Agaminews
Dr. Neem
Dr. Neem Hakim

অসময়ে পদ্মফুল দেখতে দর্শনার্থীদের ভিড়(ভিডিও)


আগামী নিউজ | ডেস্ক রিপোর্ট প্রকাশিত: মে ৪, ২০২১, ০১:৪২ পিএম

ফরিদপুরঃ এক সময়ে আমাদের দেশে বর্ষা ও শরৎ কালে বিলে-ঝিলে শোভাবর্ধণ করে ফুটে থাকতো সৌন্দর্য, বিশুদ্ধ ও পবিত্রতার প্রতীক পদ্ম ফুল। সময়ের বিবর্তনে প্রকৃতির বৈরি আবহাওয়ায় এখন সৌন্দর্য হারাচ্ছে এই ফুল। এখন বর্ষা মৌসুমেও তেমন একটা চোখে পড়েনা এই পদ্ম ফুলের।

কিন্তু বৈশাখের প্রখর রোদে যখন হাহাকার করছে প্রকৃতি। এক ফোটা পানির জন্য ফেটে চৌচির মাঠ-ঘাট। ঠিক এই সময়ে অকালে বিস্তৃর্ণ জলাভূমিতে ফুটে আছে অজস্র পদ্ম ফুল।
 
এখানে জলজ ফুলের রানী পদ্ম প্রাকৃতিকভাবেই বেড়ে উঠে মেলে ধরেছে আপন সৌন্দর্য। এতদিন অনেকটাই লোকচক্ষুর অন্তরালে ছিল বাওরটি।  চারদিকে শুধু পদ্ম আর পদ্ম। বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে এ পদ্ম দেখলে মন-প্রাণ জুড়িয়ে যায়। বাওর জুড়ে পদ্মফুলের এমন অপরূপ সৌন্দর্য প্রকৃতি প্রেমীদের মনকে যেন নাড়া দেয়।
 
বাওরে ডিঙ্গি নৌকায় ঘুরতে ঘুরতে হঠাৎ মনে পড়তে পারে কবি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের কেউ কথা রাখেনি কবিতাটি মামা বাড়ির মাঝি নাদের আলি বলেছিল, বড় হও দাদাঠাকুর তোমাকে আমি তিন প্রহরের বিল দেখাতে নিয়ে যাব। সেখানে পদ্মফুলের মাথায় সাপ আর ভ্রমর খেলা করে। পড়ন্ত বিকেলে ফুলের সঙ্গে অস্তগামী সূর্য আপনার মনের কাব্যিকতা বাড়িয়ে দেবে কয়েকগুণ। আশে পাশের মানুষজন প্রবল উৎসাহে ডিঙ্গি নৌকা দিয়ে ঘোরাবে।
 
আর এ জন্য আপনাকে আসতে হবে ফরিদপুরের পুরান মধুখালীর বৈকুণ্ঠপুর বাওড়ে। এক নং খাস খতিয়ানের ৪২ একর জমির উপর অবস্থিত এই বাওড়টি এখন সৌন্দর্য্যের প্রতীক। প্রকৃতির এই অপরুপ সৌন্দর্য যেন আগত সকল দর্শনার্থীকেই মুগ্ধ করছে।
 
পদ্ম ফুল দেখতে আসা দর্শনার্থী নমিতা সাহা বলেন, আমাদের পূজার সময় এই ফুলের প্রয়োজন হয়। এই পদ্ম ফুল পবিত্রতার প্রতীক। এই সময়ে সাধারণত এই ফুল দেখা যায়না। তাই আমরা সপরিবারে এই বাওড়ে এসেছি পদ্ম ফুল দেখতে।
 
মধুখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: মোস্তফা মনোয়ার বলেন, দীর্ঘদিন এই বাওড়টি অবৈধ দখলে ছিল। বর্তমান এটি প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এই বাওড়টি নিয়ে উচ্চ আদালতে একটি মামলা রয়েছে। সেটি নিষ্পত্তি হলেই আমরা এই বাওড়টিকে একটি পর্যটন কেন্দ্র হিসাবে গড়ে তুলবো এমন একটি পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে।
 
আগামীনিউজ/এএস