Dr. Neem
Dr. Neem Hakim

রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলো সাম্প্রদায়িক সহিংসতা রোধ করতে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে-আনু মুহাম্মদ


আগামী নিউজ | জাবি প্রতিনিধি প্রকাশিত: অক্টোবর ২২, ২০২১, ০৬:৪৪ পিএম
রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলো সাম্প্রদায়িক সহিংসতা রোধ করতে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে-আনু মুহাম্মদ

ছবিঃ আগামী নিউজ

'ধর্মবিশ্বাস ও সাম্প্রদায়িকতা এক নয়। সহিংসতা স্বতস্ফুর্ত নয় বরং একটি রাজনৈতিক বিষয়। এতে দেশের প্রত্যেক সম্প্রদায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মূলত বিচারহীনতার সংস্কৃতি এধরণের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটায়। এখানে মূল দায়িত্ব পালন করার কথা রাষ্ট্রের। কিন্তু রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলো এসব রোধ করতে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।'

বৃহস্পতিবার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি আয়োজিত মানববন্ধনে এসব কথা বলেন অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। 

দেশব্যাপী উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর অপতৎপরতা ও নৃশংসতার বিরুদ্ধে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। 

এ কর্মসূচিতে অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, সংখ্যালঘুরা শান্তিতে না থাকলে সংখ্যাগুরুদের জন্য তা হবে অশান্তির কারণ। বাংলাদেশের সংখ্যাগুরু মানুষ বাঙালি, মসুলমান কিন্তু এদের বাইরেও অনেকে বসবাস করে। এই যে ভাষা, বর্ণের, জাতির বৈচিত্র্য এটাই আমাদের জাতীয় শক্তি। বৈচিত্র‍্যের মধ্যে যে ঐক্য সেটাই একটি জাতিকে শক্তিশালী করে। প্রকৃতপক্ষে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা মানেই সংখ্যাগুরুদের নিরাপত্তা। এজন্য আমাদের মনস্তাত্ত্বিক ও সাংস্কৃতিক লড়াই অব্যাহত রাখতে হবে। 

তিনি বলেন, 'আমি' ছাড়া অন্যদের সম্মান করার মাধ্যমেই দেশের জাতীয় বিকাশ নিহিত। এসব ঘটনার পর রাষ্ট্র দায়িত্ব না নিলে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা বারবার হবে। গত কয়েকবছরে তাই হচ্ছে। এসব ঘটতে থাকলে জাতীয় উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে।

তিনি আরও বলেন, এ ধরনের ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করে দুইটি বিষয় দেখা যাচ্ছে, এক সাম্প্রদায়িকতা, দুই সাম্প্রদায়িক সহিংসতা। নানা কারনে এ দেশে সাম্প্রদায়িকতা আছে। তবে মনে রাখতে হবে, ধর্ম বিশ্বাস আর সাম্প্রদায়িকতা এক বিষয় নয়। সাম্প্রদায়িকতা সুবিধাবাদীদের হাতিয়ার। যাঁরা সাম্প্রদায়িকতার চর্চা করে তাঁদের আসলে ধর্মের সাথে সম্পৃক্ততাই নেই।

শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক এ এ মামুন বলেন, 'এমন নৃশংস ঘটনা যাঁরা ঘটিয়েছে তাঁদের খুঁজে বের করে এমন শাস্তি দেওয়া হোক যাতে এমন করার সাহস আর কেউ না পায়।'

সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক শামসুল আলম বলেন, 'এ ধরনের ঘটনা এবারই প্রথম নয়। এর আগেও ঘটেছে। কিন্তু বারবারই দেখা যাচ্ছে, পারস্পরিক দোষারোপের মধ্য দিয়ে পার পেয়ে যেতে চাচ্ছে সংশ্লিষ্টরা। নিজেরা করে অন্যের উপর দোষ চাপানোর চেষ্টা চলছে। অন্যদেরকে দোষারোপ না করে সুষ্ঠু তদন্ত করে আসল দায়ীদের বের করা হোক।'

সাবেক প্রক্টর অধ্যাপক তপন কুমার সাহা বলেন, 'আইন দিয়ে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। তাই মনোস্তাত্ত্বিক জগতের উন্নয়ন ঘটাতে হবে। এই পদক্ষেপ বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই নেওয়া শুরু করতে হবে।'

শিক্ষক সমিতির মানবন্ধন সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সম্পাদক অধ্যাপক আমজাদ হোসেন। এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) আমির হোসেন, ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক এটিএম আতিকুর রহমান ও অধ্যাপক আরিফা সুলতানা, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক শাহেদুর রশিদ, পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক আলমগীর কবির প্রমুখ।

এদিকে একই দাবিতে বঙ্গবন্ধু শিক্ষক পরিষদ মানববন্ধন করেন। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ফরহাদ হোসেন বলেন, 'যাঁরা মুক্তিযুদ্ধ করেছি, তাঁরা বিশেষ কোন গোষ্ঠীর ছিলো না। হিন্দু, বৌদ্ধ, মুসলিম, খ্রিস্টান, সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ করেছি। তাই কোন বিশেষ গোষ্ঠী বেশি সুবিধা ভোগ করবে আর কেউ নিগৃহীত হবে- এমনটি হতে পারে না।'

 তিনি আরও বলেন, 'মহানবী (সাঃ) বলেছেন, ধর্ম নিয়া বাড়াবাড়ি করবেন না। এতে অনেক জাতি ধ্বংস হয়ে গেছে।'

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) শেখ মো. মঞ্জুরুল হক বলেন, 'ধর্মের নামে মানুষে মানুষে বিভেদ তৈরির অপচেষ্টা চালাচ্ছে একটি মহল। এর চেয়ে ঘৃণ্য আর কিছু হতে পারে। বঙ্গবন্ধু বলে গিয়েছেন, এ দেশ সবার। এ দেশের মানুষদের মধ্যে কোন ভেদাভেদ থাকতে পারে না। এই সম্প্রীতির বাংলাদেশ যেন নষ্ট না হয় সেজন্য আমরা যূথবদ্ধ হয়ে কাজ করবো।'

উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) নুরুল আলম বলেন, 'একটি গোষ্ঠী যে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালিয়ে ত্রাসের রাজত্ব কায়েমের চেষ্টা করেছিলো, তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হোক। এ দেশ কোন জাতিভেদের ভিত্তিতে গঠিত হয়নি। যারা সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্প ছড়িয়ে বিভেদের দেয়াল তুলতে চাচ্ছে তাঁদের বিষদাঁত ভেঙ্গে দিতে হবে।'

এছাড়াও একই উদ্দেশ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু কর্মকর্তা পরিষদ এবং বাংলা বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা পৃথক মানববন্ধন করেন। 

অন্যদিকে সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের প্রতিবাদে গত বুধবার রাত ১২টা ১ মিনিটে  মোমবাতি প্রজ্জ্বলন কর্মসূচি পালন করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মওলানা ভাসানী হল ছাত্রলীগের কর্মীরা।

এসময় হল প্রাঙ্গনে সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের কারণে নিহত ব্যক্তিদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা কর্মসূচি পালিত হয়।

আগামীনিউজ/শরিফ