Dr. Neem
Dr. Neem Hakim

কামিনী


আগামী নিউজ | ডঃ নিম হাকিম প্রকাশিত: আগস্ট ২২, ২০২১, ০২:১৭ পিএম
কামিনী

পরিচিতিঃ (Botanical Name: Murraya paniculata (L.) Jacq, Common Name: Kamini, English Name: Huney bush, Family: Rutaceae)

কামিনী ছোট আকৃতির ঝোপভাবাপন্ন চিরসবুজ বৃক্ষ। ৮/১০ ফুট পর্যন্ত উঁচু হয়। গাছটি ছেঁটে রাখলে অতি সুন্দর দেখা যায়। পাতা ছোট, লম্বা ও প্রায় ডিম্বাকৃতির, গাঢ় সবুজ। ফুল চমৎকার সুগন্ধযুক্ত, বহির্বাস ৫টি, পরস্পর বিভক্ত, অগ্রভাগ সরু, পাপড়ী মাথার দিকে বিস্তৃত। ফল গোলাকার ও রক্তিম। কামিনীর আদি নিবাস মালয়েশিয়া ও চীন। সাদা বর্ণের ফুল গ্রীষ্ম ও বর্ষায় ফুটতে দেখা যায়।

প্রাপ্তিস্তানঃ বাংলাদেশের প্রায় সর্বত্র পাওয়া  যায়।

চাষাবাদঃ বীজ, শাখা ও দাবা কলম থেকে চারা পাওয়া যেতে পারে। কামিনী দ্রুত বাড়ে।

উপযোগী মাটিঃ সব ধরনের মাটিতে কামিনী জন্মে।

লাগানোর দূরত্বঃ ৫ থেকে ৭ ফুট।

বীজ সংগ্রহের সময়ঃ বর্ষার শেষে বীজ সংগ্রহ করতে হয়।

প্রতি কেজিতে বীজের পরিমাণঃ প্রায় ১০০০ টি।

প্রক্রিয়াজাতকরণ/সংরক্ষণঃ বীজ সংগ্রহ করে ভাল করে রোদে শুকিয়ে বেশ কিছুদিন সংরক্ষণ করে রাখা যায়। পাতা, মূল ও ছাল মৃদু রোদে শুকিয়ে এক বছর পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়।

ব্যবহার্য অংশঃ পাতা, মূল, ছাল।

উপকারিতা/লোকজ ব্যবহারঃ কামিনীর পাতার রস আমাশয়ে, কাটা-ছেড়ায়, সর্দিতে ও ব্যথায় বিশেষ উপকারি। পাতা উত্তেজক এবং ফুলা বা শরীরে পানি জমে যাওয়া রোগে উপকারি।

কোন অংশ কিভাবে ব্যবহৃত হয়ঃ

  • আমাশয় রোগে- কামিনী গাছের মূলের ছাল ৪/৫ গ্রাম অথবা ডাল ৭ গ্রাম ২ কাপ পানিতে সিদ্ধ করে আধ কাপ থাকতে নামিয়ে ছেঁকে সেই পানি ৩/৪ বার খেতে হবে। দুই-একদিনের মধ্যেই আমাশয় কমে যাবে।
  • কাটা-ছেঁড়ায়- কামিনী পাতার গুড়ো টিপে দিয়ে বেধে রাখতে হয়। এতে ব্যথা হয় না আবার রক্ত পড়াও বন্ধ হয়।
  • সর্দিতে- কামিনী পাতার মিহি গুঁড়োর নস্যি নিলে হাচি হয়ে সর্দি বেরিয়ে যাবে।
  • পরিশ্রমজনিত ব্যথায়- কামিনী গাছের পাতা বাঁটা দিয়ে মিনারেল তেল জ্বাল করে সেই তেল ব্যথার জায়গায় মালিশ করলে ব্যথা সেরে যাবে।

পরিপক্ক হওয়ার সময়কালঃ সাধারণতঃ ২ থেকে ৩ বছরে কামিনী গাছে ফুল আসে।

অন্যান্য ব্যবহারঃ ফুলের তোড়া সাজাতে কামিনীর ঢাল ব্যবহার করা হয়। ইকেবনা পদ্ধতির ফুল সাজানোতেও কামিনীর ডালের ব্যাপক ব্যবহার দেখা যায়।

আয়ঃ প্রতি একর জমিতে বছরে ৪০,০০০ থেকে ৬০,০০০ টাকা আয় করা যায়।