August
Dr. Neem on Daraz
Dr. Neem Hakim

চতুর্থ দিনেও কমলাপুরে উপচে পড়া ভিড়


আগামী নিউজ | নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: জুলাই ৪, ২০২২, ০৯:৪৯ এএম
চতুর্থ দিনেও কমলাপুরে উপচে পড়া ভিড়

ঢাকাঃ আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে চতুর্থ দিনের মতো ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি চলছে। টিকিট নামের এই সোনার হরিণ পেতে অনেকেই দুদিন ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন। আবার কেউ কেউ ৯ জুলাইয়ের টিকিটের জন্য এরই মধ্যে লাইনে দাঁড়িয়ে গেছেন।

সোমবার (৪ জুলাই) সকাল ৮টা থেকে এ টিকিট বিক্রি শুরু হয়। বরাবরের মতো আজকেও কাউন্টারের পাশাপাশি অর্ধেক টিকিট মিলছে অনলাইন ও অ্যাপে। রেলওয়ে কতৃপক্ষ জানায়, সোমবার দেওয়া হচ্ছে ৮ জুলাইয়ের টিকিট। ৯ জুলাইয়ের টিকিট ৫ জুলাই বিক্রি হবে।

এছাড়া ১১ জুলাইয়ের ট্রেনের ফিরতি টিকিট ৭ই জুলাই, ১২ জুলাইয়ের টিকিট ৮ জুলাই, ১৩ জুলাইয়ের টিকিট ৯ জুলাই এবং ১৪ ও ১৫ জুলাইয়ের টিকিট বিক্রি করা হবে ১১ জুলাই। অনলাইন টিকিটের অর্ধেক ওয়েবসাইটে এবং অর্ধেক অ্যাপে বিক্রি করা হবে।

গরমের মধ্যে মানুষের উপচেপড়া ভিড়ে কমলাপুরের আবহাওয়া আরও গরম হয়ে উঠেছে। গরম থেকে বাঁচতে কেউ কেউ হাতপাখা নিয়ে এসেছেন। এরপরও ভ্যাপসা গরমের হাত থেকে রক্ষা মিলছে না। গরমে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। এরপরও ঘণ্টার পর ঘণ্টা ট্রেনের টিকিটের জন্য লাইনে অপেক্ষা করছেন তারা।

গাজীপুর থেকে আসা আশরাফুল ইসলাম নামের একজন বলেন, গতকাল লাইনে দাঁড়িয়েছিলাম, কিন্তু টিকিট পাইনি। তাই কাল অফিস শেষ করে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে এসেছি। কারণ মেয়েদের লাইনে ভিড় কম। এখন দেখা যাক টিকিট পাই কি না।

রংপুরের ৯ জুলাইয়ের টিকিটের জন্য লাইনে দাঁড়িয়েছেন হৃদয়। রোববার রাত থেকে তিনি লাইনে। এতো আগে লাইনে দাঁড়ানোর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, আগে আগে লাইনে দাঁড়িয়েছি যাতে টিকিট পাই। এতো কষ্টের পর টিকিট পেলেই খুশি।

এসময় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের এখানে কোনো কিছু সঠিক নিয়মে চলে না। অনলাইনে তো কোনোভাবেই টিকিট পাওয়া যায় না। সব টিকিট বিক্রি শেষ হয়ে গেলে তারপর অ্যাপে ঢোকা যায়। সংশ্লিষ্টরা জেনেও কোনো পদক্ষেপ নেয় না। যে কারণে আমাদের এমন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

হাতপাখা নিয়ে আসা আলেয়া বলেন, এখানে অনেক গরম, আমি অস্বস্তি বোধ করছি। অপেক্ষা করতে করতে অসুস্থ হয়ে যাচ্ছি। কিন্তু কিছু করার নেই। এভাবে কষ্ট করে অপেক্ষা না করলে টিকিট পাওয়া যাবে না।

ঈদুল আজহা উপলক্ষে গত শুক্রবার (১ জুলাই) থেকে ট্রেনের টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। ১ জুলাই দেওয়া হয় ৫ জুলাইয়ের ট্রেনের টিকিট, ২ জুলাই দেওয়া হয় ৬ জুলাইয়ের, ৩ জুলাই দেওয়া হয় ৭ জুলাইয়ের টিকিট। আজ দেওয়া হচ্ছে ৮ জুলাইয়ের টিকিট এবং আগামীকাল (৫ জুলাই) দেওয়া হবে ৯ জুলাইয়ের ট্রেনের টিকিট।

এছাড়া ফিরতি টিকিট বিক্রি শুরু হবে ৭ জুলাই থেকে। সেদিন ১১ জুলাইয়ের টিকিট বিক্রি হবে। ৮ জুলাই ১২ জুলাইয়ের টিকিট, ৯ জুলাই ১৩ জুলাইয়ের টিকিট, ১১ জুলাই ১৪ এবং ১৫ জুলাইয়ের টিকিট বিক্রি হবে। এরমধ্যে ১০ জুলাই ঈদ হওয়ায় ১১ জুলাই সীমিত কয়েকটি আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করবে। তবে ১২ জুলাই থেকে সব ট্রেন চলাচল করবে।

ঢাকায় ছয়টি স্টেশন ও গাজীপুরের জয়দেবপুর রেলস্টেশন থেকে ঈদের ট্রেনের টিকিট পাওয়া যাচ্ছে। ঢাকার কমলাপুর স্টেশনে সমগ্র উত্তরাঞ্চলগামী আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট এবং কমলাপুর শহরতলী প্ল্যাটফর্ম থেকে রাজশাহী ও খুলনাগামী ট্রেনের টিকিট পাওয়া যাচ্ছে। ঢাকা বিমানবন্দর থেকে চট্টগ্রাম ও নোয়াখালীগামী সব আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট পাওয়া যাচ্ছে। তেজগাঁও স্টেশনে পাওয়া যাচ্ছে ময়মনসিংহ, জামালপুর, দেওয়ানগঞ্জগামী ট্রেনের টিকিট।

এছাড়া ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট স্টেশনে পাওয়া যাচ্ছে মোহনগঞ্জগামী মোহনগঞ্জ ও হাওর এক্সপ্রেসের টিকিট। রাজধানীর ফুলবাড়িয়া স্টেশনে পাওয়া যাচ্ছে সিলেট ও কিশোরগঞ্জগামী ট্রেনের টিকিট। গাজীপুরের জয়দেবপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে পঞ্চগড়ের ঈদ স্পেশাল ট্রেন ছাড়বে।

এবার ঈদুল আজহা উপলক্ষে যাত্রীদের সুবিধার্থে ৬ জোড়া বিশেষ ট্রেন পরিচালনা করা হবে। সেগুলো হলো- দেওয়ানগঞ্জ স্পেশাল, চাঁদপুর স্পেশাল ১, ২, বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম (পঞ্চগড়) ঈদ স্পেশাল, শোলাকিয়া স্পেশাল ১, ২।

এছাড়া, আগামী ৬ জুলাই থেকে ৯ জুলাই পর্যন্ত ঢাকামুখী একতা, দ্রুতযান, পঞ্চগড়, নীলসাগর, কুড়িগ্রাম, লালমনি ও রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেনগুলোর বিমানবন্দর স্টেশনে যাত্রাবিরতি থাকবে না। আগামী ৬ থেকে ১৪ জুলাই পর্যন্ত মিতালি এক্সপ্রেস এবং ৭ থেকে ১৪ জুলাই পর্যন্ত মৈত্রী এক্সপ্রেস ও বন্ধন এক্সপ্রেস ট্রেন চলাচল করবে না।

এমবুইউ