August
Dr. Neem on Daraz
Dr. Neem Hakim

পুতিনকে সন্ত্রাসী বললেন জেলেনস্কি


আগামী নিউজ | আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: জুন ২৯, ২০২২, ১১:০৯ এএম
পুতিনকে সন্ত্রাসী বললেন জেলেনস্কি

ঢাকাঃ জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে দেয়া ভাষণে ভ্লাদিমির পুতিনকে 'সন্ত্রাসী' নেতা বলে অভিহিত করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। এ সময় ওই দেশটির শপিং মলে মারাত্মক রুশ হামলার বিষয়ে জাতিসংঘকে তদন্ত করতে বলেন জেলেনস্কি। এছাড়া রাশিয়াকে নিরাপত্তা পরিষদ থেকে বের করে দেয়ারও দাবি জানান তিনি।

মঙ্গলবার (২৮ জুন) রাতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে দেওয়া ভার্চ্যুয়াল বক্তৃতায় ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট এই মন্তব্য করেন। বুধবার (২৯ জুন) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘ইউক্রেনের মাটিতে রাশিয়ান দখলদারদের কর্মকাণ্ড’ তদন্ত করতে এবং দেশটিকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে একটি আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল গঠনের জন্য জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ভার্চ্যুয়াল ভাষণে জেলেনস্কি বলেন, ‘রাশিয়ার এই হত্যাকাণ্ড বন্ধ করতে সম্ভব সবকিছু করার জন্য আমাদের জরুরিভাবে পদক্ষেপ নিতে হবে।’

গত সোমবার ইউক্রেনের মধ্যাঞ্চলীয় শহর ক্রেমেনচুকের একটি জনবহুল শপিং মলে রুশ বাহিনীর ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত করে। হামলার সময় ওই শপিং মলটিতে ১ হাজারেরও বেশি মানুষ ছিলেন। প্রাথমিকভাবে হতাহতের তথ্য জানা না গেলেও পরে জানানো হয়, রুশ এই হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত এবং ৪০ জন আহত হয়েছেন।

তবে সময় গড়ানোর সাথে সাথে হতাহতের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পায়। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, শপিংমলে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮ জনে। মূলত শপিংমলের মতো জায়গায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ও এর জেরে হওয়া হতাহতের ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন জেলেনস্কি।

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে দেওয়া ভাষণে জেলেনস্কি সতর্ক করেন, মস্কোর বিরুদ্ধে জরুরিভাবে পদক্ষেপ নেওয়া না গেলে রাশিয়ার ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ বাল্টিক দেশগুলো, পোল্যান্ড, মলদোভা ও কাজাখস্তানের পাশাপাশি অন্যান্য ইউরোপীয় এবং এশীয় দেশে ছড়িয়ে পড়বে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট বলেন, পুতিন সন্ত্রাসী হয়ে উঠেছেন। তার ভাষায়, ‘কোনো ধরনের সাপ্তাহিক বন্ধ ছাড়াই প্রতিদিনই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে। প্রতিদিন তারা সন্ত্রাসী হিসেবে কাজ করছে।’

এদিকে ১৯৩ সদস্য দেশের জাতিসংঘ থেকে রাশিয়াকে বহিষ্কারেরও আহ্বান জানিয়েছেন ভলোদিমির জেলেনস্কি। এ লক্ষ্যে জাতিসংঘ সনদের ৬ নাম্বার অনুচ্ছেদের উদ্ধৃতিও দেন তিনি।

জাতিসংঘ সনদের এই অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কোনো সদস্য দেশ ‘বর্তমান সনদে অন্তর্ভুক্ত নীতিগুলো ক্রমাগতভাবে লঙ্ঘন করলে নিরাপত্তা পরিষদের সুপারিশের ভিত্তিতে সাধারণ পরিষদ (অভিযুক্ত দেশকে) সংস্থা থেকে বহিষ্কার করতে পারে’।

এর আগে ক্রেমেনচুক শহরের জনবহুল শপিংমলে রুশ সামরিক বাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর রাশিয়াকে ‘বিশ্বের সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী সংগঠন’ বলে দাবি করেছিলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।

সোমবার জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেনের ক্রেমেনচুকের ওই শপিংমলে রাশিয়ার হামলা ‘ইউরোপীয় ইতিহাসে সবচেয়ে বিদ্বেষপূর্ণ সন্ত্রাসী হামলার একটি। শুধুমাত্র সম্পূর্ণ উন্মাদ সন্ত্রাসীরা, যাদের পৃথিবীতে কোনো স্থান থাকা উচিত নয়, তারাই এমন একটি স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করতে পারে।’

তার ভাষায়, ‘‘আক্রমণটি ‘অলক্ষ্যে’ চালানো হয়নি বরং তা ছিল ‘পরিকল্পিত আঘাত’।’’

জেলেনস্কি আরও বলেছিলেন, ‘রাশিয়ান রাষ্ট্র বিশ্বের বৃহত্তম সন্ত্রাসী সংগঠনে পরিণত হয়েছে। এবং এটিই সত্য ও বাস্তবতা। এটিকে আইনিভাবেও বৈধতা দিতে হবে।’

এদিকে ক্রেমেনচুকে ব্যস্ত শপিং সেন্টারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর কথা অস্বীকার করেছে রাশিয়া। জাতিসংঘের নিযুক্ত রাশিয়ার উপ রাষ্ট্রদূত দিমিত্রি পলিয়ানস্কি নিরাপত্তা পরিষদকে বলেছেন, ওই শপিং সেন্টারটিতে কোনও হামলা চালায়নি মস্কো। সেদিন রাশিয়ার নির্ভুল অস্ত্রগুলো পূর্ব ডনবাসে ইউক্রেনীয় বাহিনীর একটি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। সেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুত ছিল। ঘটনাস্থল শপিং সেন্টারটি কিছুটা দূরে ছিল। কিন্তু গোলাবারুদের বিস্ফোরণের ফলে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়, যা পরে শপিং সেন্টার পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নির্দেশে ইউক্রেনে কথিত বিশেষ সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া। এই অভিযানকে অবৈধ অ্যাখা দিয়ে পুতিন ও তার ঘনিষ্ঠজনদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো। গত ১৪ জুন প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে রুশ প্রেসিডেন্টের দফতর ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ স্বীকার করেছেন, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার ধকল কাটানো সহজ নয়। তিনি বলেন, পশ্চিমাদের যেসব পদক্ষেপ রাশিয়ার অর্থনীতিকে বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে সেগুলো ছিল কঠিন। তবে তাদের এসব পদক্ষেপ মস্কোকে ‘বন্ধুত্বপূর্ণ’ দেশগুলোর দিকে আরও ঠেলে দিচ্ছে।

এমবুইউ