Agaminews
Dr. Neem Hakim
Dr. Neem Hakim
শান্তি মিশনে ফুটেছে 

নাগলিঙ্গম


আগামী নিউজ | নিজস্ব প্রতিবেদন প্রকাশিত: অক্টোবর ১৬, ২০২০, ০৮:০৮ পিএম
নাগলিঙ্গম

ছবি; সংগৃহীত

সুন্দর, সুগন্ধি ও ঔষধি উদ্ভিদ নাগলিঙ্গম। নাগলিঙ্গম কে বলা হয় ফুলের রানী। নাগলিঙ্গমের বৈজ্ঞানিক নাম Couroupita Guianensis. ফল কামানের গোলার মত হওয়ায় এই গাছ ইংরেজদের কাছে Cannonball Tree নামে পরিচিত। Cannonball অর্থ কামানের গোলা। নাগলিঙ্গমের ফুলফোটে গাছের গুড়ি থেকে। গুড়ি ফুঁড়ে বের হয় ছড়া। আর এই ছড়া থেকেই ফুটে অনিন্দ সুন্দর নাগলিঙ্গম ফুল। পাঁপড়ি, রেনু, ফুলের গঠন নাগলিঙ্গম কে দিয়েছে অভূতপূর্ব স্বকীয়তা। 

ভারতে এই ফুলের নাম শিব লিঙ্গম, বাংলাদেশে নাগলিঙ্গম। সাপের ফনার মত ফুলের ৬ টি পাঁপড়ি মাঝখানে শিবলিঙ্গ আকৃতির একটি গর্ভকে ঘিরে রাখা। অজানা এক মাদকতায় নাগলিঙ্গমের সৌরভ বহুদূর থেকে টানে।  

বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের কাছে নাগলিঙ্গম অতি পূজনীয় । হিন্দু ধর্মালম্বীদের শিব পূজায় নাগলিঙ্গম ফুল অত্যাবশ্যক। ফুলের পাঁপড়ির মধ্যে নাগ বা সাপের মত ফনা থাকার কারণেই হয়ত এই ফুলের নাম নাগলিঙ্গম হয়েছে। 

দেশে হাতে গোনা কয়েকটি গাছ আছে যার মধ্যে রাজবাড়ী জেলার বহরপুর শান্তি মিশনে রয়েছে একটি। এই গাছে আদি নিবাস আমাজন ও মধ্য এবং দক্ষিণ আমেরিকার বনাঞ্চল। নাগলিঙ্গমকে আকর্ষণীয় করেছে এর লাল, গোলাপী ও হলুদের মিশ্রণ। 

নাগলিঙ্গম একটি ঔষধি বৃক্ষ। এই গাছের মূল বা শিকর, বাকল, পাতা, ফুল ও ফল থেকে ঔষধ তৈরী হয়। এন্টিবায়োটিক, এন্টিফাঙ্গাল ও এন্টিসেপটিক হিসেবে এর নির্যাস ব্যবহার হয়। 

ম্যালেরিয়া, অশ্ব ও বাতব্যথায় নাগলিঙ্গমের পাতার রস ব্যবহার হয়। নাগলিঙ্গমের গাছ থেকে তৈরী হয় পেটের পীড়ার ঔষধ। পাতার রস ত্বকের জন্য খুবই উপকারী।  বেলের মত ফল হয় যা হাতীর অতিপ্রিয় খাদ্য। অনেকে একে হাতীর জোলাপ ও বলে থাকে। বছরে তিনবার এই গাছের সকল পাতা ঝড়ে যায় ফলে পাতা থেকে প্রচুর পরিমান জৈব সার বা কম্পোস্ট  তৈরী করা সম্ভব। 

শান্তি মিশনে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা টিপু সুলতান বলেন, এখানে শুধু নাগলিঙ্গম নয় এমন বিরল প্রজাতির অনেক ঔষধি উদ্ভিদ রয়েছে যা পৃথিবীর আর কোথাও আছে কি না তার সন্দেহ। 

উল্লেখ্য, শান্তি মিশনে রয়েছে দেশের ঔষধি উদ্ভিদের একমাত্র জিন ব্যাংক ও সৃজনকৃত ‘বায়োব্যাংক’।  

আগামীনিউজ/এএইচ