Dr. Neem on Daraz
Dr. Neem Hakim

দেশ এখন আইসিইউতে আছে : নুর


আগামী নিউজ | আগামী নিউজ প্রতিবেদক প্রকাশিত: মে ১৩, ২০২২, ০৪:২০ পিএম
দেশ এখন আইসিইউতে আছে : নুর

ঢাকাঃ সরকার গত ১৩ বছরে দেশকে মুমূর্ষু অবস্থায় নিয়ে গেছে, দেশ এখন আইসিইউতে আছে বলে মন্তব্য করেছেন গণঅধিকার পরিষদের সদস্য সচিব ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর।

তিনি বলেন, এ পরিস্থিতি থেকে মুক্তির উপায় একটিই, সেটি হলো অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন।

শুক্রবার (১৩ মে) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ যুব অধিকার পরিষদের উদ্যোগে ভোজ্যতেল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এই মন্তব্য করেন।

নুরুল হক নুর বলেন, খেয়াল করে দেখবেন, সব জিনিসের দাম বাড়ছে। সংসদের ৬২ শতাংশ এমপি ব্যবসায়ী। তারা ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত। প্রতি সপ্তাহে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি লেগেই আছে। সময় থাকতে আপনারা ভালো হয়ে যান। এই ব্যবসায়ী অবৈধ সংসদ সদস্যদের পতন না হওয়া পর্যন্ত বাজারে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ঠিক হবে না, জনগণের মুক্তি মিলবে না। আর সরকার যদি নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম না কমায় তাহলে আমাদের পরবর্তী কর্মসূচি হবে সচিবালয় ঘেরাও।

ডাকসুর সাবেক ভিপি বলেন, আজ যদি বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন, আপনারা দেখবেন মাসে মাসে নয়, সপ্তাহে সপ্তাহে দাম বাড়ছে। হঠাৎ করেই বাজার থেকে সয়াবিন তেল উধাও, এর পরেই দাম বাড়তে থাকলো।

তিনি বলেন, সারাদেশে অভিযান চালিয়ে একদিনে তিন লাখ লিটার অবৈধ মজুত রাখা সয়াবিন তেল আটক করেছে। কিন্তু আফসোসের বিষয় হলো, একজন ব্যবসায়ীকে ৭৩ হাজার লিটার সয়াবিন তেল ও এক লাখ ৬০ হাজার লিটার পাম ওয়েল মজুত করার জন্য মাত্র এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

‘সে যদি লিটার প্রতি দুই টাকাও লাভ করে, তাতেও তো দেড় লাখ টাকার মতো হয়ে যায়। এতো কম জরিমানা তো হাস্যকর। এসব নামে মাত্র অভিযানের কারণেই অসৎ ব্যবসায়ীরা তাদের সিন্ডিকেট থেকে সরে আসছেন না। শুধুমাত্র তাই নয়, যখন তাদের জরিমানা করা হয়, তখন সরকারি দলের নেতারাই তাদের রক্ষা করতে ছুটে আসেন। কারণ তারা সেখান থেকে কমিশন পায়।’

ব্যবসায়ীদের কাছে সরকার জিম্মি মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের রপ্তানি কমছে। তার বিপরীতে আমদানি ব্যয় বাড়ছে। আগামীতে আমদানি পণ্যের দাম আরও বাড়বে। কারণ সরকার ব্যবসায়ীদের কাছে জিম্মি। আবার অবৈধ ভোটেই এই সরকার সংসদ সাজিয়েছে। যেখানে বেশিরভাগই ব্যবসায়ী। অতএব অবৈধ সংসদের পতন না হওয়া পর্যন্ত এই অবস্থার পরিবর্তন হবে না।

গণ অধিকার পরিষদের সদস্য সচিব আরও বলেন, আমাদের লক্ষ্য ক্ষমতায় যাওয়া নয়, এ সরকারকে হঠানো নয়, আমাদের লক্ষ্য রাষ্ট্রের কার্যকর সংস্কার। দেশকে একটি প্রকৃত রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলা। আমরা চাই একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন, দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা।

সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ড. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বাংলাদেশ যুব অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নাদিম হাসান, সাংগঠনিক সম্পাদক মুনতাজুল ইসলাম, যুগ্ম আহ্বায়ক মুহাম্মদ রাশেদ খান, ফারুক হাসন, মাহফুজুর রহমান, সোহরাব হাসান, আবু হানিফ, যুগ্ম সদস্য সচিব আতাউল্লাহ, সাইফুল্লাহ হায়দার, মশিউর রহমান, বাংলাদেশ যুব অধিকার পরিষদের সভাপতি মুনজুর মোর্শেদ মামুন, শ্রমিক অধিকার পরিষদের সভাপতি আব্দুর রহমান, ছাত্র অধিকার পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক মোল্লা প্রমুখ।

এমএম