Dr. Neem on Daraz
Dr. Neem Hakim

গন্ধবাদালি


আগামী নিউজ | ড. নিম হাকিম প্রকাশিত: জানুয়ারি ৯, ২০২২, ০১:১৪ পিএম
গন্ধবাদালি

ছবিঃ সংগৃহীত

পরিচিতিঃ (Botanical Name: Paederia Foetida Linn., Common Name: Gondhabadali, English Name: Chinese Moon-creeper/ Kings Tonic, Family Name: Rubiaceae)

গন্ধবাদালি লতানো উদ্ভিদ। এ গাছ চেনার বিশেষ উপায় হলো এর পতা-পাতায় উৎকট গন্ধ থাকে। এজন্য এর অপর একটি নাম পুতিগন্ধ। সাধারণত অন্য গাছ অথবা বাগানের বেড়ায় দেখা যায়। পাতা লতার সাথে বিপরীতমুখী হয়ে গজায়, আকারে ছোট পান পাতার মত। বর্ষাকালে এর লতা ও পাতা বেশী বাড়ে। চরক ও সুশ্রুত সংহিতায় গন্ধবাদালি বা গন্ধাল এর নাম প্রসারনী। এটি সংকুচিত পথকে প্রসারিত ও তার অবরোধ নিবারণ করে। যার ফলে বায়ুর স্বচ্ছন্দচারী স্বভাবে বাঁধা এলে তাকে সরল করে। এজন্য এর নাম প্রসারণী।

প্রাপ্তিস্থানঃ বাংলাদেশের চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ী বনাঞ্চলে প্রচুর জন্মে। বিক্ষিতপ ভাবে দেশের অন্যত্রও জন্মে।

চাষাবাদঃ সেপ্টেম্বর- অক্টোবর মাসে ফুল হয়ে এবং নভেম্বর- ডিসেম্বর মাসে ফল পাকে।  বীজ বা লতার কাটিং এর সাহায্যে এর বংশ বিস্তার সম্ভব হলেও শিকড়সহ লতার অংশবিশেষ তুলে লাগালেও চারা হয়। বিশেষ যত্নের প্রয়োজন হয় না।

লাগানোর দূরত্বঃ ৫ থেকে ৭ ফুট।

উপযোগী মাটিঃ বেলে দোআঁশ মাটিতে গন্ধবাদালি ভালো হয়।

বীজ আহরণঃ নভেম্বর- ডিসেম্বর। কাটিং থেকেও বংশ বৃদ্ধি হয়। কাটিংয়ের উত্তম সময় এপ্রিল-মে।

প্রতি কেজিতে বীজের পরিমাণঃ ৮০,০০০-১,০০,০০০।

প্রক্রিয়াজাতকরণ/সংরক্ষণঃ সাধারণত কাঁচা অবস্থায় গন্ধবাদালির মূল, পাতা ও লতা ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

ব্যবহার্য অংশঃ মূল, পাতা ও লতা ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

উপকারিতা/লোকজ ব্যবহারঃ গন্ধবাদালির প্রধান ব্যবহার আমাশয় বা পেটের অসুখে। দাঁতের ব্যথায় এর ফল খুব উপকারি। পাতার জলীয় নির্যাস পাথর গলিয়ে দেয় ও মুত্রবর্ধক হিসাবে কাজ করে। পেটের গ্যাস কমায়, মূল বমনকারক।

কোন অংশ কিভাবে ব্যবহৃত হয়ঃ

  • গন্ধবাদালি পাতার রস মধুসহ খেলে সর্দি কাশিতে উপকার পাওয়া যায়।
  • গন্ধবাদালি পাতার রস এক সপ্তাহে নিয়মিতভাবে প্রতিদিন সকালে খেলে আমাশয়ে উপকার পাওয়া যায়।
  • অজীর্ণ হলে গন্ধবাদালি পাতার ঝোল ভাতের সংগে খেলে হজম শক্তি বৃদ্ধি পায় এবং  অজীর্ন দূর হয়।
  • গন্ধবাদালি অত্যন্ত রুচিকারক।
  • বাতরক্তে গন্ধবাদালি কাঁচা মূল, ডাটা ও পাতা তেলসহ সিদ্ধ করে তার ক্বাথ বাতব্যাধি জায়গায় লাগালে বিশেষ সুফল পাওয়া যায়।
  • গন্ধবাদালি পাতার রস সকালে সামান্য লবণসহ খেলে কোষ্ঠকাঠিন্যে উপকার পাওয়া যায়।
  • পাতা ভেজে ভাতের সঙ্গে খেলা পাতলা পায়খানাসহ পেটের পীড়ায় উপকার পাওয়া যায়।

পরিপক্ক হওয়ার সময়কালঃ সাধারণত ১ বছরে গন্ধবাদালি ব্যবহার উপযোগী হয়।

অন্যান্য ব্যবহারঃ পাতার রস মৌমাছিসহ অন্যান্য কীটপতঙ্গ বিতাড়ন করে।

আয়ঃ প্রতি একর জমিতে বার্ষিক আয় আনুমানিক ৩০,০০০ টাকা থেকে ৪০,০০০ টাকা।

আগামীনিউজ/নাসির