Dr. Neem on Daraz
Dr. Neem Hakim

দখল-দূষণে অস্তিত্ব সংকটে দিনাজপুরের গিরিজা ক্যানেল


আগামী নিউজ | নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৪, ২০২২, ০৯:৩৪ পিএম
দখল-দূষণে অস্তিত্ব সংকটে দিনাজপুরের গিরিজা ক্যানেল

ছবিঃ আগামী নিউজ

দিনাজপুরঃ সংস্কারের অভাব, দখলদারিত্ব ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবহেলায় বিপন্ন দিনাজপুরের ঐহিত্যবাহী গিরিজা ক্যানেল। ক্যানেলটি দখল করে কেউ তুলেছেন বাড়ি, কেউ সীমানাপ্রাচীর। দখলের তালিকায় রয়েছে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানও। ফলে কয়েক বছর ধরে বর্ষা মৌসুমে টানা বৃষ্টি ও বন্যায় ডুবে যায় অপেক্ষাকৃত উঁচু দিনাজপুর শহর। বিশেষ করে ২০১৭ সালের বন্যায় প্রায় এক সপ্তাহ পানির নিচে ডুবেছিল দিনাজপুর শহর।

১৮৫১ সালে দিনাজপুর শহরের পয়োনিষ্কাশন ও জলাবদ্ধতা দূর করতে মহারাজা গিরিজানাথ এ ক্যানেল খনন করেন। পরবর্তী সময়ে মহারাজার নাম অনুসারে এটি গিরিজা ক্যানেল নামে পরিচিতি পায়। দিনাজপুর শহরের কালীতলা থেকে শুরু হয়ে পাটুয়াপাড়া, পাহাড়পুর, বালুয়াডাঙ্গা হয়ে কসবা এলাকার পুনর্ভবা নদীতে মিশেছে গিরিজা ক্যানেল।

ভরাট হওয়া ক্যানেলটি ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড যৌথ উদ্যোগে অবৈধ দখলদার মুক্ত ও খননের উদ্যোগ গ্রহণ করে। সে বছর খনন চলাকালীন শুরু হয় বর্ষা মৌসুম। মাত্র দুই বছরের মাথায় পুনরায় ক্যানেল দখল করে অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠতে শুরু করেছে।

সরেজমিন পাটুয়াপাড়া ও পাহাড়পুর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ক্যানেলের ওপর দিয়ে পিলার ও বাঁশ বসিয়ে অবৈধ সংযোগ তৈরি করেছেন অর্ধশতাধিক বাড়ির মালিক। প্রাক-পাহাড়পুর এলাকায় ক্যানেলের ওপর নির্মাণ করা হয়েছে মসজিদ। এ এলাকায় কিছুু অংশে দখলের কারণে ক্যানেলটি সরু নালায় পরিণত হয়েছে।

দিনাজপুর শহরের বালুয়াডাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা এস প্রমথেস বলেন, বন্যায় খালের ময়লা পানি শহরের রাস্তার ওপর উঠে যায়। ময়লা পানির মধ্য দিয়েই হাঁটাচলা করতে হয় আমাদের। খালটি খনন হলে শহরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাবে। সেই সঙ্গে জলাবদ্ধতাও হবে না।

দিনাজপুর পৌরসভা বলছে, শহরের ভেতর দিয়ে বয়ে গেছে ঘাগরা খাল ও গিরিজা ক্যানেল। এর মধ্যে প্রায় ২০০ বছরের পুরনো এ গিরিজা ক্যানেল। ঘাগরা খালও সমসাময়িক। সংস্কার, সংরক্ষণ ও দখলমুক্ত করতে পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং জেলা প্রশাসন যৌথভাবে ২০১৯ সালের শেষের দিকে ২ কোটি ৩৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ঘাগরা খালের ২৯ কিলোমিটারের মধ্যে ১৫ কিলোমিটার খনন কাজ করে। কিন্তু স্বাধীনতার পর থেকে গিরিজা ক্যানেল কখনো খনন করা (ড্রেজিং) হয়েছে বলে জানাতে পারেনি কেউ।

গিরিজা ক্যানেল দখলের বিষয়ে পরিবেশবিদ অধ্যাপক এমএ জব্বার বলেন, ব্রিটিশ ম্যাপ অনুযায়ী এ খাল ৩০-৪০ ফুট চওড়া হওয়ার কথা। দখলের কারণে ভরাট হয়ে কোনো কোনো জায়াগায় ১০ ফুট চওড়া হয়ে গেছে। খাল ভরাট করে গড়ে উঠেছে বহুতল ভবন, ঘরবাড়ি, ক্লাব-সমিতির অফিস ও ধর্মীয় উপাসনালয়। ফলে কোথাও কোথাও বন্ধ হয়ে গেছে পানির প্রবাহ। এ কারণে শুধু বর্ষা নয়, শুষ্ক মৌসুমেও সামান্য বৃষ্টি হলে ময়লা পানিতে সয়লাব হচ্ছে দিনাজপুর শহরের বিভিন্ন এলাকা।

শহরের পাটুয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা সাংবাদিক ও লেখক আজহারুল আজাদ জুয়েল জানান, একসময় স্বচ্ছ পানির প্রবাহ ছিল এ গিরিজা ক্যানেল। পাওয়া যেত মাছ। এখন ফেলা হচ্ছে নোংরা-আবর্জনা। দুর্গন্ধে এলাকায় টেকা দায়। কিন্তু পরিষ্কার ও সংস্কারের উদ্যোগ নেই সংশ্লিষ্ট কোনো কর্তৃপক্ষের।

দিনাজপুর পৌরসভার মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম দখল প্রসঙ্গে বলেন, অনেক প্রভাশালীর দখলে রয়েছে ক্যানেল দুটি। তা মুক্ত করার চেষ্টা হয়েছে বহুবার। কিন্তু সম্ভব হয়নি উপর মহলের চাপে। পৌরসভার একার পক্ষে এ খালগুলো অবৈধ দখখমুক্ত করা সম্ভব নয়। এজন্য আর্থিক সংগতি ও প্রশাসনের সহযোগিতার প্রয়োজন হবে। পৌরসভার পক্ষ থেকে আমি গিরিজা ক্যানেল সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে বেশ কয়েকবার প্রকল্প জমা দিয়েছি। প্রকল্পগুলো আলোর মুখ দেখেনি। দিনাজপুর শহর উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

দিনাজপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. সিদ্দিকুর জামান (নয়ন) জানান, বড় বড় শহরে এসব ক্যানেলের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নসহ দেখভাল করে থাকে পৌরসভা। এখানেও দিনাজপুর পৌরসভার দায়িত্ব পালনের কথা। পানি উন্নয়ন বোর্ড নদীনালা খননের কাজ করে থাকে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কাজের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের বরাদ্দ নেই।

আগামীনিউজ/এসএস