Agaminews
Dr. Neem Hakim
Dr. Neem Hakim
আল্লামা শফী-শাসনের অবসান

হেফাজতের আমির শফী পুত্র বহিষ্কার


আগামী নিউজ | ডেস্ক রিপোর্ট প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২০, ১০:৩৩ পিএম
হেফাজতের আমির শফী পুত্র বহিষ্কার

ছবি সংগৃহিত

ঢাকাঃ চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদরাসায় আল্লামা শাহ আহমদ শফীর দীর্ঘ ৩০ বছরের কর্তৃত্বের অবসান হয় তার মৃত্যুর আগেই। তার পুত্র মাদরাসার সহকারী শিক্ষা পরিচালক আনাস মাদানীকেও মাদরাসা থেকে বহিষ্কার করা হলো। মূলত পুত্রের কীর্তিকান্ডের জেরেই বয়সের ভারে ন্যুব্জ (১০৩) অবস্থায় তাকে মহাপরিচালকের পদ ছাড়তে হয়।

মাদ্রাসার শুরা কমিটি গত বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাতে বৈঠক শেষে জানায়, পরবর্তী মুহতামিম নির্ধারণের দায়িত্ব শুরা কমিটি নির্ধারণ করবে। এর আগে দুদিন ধরে পাঁচ দফা দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশসহ নানা কর্মসূচি পালন করেন মাদ্রাসাটির শিক্ষার্থীরা।

এদিকে সামাজিক দূরত্বের নিয়ম ভাঙার কারণে মাদ্র্রাসা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এ আদেশ দেওয়া হয়।

টানা অর্ধশত বছর মাদরাসা মুহতামিম বা মহাপরিচালক ও শিক্ষকতার সাথে জড়িত ছিলেন আল্লামা শফী । দেশের প্রধান এবং প্রাচীনতম এই মাদরাসায় এতোদিন ধরে তার কথাই ছিল শেষ কথা। এ মাদরাসার শিক্ষকদের বেশিরভাগই ছিলেন তার ছাত্র। যে কারণে তার সঙ্গে কেউই কোন বিষয়ে দ্বিমত পোষন করতেন না। কিন্তু গত কয়েক বছরে ছেলে আনাস মাদানীর প্রভাব বাড়তে থাকে আর তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে তাকে নিয়ে আল্লামা শফীর সমালোচনা। যার চূড়ান্ত প্রকাশ ঘটে গত কয়েকদিনে। অবশেষে পদ ছাড়তে বাধ্য হন তিনি। তার আগে ব্যাপক ছাত্র বিক্ষোভের মুখে তার পুত্র আনাস মাদানীকে বস্কিকার করতে হয়। বুধবার রাতে আনাস মাদানীকে যখন বহিষ্কার করা হয় তখন পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে আসে। কিন্তু পরদিন সকাল থেকে গুজব ছড়িয়ে পড়ে। বলা হয় আনাস মাদানীকে বহিষ্কার করা হয়নি। তাকে পুনর্বহাল করা হচ্ছে, মাদরাসা বন্ধ ঘোষণা করা হবে। এ গুজবের সঙ্গে সঙ্গে আবার বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। রাতে সরকারের পক্ষ থেকে মাদরাসা বন্ধ ঘোষণা করা হয়। যদিও আন্দোলনকারীরা এ সিদ্ধান্ত প্রত্যখান করে। রাতে শূরার বৈঠকে পদত্যাগ করেন আল্লামা শফি। মাদরাসার দায়িত্ব দেয়া হয় শুরা কমিটির কাছে। তাকে আজীবনের জন্য উপদেষ্টা বা সদর মুহতামিম নিযয়োগ দেয়া হয়। রাতেই আল্লামা শফীকে মাদরাসা থেকে অ্যাম্বুলেন্সে নেওয়া হয় চমেক হাসপাতালে। আজ শুক্রবার বিকেলে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় আহমদ শফীকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়েছিল। তাঁকে পুরান ঢাকার গেণ্ডারিয়ার ধূপখোলা মাঠের পাশে অবস্থিত আজগর আলী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। ভর্তির কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। তিনি হাটহাজারী মাদরাসায় বসবাস করে আসছিলেন।

হাটহাজারীর ‘বড় মাদরাসা’ নামে পরিচিত আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলূম মঈনুল ইসলাম মাদরাসা দেওবন্দের পাঠ্যসূচিতে পরিচালিত বাংলাদেশের অন্যতম বড় এবং পুরনো কওমি মাদরাসা। সাত হাজারের বেশি শিক্ষার্থী সেখানে অধ্যয়ন করে। আহমদ শফী কয়েক দশক ধরে মাদরাসাটির মুহতামিম বা মহাপরিচালকের পদে ছিলেন। মাদরাসার নায়েবে মুহতামিম বা সহকারী পরিচালকের পদে ছিলেন হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় মহাসচিব জুনাইদ বাবুনগরী। শফীর উত্তরসূরি নির্বাচন নিয়ে কয়েক মাস আগে হেফাজতের মহাসচিব ও মাদরাসার সহকারী মহাপরিচালক জোনাইদ বাবুনগরীর সঙ্গে আনাস মাদানীর সমর্থকদের বিরোধ বাঁধে। তাতে বাবুনগরীকে সরিয়ে দিয়ে তারা টিকে গেলেও তার জের ধরে বুধবার আহমদ শফীর ছেলে আনাস মাদানিকে অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ করে একদল শিক্ষার্থী। তারা আনাস মাদানির বহিষ্কার দাবিতে বিভিন্ন কক্ষে ভাংচুরও চালায়।

এবং এর মধ্য দিয়েই অবসান হল আল্লামা শফী-শাসন ।

আগামীনিউজ/মিথুন