Dr. Neem on Daraz
Dr. Neem Hakim

মহামারীতে বিশ্বের শীর্ষ ১০ ধনীর সম্পদ দ্বিগুণ হয়েছে: অক্সফাম


আগামী নিউজ | আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৭, ২০২২, ০২:২৪ পিএম
মহামারীতে বিশ্বের শীর্ষ ১০ ধনীর সম্পদ দ্বিগুণ হয়েছে: অক্সফাম

ঢাকাঃ করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ধনীদের সম্পদ বেড়ে হয়েছে দ্বিগুণ, অন্যদিকে একই মহামারি আরও বহু সংখ্যক মানুষকে দরিদ্র করেছে। নতুন এক প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক দাতব্য ও ত্রাণসংস্থা অক্সফাম এই তথ্য তুলে এনেছে বলে জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা।

সম্পদের এই বৈষম্য ও অসমতাকে ‘অর্থনৈতিক সহিংসতা’ হিসেবে উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক এই সংস্থাটির দাবি, দরিদ্রতা, স্বাস্থ্যসেবা, লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা, ক্ষুধা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বে প্রতিদিন ২১ হাজার মানুষের মৃত্যু হচ্ছে।

কিন্তু করোনা মহামারির শুরু থেকে অর্থাৎ ২০২০ সালের মার্চ মাস থেকে বিশ্বের শীর্ষ ১০ ধনী ব্যক্তির সম্পদ বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি। সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বৈঠকের আগে বৈশ্বিক অসমতার ওপর এই রিপোর্টটি সামনে আনলো সংস্থাটি।

সংস্থাটি বলছে, করোনা মহামারিকালে বিশ্ব ব্যাংকের তথ্যে উঠে এসেছে, বিশ্বের ১৬৩ মিলিয়ন অর্থাৎ ১৬ কোটি ৩০ লাখের বেশি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে গেছে, যেখানে ধনীরা আরও ফুলেফেঁপে উঠেছেন দেশগুলোর সরকারের সহায়তা পেয়ে।

অক্সফামের প্রজেক্টের তথ্য বলছে, ২০৩০ সালে ৩ দশমিক ৩ বিলিয়ন অর্থাৎ ৩৩০ কোটি মানুষ দৈনিক ৫ দশমিক ৫০ ডলারের কম আয় করবে।

দাতা সংস্থাটি বলছে, বিশ্বের ৯৯ শতাংশ মানুষের আয় ২০২০ সালের মার্চ থেকে ২০২১ সালের অক্টোবর পর্যন্ত কমে গিয়েছিল। এদিকে, ইলেক্ট্রিক কার নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান টেসলার প্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্কসহ বিশ্বের আরও নয়জন বিলিয়নিয়ারের দৈনিক আয় বেড়েছে এক দশমিক ৩ বিলিয়ন অর্থাৎ ১৩০ কোটি মার্কিন ডলার।

ফোর্বস ম্যাগাজিনের এ বছরের ধনীর তালিকার হিসাবে দেখা গেছে, প্রথম ১০ ধনী ব্যক্তির প্রত্যেকের সম্পত্তির পরিমাণ ১০ হাজার কোটি ডলারের বেশি। তাদের মধ্যে টেসলার মালিক এলন মাস্কের সম্পত্তির পরিমাণই ২৯৪ বিলিয়ন ডলার অর্থাৎ ২৯ হাজার ৪০ কোটি মার্কিন ডলার।

অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোসকে ছাড়িয়ে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি হন ইলন মাস্ক। এ সময়ের মধ্যে বেজোসের মোট সম্পদ ৬৭ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ২০৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জুকারবার্গের সম্পদ দ্বিগুণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ১১৮ বিলিয়ন ডলার, মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসের সম্পদ ৩১ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩৭ বিলিয়ন ডলার।

সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) বার্ষিক বৈঠকের আগে অক্সফাম সাধারণত এমন প্রতিবেদন প্রকাশ করে। কিন্তু চলতি বছরও সেটি স্থগিত করা হয়েছে মহামারির কারণে। ফলে বিশ্বের শীর্ষ ধনী এবং ক্ষমতাবান ব্যক্তিরা উপস্থিত হতে পারছেন না এবারও।

সংস্থাটি আরও বলছে, এই অর্থনৈতিক অসমতার কারণে বিভিন্ন ধরনের সংকট দেখা দিয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছেন না দরিদ্র মানুষরা। ক্ষুধা, লিঙ্গবৈষম্যগত সহিংসতাও বেড়েছে। এর ফলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবও পড়ছে।

অক্সফামের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, বিলিয়নিয়ারদের যখন বিস্ফোরণ ঘটছে, তখন বহু মানুষও দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যাচ্ছে। ফলে অর্থনীতির ভিত্তি নড়বড়ে হয়ে যাচ্ছে। এটি একটি দুঃখজনক ব্যাপার যে, খাদ্য ও স্বাস্থ্যের প্রয়োজনীয় উপাদানের অভাবে প্রতিনিয়ত বহু মানুষ মারা যাচ্ছে।

অক্সফামের তথ্য অনুযায়ী, করোনা মহামারি বিশ্বব্যাপী ১৬০ মিলিয়ন মানুষকে দারিদ্র্যের মধ্যে নিমজ্জিত করেছে। এছাড়া অসমতা ও বৈষম্য বেড়ে যাওয়ায় জাতিগত অ-শ্বেতাঙ্গ সংখ্যালঘু এবং নারীরা দারিদ্র্যের শিকার হয়েছেন তুলনামূলক বেশি।

আর তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্বব্যাপী ভ্যাকসিন উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা, জলবায়ু পরিবর্তন এবং লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা হ্রাসে আরও অর্থায়ন বাড়িয়ে কর সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছে অক্সফাম।

আগামীনিউজ/বুরহান