আজ ইউক্রেনের চার অঞ্চল নিজেদের করে নেবে রাশিয়া


আগামী নিউজ | আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২২, ১০:০১ এএম
আজ ইউক্রেনের চার অঞ্চল নিজেদের করে নেবে রাশিয়া

ঢাকাঃ সামরিক অভিযান শুরুর সাত মাসেরও বেশি সময় পর ইউক্রেনের চার অঞ্চলকে - খেরসন, জাপোরিঝিয়া, দোনেতস্ক ও লুহানস্ক - রাশিয়ায় যুক্ত করতে চলেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। শুক্রবার (৩০ সেপ্টেম্বর) এই চার ইউক্রেনীয় ভূখণ্ডকে আনুষ্ঠানিকভাবে রাশিয়ার বলে ঘোষণা করবেন তিনি।

এ উপলক্ষে যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে পুতিন প্রশাসন। এতে করে সাত মাস ধরে চলে আসা এই যুদ্ধের তীব্রতা নতুন মাত্রায় পৌঁছাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। শুক্রবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘রাশিয়ান ফেডারেশনে নতুন অঞ্চলগুলোর প্রবেশ’ সংক্রান্ত একটি চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে শুক্রবার সভাপতিত্ব করবেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তাড়াহুড়ো করে মঞ্চস্থ গণভোট শেষ হওয়ার তিন দিনের মাথায় ইউক্রেনীয় এই চার ভূখণ্ডকে আনুষ্ঠানিকভাবে রাশিয়ার বলে ঘোষণা করতে যাচ্ছেন তিনি। দখলকৃত এসব অঞ্চলে রাশিয়ায় যোগদানের পক্ষে ৯৯ শতাংশ পর্যন্ত ভোট পড়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

অবশ্য ইউক্রেন এবং পশ্চিমা সরকারগুলো এই ভোটকে জাল, অবৈধ এবং অস্ত্রের মুখে পরিচালিত বলে আখ্যায়িত করেছে। তবে মস্কো বলছে, মানুষ স্বাধীনভাবে তাদের ‘ঐতিহাসিক মাতৃভূমিতে’ ফিরে যাওয়ার পথ বেছে নিয়েছে। আট বছর আগে একইভাবে ক্রিমিয়া দখল করেছিল রাশিয়া।

রয়টার্স বলছে, রাশিয়ার স্থানীয় সময় শুক্রবার বিকেল তিনটায় (বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬টায়) গ্র্যান্ড ক্রেমলিন প্রাসাদের সেন্ট জর্জ হলে ‘রাশিয়ান ফেডারেশনে নতুন অঞ্চলগুলোর প্রবেশ’ সংক্রান্ত ওই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হবে। কলামযুক্ত এই হলটির সোনায় খোদাই করা মার্বেল ফলক রাশিয়ান সামরিক বীরদের স্মরণ করে থাকে।

বৃহস্পতিবার রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

পেসকভ বলেন, শুক্রবার গ্র্যান্ড ক্রেমলিন প্যালেসের জর্জিয়া হলে নতুন অঞ্চলগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে একটি অনুষ্ঠান হবে। এতে প্রেসিডেন্ট পুতিন ভাষণ দেবেন।

এর আগে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনের জাপোরিঝিয়া এবং খেরসন অঞ্চলকে ‘স্বাধীন’ ঘোষণা করেন।

৭ মাসের লড়াইয়ে রাশিয়ার এটি বড় অর্জন বলে মনে করা হচ্ছে এসব অঞ্চল দখলে নেওয়া। যদিও গণভোটের আয়োজন করে এসব অঞ্চলকে অধিকরণের বিষয়টি তীব্রভাবে প্রত্যাখ্যান করছে ইউক্রেন ও তার পশ্চিমা মিত্ররা।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট পুতিন একটি ডিক্রি জারি করেন। সেখানে তিনি বলেন, ‘আমি দক্ষিণ ইউক্রেনের জাপোরিঝিয়া ও খেরসনের রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব এবং স্বাধীনতার স্বীকৃতির আদেশ দিচ্ছি’।

রুশ-অধিকৃত অঞ্চলে সংগঠিত গণভোটের পর শুক্রবার ক্রেমলিনে একটি অনুষ্ঠানে দোনেস্ক ও লুহানস্কের স্বঘোষিত প্রজাতন্ত্রের সঙ্গে দুটি অঞ্চল রাশিয়ায় অন্তর্ভুক্ত হতে চলেছে। যেখানে ৯৯ শতাংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা দাবি করা হচ্ছে, রাশিয়ায় যোগদানের পক্ষে। এর আগে প্রেসিডেন্ট পুতিন গত ফেব্রুয়ারিতে দোনেৎস্ক এবং লুহানস্কের ‘স্বাধীনতার’ স্বীকৃতি দেন।

একইভাবে গণভোটের আয়োজন করে ৮ বছর আগে ২০১৪ সালে ক্রিমিয়া দখল করেছিল রাশিয়া। গ্র্যান্ড ক্রেমলিন প্রাসাদের সেন্ট জর্জিয়া হলে স্থানীয় সময় বিকাল ৩ টার দিকে অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার কথা, যেখানে প্রেসিডেন্ট পুতিন ভাষণ দেবেন।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস নিউইয়র্ক সিটিতে সাংবাদিকদের বলেছিলেন যে রাশিয়ার এই সংযুক্তি জাতিসংঘের সনদ লঙ্ঘন করবে এবং এটির ‘কোনো আইনী ভিত্তি নেই’।

এদিকে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি শুক্রবার জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা কাউন্সিলের জরুরি বৈঠক ডেকেছেন। কিয়েভ এর আগে রাশিয়ার এই আগ্রাসনকে প্রত্যাখ্যান করে।

ইউক্রেনের অধিকৃত ওই ৪টি অঞ্চলে গণভোটে ৯৬ শতাংশ ভোট পাওয়ার পর বিজয় ঘোষণা করে রাশিয়া। রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের উপপ্রধান দিমিত্রি মেদভেদেভ বুধবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ভোরে তার অফিসিয়াল টেলিগ্রাম চ্যানেলে লেখেন, গণভোট শেষ হয়েছে। তিনি বলেন,‘ফলাফল পরিষ্কার’। এসময় তিনি আরও বলেন, ‘রাশিয়ায় স্বাগত’।

এমবুইউ