Dr. Neem on Daraz
Dr. Neem Hakim

শ্রাবণ জুড়ে মুগ্ধতা ছড়িয়েছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস


আগামী নিউজ | মাসুম মাহমুদ, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রকাশিত: আগস্ট ১৭, ২০২২, ০৩:১৭ পিএম
শ্রাবণ জুড়ে মুগ্ধতা ছড়িয়েছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস

বরিশালঃ ইদানীং যখন তখন আকাশের মন খারাপ হচ্ছে, হঠাৎ করেই মেঘে মেঘে সংঘাত বজ্রপাতের শব্দ, কখনো ঝিরিঝিরি বৃষ্টি আবারো রোদ্র উজ্জ্বল দিবস। শ্রাবণের এমন বিচিত্র রুপের কারণেই হয়তো রবি ঠাকুর লিখেছেন-

‘আজি শ্রাবণ ঘন-গহন-মোহে, গোপন তব চরণ ফেলে, নিশার মতো নীরব ওহে, সবার দিঠি এড়ায়ে এলে,প্রভাত আজি মুদেছে আঁখি.....নিবিড় মেঘ কে দিল মেলে।’

তীব্র তাপদাহের পরে বৃষ্টি যেন উৎসব নিয়ে আসে, আর এ উৎসব যদি হয় নদী ঘেসে জেগে ওঠা দক্ষিণ বঙ্গের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় তাহলে তো আর কথাই নেই। বৃষ্টি মুখর প্রতিটি দিন নতুন ভাবে সজিব করে তোলে পুরো ক্যাম্পাস, বৃষ্টির জলে ধুয়েমুছে স্নিগ্ধ রুপে ধরা দেয় প্রতিটি দালান ও বৃক্ষ। এমন মুখর পরিবেশ-ই পুরো শ্রাবণ জুড়ে বিরাজ করছিল বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে।

কীর্তনখোলা নদীর বুক চিড়ে বেয়ে যাওয়া দপদপিয়া ব্রিজ তার বৃষ্টি মুখর নদীর সৌন্দর্য দিয়ে এক নিবিড় অনুভূতির রাজ্যে প্রবেশের হাতছানি দিবে, ব্রিজের মাঝ বরাবর আসতেই ল্যাম্প পোস্টের উপর দিয়ে মেঘের আনাগোনা মনে হবে এই বুঝি ছুঁয়ে গেল এখনই। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে আসতেই পিচ ভেজা রাস্তার পাশে শক্ত হয়ে দাড়িয়ে থাকা লাল বাসগুলোর (ডাবলডেকার) উপর দিয়ে আবারো মেঘের ভেসে চলা ছবির মতোই দৃষ্টিনন্দন। ভিসি গেট পেড়িয়ে একটু ভেতরে প্রবেশ করতেই কিশোর হয়ে ওঠা নানারকমের ফুল-ফল গাছের সমারোহ, মুক্তমঞ্ছের উপর থেকে পলাশ গাছ পেড়িয়ে একাডেমিক বিল্ডিংয়ের সৌন্দর্য বিমোহিত করে সকল শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীদের।

ঝুম বৃষ্টি নামলে কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে ফুটবল নিয়ে নেমে পড়া ছেলেদের উচ্ছ্বাস আপনাকে শৈশবের স্মৃতিতে নিয়ে যেতে বাধ্য করবে। একটু সামনে গিয়ে ছাত্র শিক্ষক মিলনায়তনে(টিএসসি) ঝিরিঝিরি বৃষ্টিতে কাক ভেজা হয়ে আসা শিক্ষার্থীদের সমবেত হওয়া জমজমাট করে তোলে, এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনেই চায়ের দোকান গুলোতে বৃষ্টিমুখর দিনে জটলা পাকানো আড্ডা, কারো কারো পরীক্ষার চিন্তায় মগ্ন শীট-নোট নিয়ে ছুটে চলা, এক ছাতার নিচে কাপলদের হেঁটে চলা কিংবা লাইব্রেরির জানালা দিয়ে টপারদের উঁকিঝুঁকি এক নিদারুণ সৌন্দর্য তৈরি করে।

বৃষ্টি মুখর বা এই মেঘলা দিনে প্রশাসনিক বিল্ডিংয়ের বারান্দা থেকে কেন্দ্রীয় লাইব্রেরী ও মসজিদ  এক ভিন্ন রুপে ধরা দেয়। ঢেউ খেলানো ঘাসের বিচিত্র রুপ, শীতল হাওয়া, মেঘের আনাগোনা এবং বৃষ্টির ঝাপটা এক মুহূর্তের জন্য হলেও নিজেকে হারিয়ে ফেলবেই।

এছাড়াও চার আবাসিক হল, চার চত্ত্বর, তালতলা, ভোলার রোডের (বরিশাল-ভোলা মহাসড়ক) মনোরম পরিবেশ, কেন্দ্রিয় মন্দির, বোটানিক্যাল গার্ডেন, লন্ডন ব্রিজ সব মিলিয়ে প্রকৃতি যেন তার সৌন্দর্য একসঙ্গে ঢেলে দিয়েছে এই ক্যাম্পাসে।

শ্রাবণের এই বিচিত্রতা কেবল শিক্ষার্থীদের উন্মাদনার মধ্যেই  সিমাবদ্ধ থাকে তা কিন্তু নয়, শিক্ষক ও কর্মচারী কর্মকর্তারা-ও বর্ষণমুখর এ দিনগুলোতে দিব্যি বিমোহিত হয়ে পড়েন,ছোট ছোট ভিডিও ক্লিপ মুঠো ফোনে ধারন করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্যের প্রশংসা করে  প্রকাশ করেন প্রায়শই, শখের বশে দু'লাইন গান গাইতে-ও শোনা যায় মাঝেমধ্যে ‘‘এলো বর্ষা যে সহসা মনে তাই, রিমঝিম রিমঝিম গান গেয়ে যাই
গানের-ও ধরা মাঝে প্রাণের-ও কথা আছে...’’

এ দিনগুলো সম্পর্কে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে প্রাণরসায়ন ও জীবপ্রযুক্তি বিভাগের শিক্ষার্থী মৃত্তিকা রহমান রুপা বলেন, শ্রাবন প্রায় শেষের পথে ভাদ্রের আগমনী সুর বাজছে প্রকৃতি যেন তাল মিলিয়ে ক্ষনে ক্ষনে রূপ বদলাচ্ছে, কীর্তনখোলার পাশে গড়ে ওঠা আমার প্রানপ্রিয় ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য যেন এদের সাথে তাল মিলিয়ে আরও মাধুর্য সঞ্চার করেছে, কোথাও তার রূপের কমতি নেই পরতে পরতে প্রতিটি অঙ্গনে তার সৌন্দর্য প্রকাশ পাচ্ছে কখনো মেঘের ঘনঘটা তো কখনো  ঝিকিমিকি রোদ নতুন বেড়ে ওঠা গাছগুলো যেন হাওয়ার তালে এদের সাথে লুকোচুরি খেলে সব মিলিয়ে শ্রাবণ সত্যি এক ভিন্ন মাত্রা এনে দিয়েছিল।বারেবারে শ্রাবণের সৌন্দর্য নেমে আসুক প্রিয় ক্যাম্পাস জুড়ে।

এসএস