Dr. Neem on Daraz
Dr. Neem Hakim

আজীবন ‘খেলা হবে’ স্লোগান দিয়ে যাব: কাদের


আগামী নিউজ | নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ডিসেম্বর ৫, ২০২২, ০৬:২৮ পিএম
আজীবন ‘খেলা হবে’ স্লোগান দিয়ে যাব: কাদের

নোয়াখালীঃ যতদিন বেঁচে থাকবেন ততদিন ‘খেলা হবে’ স্লোগান দিয়ে যাবেন বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

‘খেলা হবে’ জনগণের পছন্দের স্লোগান উল্লেখ্য করে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আজীবন এই স্লোগান দিয়ে যাব, এই স্লোগান জনগণ খুবই পছন্দ করে। তাই আমি বলব, খেলা হবে, হবে খেলা।’

সোমবার (৫ ডিসেম্বর) দুপুরে নোয়াখালী শহীদ ভুলু স্টেডিয়ামে জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

প্রায় পাঁচ বছর আগে নারায়ণগঞ্জের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান এক জনসভায় বিরোধীদলকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন ‘খেলা হবে, ২৪ তারিখের পর খেলা হবে’।

তার এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। এরপর শব্দ দুটি প্রয়োগ করতে শোনা যায় মির্জা ফখরুলসহ বিরোধীদলের অনেক নেতাকেও। এছাড়া দেশের গণ্ডি পেরিয়ে পশ্চিমবঙ্গের অনেক রাজনীতিবিদদের এই স্লোগান দিতে দেখা যায়।

সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকটি অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে ‘খেলা হবে’ শব্দ দুটি ব্যবহার করতে শোনা যায়।

কিছুদিন আগে সচিবালয়ে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেছিলেন, ‘এটা একটা পলিটিক্যাল হিউমার (রাজনৈতিক হাস্যরস), যা পাবলিক একসেপ্ট করেছে। যে বাচ্চা ফুল বিক্রি করে, সেও আমার গাড়ি দেখেই বলে খেলা হবে। এটা মানুষ একসেপ্ট করে ফেলেছে।’

সোমবার নোয়াখালীতে আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনেও সেতুমন্ত্রীকে ‘খেলা হবে’ শব্দ দুটি ব্যবহার করতে দেখা যায়। যতদিন বেঁচে থাকবেন ততদিন এই স্লোগান দিয়ে যাবেন বলে প্রত্যয়ের কথাও জানান তিনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘খেলা হবে জনগণের পছন্দের স্লোগান। আমি আজীবন এই স্লোগান দিয়ে যাব। এই স্লোগান জনগণ খুবই পছন্দ করে। তাই আমি বলব খেলা হবে, হবে খেলা। এ ডিসেম্বরে খেলা হবে, আগামী নির্বাচনে খেলা হবে, অর্থপাচারের বিরুদ্ধে খেলা হবে, টাকা চুরির বিরুদ্ধে খেলা হবে, ভোট চুরির বিরুদ্ধে খেলা হবে, হাওয়া ভবনের বিরুদ্ধে খেলা হবে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে খেলা হবে। কিন্তু এ স্লোগান ফখরুলসহ আরও কয়েকজনের পছন্দ না। জনগণের পছন্দের এ স্লোগান আমি দিয়ে যাব, আমি বলে যাব খেলা হবে।’

সম্মেলনে সাম্প্রদায়িকতা ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করার প্রত্যয়ে বাংলাদেশের উন্নয়ন অর্জনের মহাসড়ক ধরে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এগিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকারের কথা জানান তিনি।

বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে ও জেলখানা হত্যাকাণ্ডের জিয়াউর রহমানের সম্পৃক্ততা ছিল জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, পলাশীর মীর-জাফরের প্রেতাত্মা ভর করেছিল খন্দকার মোশতাকের ওপর, আর মীর-জাফরের সেনাপতির ন্যায় জেনারেল জিয়া ১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড ছিলেন। একইভাবে জেলখানায় জাতীয় ৪ নেতাকে হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ডও ছিলেন জিয়া। ইতিহাসের বর্বর হত্যাকাণ্ডের সময় বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা এবং শেখ রেহানা যদি বিদেশে না থাকতেন তারাও হায়েনাদের হাতে নিহত হতেন।

স্থানীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে সেতুমন্ত্রী বলেন, দল এবং নোয়াখালীর স্বার্থে আমি একরামুল করিম চৌধুরী এমপি ও আমার ভাই আবদুল কাদের মির্জাকে ক্ষমা করে দিয়েছি। কোন্দলমুক্ত নোয়াখালী আমি দেখতে চাই। আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনাও কোন্দল আর কোলাহল দেখতে চান না, পছন্দও করেন না।

সম্মেলনের বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ বলেন, বাস-ট্রেনে পেট্টোল ঢেলে আগুন দিয়ে মানুষ হত্যা করবেন, আর মামলা হলে গ্রেফতার করলে এখন মির্জা ফখরুল ইসলামরা বলেন-বিএনপির নেতাকর্মীদের মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। খালেদা জিয়ার নামে নাইকো দুর্নীতি মামলাসহ আরও দুর্নীতির মামলা রয়েছে, এসব মামলার রায় হলে হয়তো বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া ও তাদের নেতাদের বাকি জীবন কারাগারেই থাকতে হবে। বিএনপিকে আহ্বান করে বলব দেশে আইন আছে, সরকার ও সংবিধান আছে। যেখানে (সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) সরকার সমাবেশ করার অনুমতি দিয়েছে, সেখানে সমাবেশ করুন। অন্যভাবে সমাবেশ করার চেষ্টা করলে, নৈরাজ্য সৃষ্টি করলে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের লক্ষ লক্ষ কর্মী আছে, তারাই আপনাদের নৈরাজ্য অপকর্ম রুখে দেবে।

সমাবেশে নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও নোয়াখালী-৪ আসনের এমপি একরামুল করিম চৌধুরী বলেন, দীর্ঘ ১৯ বছর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছি। দল পরিচালনা করতে গিয়ে পরিবারকেও সময় দেওয়া যায় না। কত কুতুব যে এখন আওয়ামী লীগে আছে, ওদের ঠাণ্ডা করে দল চালানো খুবই কষ্টকর। আমি দায়িত্ব পেয়ে এখানে ৫০ জন লোকও পায়নি।

সম্মেলনের শেষে ওবায়দুল কাদের নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে অধ্যক্ষ খায়রুল আনম চৌধুরী সেলিমকে পুনরায় সভাপতি ঘোষণা করেন।

তবে সাধারণ সম্পাদক পদে একাধিক প্রার্থী থাকায় আগামী ১৭ ডিসেম্বরের মধ্যে তা ঘোষণা করা হবে বলে জানান তিনি।

নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক অধ্যক্ষ খায়রুল আনম চৌধুরী সেলিমের সভাপতিত্বে এবং যুগ্ম আহ্বায়ক নোয়াখালী পৌরসভার মেয়র মো. সহিদ উল্যাহ খাঁন সোহেলের সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন- আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং জাতীয় সংসদের হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আলহাজ্ব মো. আবদুস সবুর, নোয়াখালী এমপি মোরশেদ আলম, এইচ এম ইব্রাহিম, মামুনুর রশীদ কিরণ, আয়েশা ফেরদাউস, সংরক্ষিত সাংসদ ফরিদা খানম সাকি প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের ২০ নভেম্বর নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন হয়েছিল। যেখানে সভাপতি হিসেবে পুনরায় নির্বাচিত হয়েছিলেন অধ্যক্ষ খায়রুল আনম চৌধুরী সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পান নোয়াখালী-৪ (সদর-সুবর্ণচর) আসনের সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরী।

কমিটি ঘোষণার পর থেকে দীর্ঘসময় নানা ঘাত প্রতিঘাত, সহিংসতার পর সেই কমিটি পূর্ণাঙ্গ না করে দুই বছরের মাথায় ২০২১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর খায়রুল আনম চৌধুরী সেলিমকে আহ্বায়ক, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট শিহাব উদ্দিন শাহীন ও পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শহিদ উল্যাহ খাঁন সোহেলকে যুগ্ম-আহ্বায়ক করে ৮৭ সদস্যের কমিটির অনুমোদন দেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

এসএস