Dr. Neem on Daraz
international mother language day

আজও ঢাকার প্রবেশ পথে পুলিশের কড়াকড়ি


আগামী নিউজ | নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ডিসেম্বর ৯, ২০২২, ১১:২০ এএম
আজও ঢাকার প্রবেশ পথে পুলিশের কড়াকড়ি

ঢাকাঃ রাজধানীতে বিএনপির সমাবেশের আর মাত্র একদিন বাকি। ১০ ডিসেম্বরের এই সমাবেশ ঘিরে রাজধানীতে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। রাজধানীর পরিবেশ নির্বিঘ্ন রাখতে নগরজুড়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বাড়তি তৎপরতা দেখা গেছে। গত কয়েকদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা থাকলেও শুক্রবার সকাল থেকে বিপুল সংখ্যক পুলিশ চোখে পড়েছে। প্রতিটি মোড়ে মোড়ে অবস্থান নিয়েছে তারা। এসব মোড়ে পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব সদস্যদের দেখা গেছে।

গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও বিভিন্ন পয়েন্টে চেকপোস্ট স্থাপন করে তল্লাশি করতে দেখা গেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের। পোশাকধারী আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি রাজধানীজুড়ে বিপুল সংখ্যক সাদা পোশাকের সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করছেন।

শুক্রবার সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ঢাকার প্রবেশ পথে গিয়ে দেখা যায়- সাইনবোর্ড, মৌচাক, মদনপুর, মেঘনা টোল প্লাজার সামনে মোট ৪টি পুলিশ চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। এসব চেকপোস্টে গাড়ি থামিয়ে তল্লাশি করছে পুলিশ। 

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিএনপির সমাবেশ ঘিরে ব্যাপক নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ, র‌্যাব ছাড়াও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

অপতৎপরতা এড়াতে বিভিন্ন মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামিরাসহ নজরদারিতে রয়েছে। পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের সাইবার ক্রাইম টিমের মনিটরিংয়ের আওতায় রয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম।

শুক্রবার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, রাজধানীর সড়কগুলোতে মানুষের চলাচল অনেক কম। যারাই প্রয়োজনে বেরিয়েছেন তাদের মনে অজানা আতঙ্ক বিরাজ করছে। সড়কে গণপরিবহন চলাচল কম দেখা গেছে। নগরীর প্রবেশপথ এবং গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় র‌্যাব-পুলিশের তল্লাশি চৌকি বসানো হয়েছে। সন্দেহভাজন সবাইকে তল্লাশির মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। প্রয়োজনে যাচাই করা হচ্ছে পরিচয়পত্র।

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও দলের প্রধান বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ নানা দাবিতে দেশের নয়টি বিভাগীয় শহরে সমাবেশ করে বিএনপি। পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী আগামীকাল শনিবার (১০ ডিসেম্বর) ঢাকায় মহাসমাবেশ করার কথা রয়েছে দলটির। অন্যান্য সমাবেশগুলো শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হলেও ঢাকার কর্মসূচি ঘিরে বিপত্তি দেখা দিয়েছে।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করতে ডিএমপির পক্ষ থেকে অনুমতি দেওয়া হলেও নয়াপল্টনে সমাবেশ করতে অনড় অবস্থান নেয় বিএনপি। এ নিয়ে বিতর্ক ও আলোচনার মধ্যেই গত পরশু বিকালে নয়াপল্টনে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায় বিএনপি নেতাকর্মীরা। এতে গুলিতে প্রাণ হারান একজন।

সংঘর্ষের পর বিএনপি কার্যালয়ে অভিযান চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অভিযানে দলটির মধ্যসারির কয়েকজন নেতাসহ তিন শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

গতকাল সমাবেশের স্থান নিয়ে বিএনপি সুর কিছুটা নরম করলে জটিলতার কিছুটা অবসান হয় বলে মনে করা হচ্ছিল। কিন্তু ভোররাতে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ও স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় যেন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সে ব্যাপারে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

ডিএমপি ও র‌্যাব সূত্রে জানা গেছে, ১০ ডিসেম্বর ঘিরে ইতোমধ্যে ডিএমপিতে দায়িত্বরত সব পুলিশ সদস্যদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। দিনটিকে ঘিরে রাজধানীতে র‌্যাব, পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অর্ধলক্ষাধিক সদস্য মাঠে কাজ করবে।

ডিএমপি সূত্রে আরও জানা যায়, ডিএমপিতে ৩২ হাজার পুলিশ সদস্য রয়েছে। তাদের মধ্য থেকে সমাবেশের আগাম কিছু তথ্য বিশ্লেষণ করে দক্ষ ও অভিজ্ঞতা সম্পন্ন পুলিশ সদস্য বাছাই করা হয়েছে। এছাড়াও ঢাকার বাইরে থেকে আরও ১৮ থেকে ২০ হাজার পুলিশ সদস্য ঢাকায় আনা হবে।

ডিএমপির ডেমরা জোনের পেট্রোল ইন্সপেক্টর নুরুল ইসলাম মল্লিক বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আমরা সবসময় প্রস্তুত থাকি। আমরা সর্বোচ্চ সতর্কতার সাথে আমাদের দায়িত্ব পালন করছি, যাতে দেশের মানুষ ভালোভাবে থাকতে পারে। এ মহাসড়কে পুলিশের অনেকগুলো চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। 

বুইউ