Dr. Neem on Daraz
Dr. Neem Hakim

জাবির উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগে অপ্রয়োজনীয় শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরুর অভিযোগ


আগামী নিউজ | বায়েজীদ হাসান, জাবি প্রকাশিত: অক্টোবর ২, ২০২২, ০২:১০ পিএম
জাবির উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগে অপ্রয়োজনীয় শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরুর অভিযোগ

ঢাকাঃ পর্যাপ্ত সংখ্যক শিক্ষক থাকার পরেও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগে নতুন করে 'অপ্রয়োজনীয়' শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরুর অভিযোগ উঠেছে।

বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন বিভাগটির একাধিক শিক্ষক। উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক নুহু আলম প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে এ নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে চাচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন তারা। সর্বশেষ গত বুধবার (২৮ সেপ্টেম্বর) উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের ১১ জন শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নুরুল আলমের নিকট উপস্থিত হয়ে তাদের আপত্তির বিষয়টি উপস্থাপন করেন।

বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৩০ নভেম্বর উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগে দুই জন অস্থায়ী প্রভাষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। তবে সেখানে  কোন ব্রাঞ্চ উল্লেখ না থাকায় গত ২ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত বিভাগীয় একাডেমিক কমিটির বিশেষ সভায় ব্রাঞ্চ উল্লেখপূর্বক পুনঃ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের জন্য প্রশাসনের নিকট সুপারিশ পাঠানোর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় এবং বিভাগের পরবর্তী সাধারণ সভায় আলোচনার মাধ্যমে কোন ব্রাঞ্চে শিক্ষক নেয়া হবে সেটা চূড়ান্ত করা হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়। পরবর্তীতে বিভাগের সভাপতি বিষয়টি চূড়ান্ত করতে বিভাগে আর কোন আলোচনা করেননি। বর্তমানে পুনঃ বিজ্ঞপ্তি প্রদান না করেই নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। আজ রবিবার শিক্ষক নিয়োগ বোর্ডটি অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা যায়।

শিক্ষকরা জানান, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক নুহু আলম তার নিজের শাখায় অথবা নিজের ঘনিষ্ঠজনদের নতুন শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিতে এমনটা করছেন। বিভাগের প্রতিটি শাখায় সর্বোচ্চ ২ জন শিক্ষক কর্মরত থাকলেও অধ্যাপক নুহু আলমের ডিসিপ্লিন এ বর্তমানে ৪ জন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। তাই তার শাখায় নতুন করে শিক্ষক নিয়োগ একেবারেরই অপ্রয়োজনীয় ও অযৌক্তিক। তাই বিভাগের শিক্ষকরা সরাসরি এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে আসছেন এবং সর্বশেষ গত বুধবার তারা উপাচার্যের নিকট বিষয়টি উপস্থাপন করে যৌক্তিক সমাধান প্রদানের অনুরোধ করেছেন।

এ বিষয়ে উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. ছালেহ আহাম্মদ খান বলেন, প্রায় ১০ মাস আগে আমরা জানতে পারি বিভাগে নতুন শিক্ষক নিয়োগের জন্য সভাপতি ফাইল পাঠিয়েছেন। কিন্তু আমাদের বিভাগের রেওয়াজ অনুযায়ী নতুন শিক্ষক নিয়োগের পূর্বে বিভাগের সকলে বসে আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এটা না করে সভাপতি সুকৌশলে ও গোপনে ফাইল পাঠিয়ে দেন। তাই বিভাগের শিক্ষকরা মিটিংয়ে এটার বিরোধীতা করেন। তখন সিদ্ধান্ত হয়েছিল এ বিষয়ে আলাপ আলোচনা করে নতুন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। কিন্তু সভাপতি সেটা করেননি। হঠাৎ করে আমরা শুনলাম নিয়োগ বোর্ডের তারিখ চূড়ান্ত করা হয়েছে। বিভাগের ২২ জন শিক্ষকের মধ্যে প্রায় ১৪ জন এ সিদ্ধান্তের বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। আমরা আশংকা করছি বিভাগের সভাপতি নিজের শাখায় কিংবা ঘনিষ্ঠ কাউকে নিয়োগ দিতে এমন কাজ করছেন।

তিনি আরো বলেন, আমাদের বিভাগে বিভিন্ন শাখা অনুযায়ী শিক্ষক প্রয়োজন হয়। বিভাগের কোন ডিসিপ্লিন এ কোর্স লোড কত এবং শিক্ষকের স্বল্পতা রয়েছে তা নির্ধারণ করার জন্য গঠিত একটি সাব কমিটির চূড়ান্ত রিপোর্ট বিভাগে জমা হয়নি। তাই এভাবে অপ্রয়োজনীয় ও কোর্স সংশ্লিষ্ট নয় এমন শিক্ষক নিয়োগ হলে বিভাগে কোর্স বন্টনে সমস্যা হবে। সেক্ষেত্রে বিভাগে পদের সঠিক ব্যবহার হবেনা এবং রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় হবে। আমরা বিষয়টি উপাচার্য মহোদয়কেও অবহিত করেছি।

উদ্ভিদবিজ্ঞান সভাপতি ও জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. নুহু আলম বলেন, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষক নিয়োগের জন্য অনেক আগেই সার্কুলার হয়েছিল। সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক  ফারজানা ইসলামের সময় এটা হয়। তখন যেসব বিভাগের সার্কুলার হয়েছিল প্রায় সব বিভাগেই নিয়োগ সমাপ্ত হয়েছে শুধুু উদ্ভিদবিজ্ঞান ছাড়া। সে নিয়োগই সার্কুলারই এখন সমাপ্ত করা হচ্ছে।

বিভাগে আলোচনার বিষয়ে তিনি বলেন, শিক্ষক নিয়োগের জন্য বিভাগে আলেচনা করতে হবে এমন কোন নিয়ম নেই। এটা তখনই করতে হয় যখন কোন শাখা মেনশন করতে হয়। আমাদের বিভাগে শাখা ভিত্তিক নিয়োগ হচ্ছেনা তাই এটা আলোচনাও করার বিষয় না।

বিভাগের একাডেমিক সভায় পুনঃ বিজ্ঞাপনের সিদ্ধান্তের বিষয়ে অধ্যাপক নুহু আলম বলেন, একাডেমিক সভায় এরকম সিদ্ধান্ত গৃহীত হলেও পরবর্তী কয়েকটা সভায় এ বিষয়ে কেউ আর আলোচনা করেনি।

তিনি আরো বলেন, এই নিয়োগে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন নিয়ম বা আইনের ব্যত্তয় ঘটেনি। নিয়ম বহির্ভূত হলে সার্কুলারই হতোনা। আমাকে হেয় করতে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে এমন অভিযোগ করা হচ্ছে। আমি সবসময় সৎ ভাবে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেছি।

নিয়োগের ব্যাপারে জাবির নির্বাচিত উপাচার্য অধ্যাপক ড. নূরুল আলমকে একাধিকবার মুঠোফোনে কল করলেও তিনি রিসিভ করেন নি।

এমবুইউ