Agaminews
Dr. Neem Hakim

আয় নেই, সঞ্চয়পত্রের আমানতের টাকা তুলে নিচ্ছে গ্রাহক


আগামী নিউজ | সাইফুল হক মিঠু প্রকাশিত: মে ১৭, ২০২০, ০৪:০৬ পিএম
আয় নেই, সঞ্চয়পত্রের আমানতের টাকা তুলে নিচ্ছে গ্রাহক

ছবি সংগৃহীত

করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে সারাদেশে চলছে সাধারণ ছুটি। বন্ধ আছে সরকারি, বেসরকারি অনেক প্রতিষ্ঠান। অনেকেই জরুরি প্রয়োজনে বাসা থেকে বের হতে পারছেনা।
 
এমন অবস্থায় অনেক প্রতিষ্ঠান বেতন ভাতা দিতে পারছেনা, এতে বিপদে পড়ে সঞ্চয়পত্রের জামানত টান দিচ্ছেন অনেক মধ্যবিত্ত গ্রাহক। মেয়াদ শেষ হবার আগেই অনেকেই তুলে ফেলছেন আমানত। করোনা পরিস্থিতির উন্নতি না হলে এই অবস্থা আরো খারাপের দিকে যাবে বলে ধারণা বিশেষজ্ঞদের।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শুধু মাত্র মার্চ মাসেই সোনালী ব্যাংকের মতিঝিল শাখা থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে ৪৪ কোটি ৫৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার সঞ্চয়পত্র। আর এপ্রিল মাসে তোলা হয়েছে ১১ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। অন্যান্য রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতেও আমানত তোলার হিড়িক চোখে পড়েছে।

কথা হয় নিউমার্কেটের ব্যবসায়ী নুরুল আমিনের সঙ্গে। তিনি মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নিজের ও স্ত্রীর নামে থাকা সঞ্চয় পত্রের টাকা তুলে নিয়েছেন। আগামী নিউজ ডটকমকে বলেন, এবার ব্যবসা বাণিজ্য নাই। ঈদের মার্কেট ও বন্ধ। পরিবার পরিজন চালাতে হবে, তাই সঞ্চয় পত্রের আমানত তুলে নিয়েছেন। অন্য গ্রাহকরাও বলছেন, আয় না থাকায় আমানত তুলে নিতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।

তারা বলছেন, মধ্যবিত্তরা কারো কাছে হাত পাততে পারেনা। তাদের জন্য মিলেনা সরকারি সাহায্য, অন্যদিকে বাজার করতে হয়, ওষুধ কিনতে হয়, বাসা ভাড়া দিতে হবে। আয় না থাকলেও যেভাবে হোক চলতে হবে।

এজন্য আমানতের টাকা তুলে নিচ্ছেন তারা। এই অবস্থায় সঞ্চয়পত্রের সুদের হার ঠিক রেখে গ্রাহকদের টাকা প্রাপ্তির নিশ্চিয়তা দিতে বলেছেন সংশ্লিষ্টরা।

বেসরকারি চাকুরিজীবি আমিন আহমেদ বলেন, সব কিছুর দাম বাড়তি। সংসার তো চালাতে হবে। তাই কিস্তির মেয়াদ শেষ হবার আগেই আমানত তুলে নিয়েছি। ব্যাংকে গিয়ে দেখা মিলছে সঞ্চয়পত্রের শাখার সামনে মানুষের দীর্ঘ লাইন।

এ প্রসঙ্গে সোনালী ব্যাংকের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার নুরুল ইসলাম বলেন, লক ডাউন দীর্ঘায়িত হওয়ায় মানুষ আতঙ্কে টাকা তুলে নিচ্ছেন। ২৬ মার্চ লকডাউনের আগে থেকেই টাকা তোলার হিড়িক শুরু হয়। লকডাউনের আগে মানুষ সঞ্চয়পত্র বেশি তুলে নিয়েছে। এপ্রিল মাসে তুলনামূলক কম তুলে নিয়েছে। এখন ও মানুষ আসছে আমানতের টাকা নিতে।

মানুষ আতঙ্কে সঞ্চয়পত্র তুলে নিতেন পারেন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আর গ্রাহকদের অনিশ্চিয়তা দূর করে আস্থা তৈরিতে ব্যাংকগুলোকে কাজ করতে হবে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, মানুষ টাকার প্রয়োজনের এফডিআর বা যাদের মেয়াদী সঞ্চয়পত্র যেগুলো আছে সেগুলো ভেঙে ফেলেছে। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে অনেকে টাকা উঠিয়ে নিচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, টাকার প্রয়োজন তো আছেই। আবার সীমিত সময়ের জন্য ব্যাংক খোলা থাকছে এ কারণে তারা টাকা তুলে নিচ্ছেন। এ অবস্থায় গ্রাহকদের অবস্থার কথা বিবেচনা করে আমানতের সুদের হার কমাতে হবে।

 

আগামী নিউজ/মিঠু/নাঈম

Dr. Neem