড়ে উঠছে অবৈধ স্থাপনা। এটি দূর্ঘটনা প্রবণ জোন বলে স্বীকৃত রয়েছে। মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশনাও কাজে আসছে না।

এটি ঘটেছে নীলফামারীর সৈয়দপুরের ওয়াপদা মোড়ের চার মাথায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স সংলগ্ন এলাকায়। হাইকোর্টের নির্দেশনা মতে, মহাসড়ক, আঞ্চলিক মহাসড়কের উভয় পাশে রাস্তা থেকে কমপক্ষে ১০ মিটার দূরত্বে (৩২ ফুট) স্থাপনা নির্মাণ করতে হবে। কিন্তু সড়ক ও জনপথ বিভাগের মনিটরিং না থাকায় হাইকোর্টের এমন নির্দেশনা তোয়াক্কাই করছে না ভূমিচক্র প্রভাবশালীরা।

উত্তরাঞ্চলে প্রতিনিয়ত কোথাও না কোথাও সড়ক ও জনপথের জায়গা অবৈধ দখলে যাচ্ছে। সৈয়দপুরের ওয়াপদা মোড়টি চার সড়কের সংযোগ স্থল হওয়ায় প্রায় সময় সেখানে সড়ক দূর্ঘটনা ঘটে। গত পাঁচ বছরে অসাবধানতাবসতঃ সেখানে কমপক্ষে ৬৫ জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। অগণিত মানুষ হয়েছে পঙ্গুত্বের শিকার। সে কারণে ওয়াপদা মোড়টিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ড্যানজারস্ জোন হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। কিন্তু আইন ও হাইকোর্টের নির্দেশনা উপেক্ষা করে মো. জাহাঙ্গীর নামক এক ব্যক্তি দিনাজপুর-ঢাকা মহাসড়কের জায়গা জবর দখল করে প্রকাশ্যে আরসিসি পিলার দিয়ে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করছে।

রংপুর বিভাগীয় বিআরটিএ’র একটি সূত্রমতে, ওই মহাসড়ক দিয়ে সারা দেশের প্রায় ২৫ হাজার মোটরযান ঢাকা-পঞ্চগড়, পঞ্চগড়-ঢাকা ও ঢাকা-চিলাহাটী যাতায়াত করে। সৈয়দপুর শহর থেকে নীলফামারী ডোমার, ডিমলা ওই মোড় হয়ে যাতায়াত করে মাঝারি, ছোট বড় মিলে প্রতিদিন সহস্রাধিক মোটরযান। সে কারণে ওয়াপদা মোড়টি থাকে সবসময় ব্যস্ত।

এছাড়াও ওই পথ দিয়ে সকাল ১০টা ও বিকাল ৪টায় ১১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় পাঁচ হাজার শিক্ষার্থী যাতায়াত করে। এমন ব্যস্ততম জায়গায় মহাসড়কের ভূমি দখলে নিয়ে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। ওই স্থাপনা নির্মাণ হলে সেখানে প্রতিদিন কমপক্ষে চার/পাঁচটি দূর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা আছে বলে একাধিক এলাকাবাসী জানিয়েছেন।

কথা হয় রমজান, বিসাদু, রথিনচন্দ্র, বিমল, হায়দার, সুরজ, অনিকসহ একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে। তারা অভিযোগ করে বলেন, দূর্ঘটনা প্রবণ এলাকায় ওই অবকাঠামো নির্মাণ করা হলে চারটি সড়ক দিয়ে সাধারণ মানুষ চলাচল করা খুব ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠবে। যে কোন সময় ঘটতে পারে প্রাণহানীর ঘটনা। বিশেষ করে উত্তরা ইপিজেডে যাতায়াতকারী কাভার্ড ভ্যান ও সৈয়দপুর ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্রে চলাচলকারী মোটরযানগুলো টার্নিং নিতে গেলেই দূর্ঘটনায় পড়বে।

এ জন্য এলাকার বিশিষ্টজনরা নির্মাণাধীন অবৈধ স্থাপনাটি সরিয়ে নেয়ার জন্য সড়ক ও জনপদ বিভাগের উর্ধতন কর্তৃপক্ষের আশুহস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। জানতে চাইলে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণকারী মো. জাহাঙ্গীর মুঠোফোনে আগামী নিউজকে বলেন, এটি হাইকোর্টের নির্দেশনা মেনেই করছি। মহাসড়ক থেকে ১০ মিটার দূরে আছে।

দিনাজপুর-ঢাকা মহাসড়কের জায়গা অবৈধ ভাবে দখলে নিয়ে স্থাপনা নির্মাণ প্রসঙ্গে মুঠোফোনে কথা হয় নীলফামারী সড়ক ও জনপথ দপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ মঞ্জুরুল করিমের সঙ্গে। তিনি আগামী নিউজকে বলেন, ওই অবৈধ স্থাপনা নির্মাণকারীকে আমরা নোটিশ দিয়েছি স্থাপনা সরানোর জন্য।