কাবুলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আত্মঘাতী হামলা, নিহত ১৯


আগামী নিউজ | আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২২, ০১:২৮ পিএম
কাবুলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আত্মঘাতী হামলা, নিহত ১৯

ঢাকাঃ আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আত্মঘাতী বোমা হামলায় অন্তত ১৯ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অনেকে।

স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ সেপ্টেম্বর) কাবুল শহরের পশ্চিমে দাশে বারচি এলাকায় একটি শিক্ষা কেন্দ্রে বিস্ফোরণের এ ঘটনা ঘটে।

শিক্ষা কেন্দ্রটির কর্তৃপক্ষ বলছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষার আগে শিক্ষার্থীরা সেখানে অধ্যয়ন করছিল।

কাবুলের পুলিশের মুখপাত্র খালিদ জাদরান জানান, হামলায় ১৯ জন নিহত ও ২৭ জন আহত হয়েছেন। তিনি বলেন, প্রবেশিকা পরীক্ষা চলার সময় একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই হামলার ঘটনা ঘটে। তবে আফগানিস্তানে সাধারণত শুক্রবার স্কুল বন্ধ থাকে।

হামলার পেছনে কে বা কারা থাকতে পারে সেটি উল্লেখ না করে তিনি বলেন, ‘বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা শত্রুর অমানবিক নিষ্ঠুরতা এবং নৈতিক মানদন্ডের অভাবকে প্রমাণ করে।’

হামলায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। হাসপাতালের এক সূত্রে জানা গেছে, হামলায় ২৩ জন নিহত হয়েছেন।

তালেবানের আরেক সূত্রে জানা গেছে, ৩৩ জন নিহত হয়েছেন। হতাহতদের মধ্যে নারীরাও রয়েছেন বলে জানান তিনি।

এলাকাটিতে বেশিরভাগই হাজরা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের, এই গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় হামলার ঘটনা বেড়েছে। শুক্রবারের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোনও গোষ্ঠী দায় স্বীকার করেনি। ধারণা করা হচ্ছে জঙ্গি গোষ্ঠী আইএস আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটিয়ে থাকতে পারে।

হামলার নিন্দা জানিয়ে তালেবানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আব্দুল নাফি তাকোর বলেন, ঘটনাস্থলে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা পৌঁছেছে। এলাকাটি ঘিরে রেখেছে তারা। হামলায় জড়িত সন্দেহ এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা যায়নি।

পশ্চিম কাবুলের একটি শিক্ষা কেন্দ্রে ২০২০ সালের বোমা হামলায় ২৪ জন নিহত হন। এ হামলার দায় এখনো কেউ স্বীকার করেনি।

২০ বছরের যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সেনা প্রত্যাহারের পর গতবছর আগস্টে আফগানিস্তানে ক্ষমতায় ফিরে আসে সশস্ত্র গোষ্ঠী তালেবান। টানা ২০ বছর ধরে যুদ্ধের কারণে বহু বেসামরিক লোকের প্রাণ গেছে দেশটিতে। তালেবান ক্ষমতায় বসলেও এখনো আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি মেলেনি। ফলে চরম অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে রয়েছে দেশটি।

তালেবান সরকার গঠন করার পর দেশটিও বেশ কয়েকটি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর আগের কয়েকটি হামলার দায় স্বীকার করে আইএস-খোরাসান শাখা।

যদিও তালেবান সরকার বলছে, দেশে স্থিতিশীল পরিবেশ তৈরিতে কাজ করছে তারা। 

এমবুইউ