Agaminews
Dr. Neem Hakim

পেঁপে চাষে ভাগ্য বদলের গল্প


আগামী নিউজ | মৌলভীবাজার প্রতিনিধি প্রকাশিত: জুন ২৯, ২০২০, ১০:২৭ এএম
পেঁপে চাষে ভাগ্য বদলের গল্প

মৌলভীবাজার: দেশের জনপ্রিয় ফল পেঁপে। পাকা পেঁপে খেতে খুবই সুস্বাদু। আর কাঁচা থাকতে সবজি হিসেবে রয়েছে এর ব্যাপক ব্যবহার। তবে বাজারে কাঁচা-পাকা এই দুই ধরনের পেঁপেরই প্রচুর চাহিদা রয়েছে। আর সেই পেঁপে চাষ করে নিজের ভাগ্যবদল করছেন মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার  ভূনবীর ইউনিয়নের শাসন ইলামপাড়া গ্রামের আসাদুজ্জামান।

তিনি জানান, ২০১১ সালে প্রথমে আমি লেবু দিয়ে চাষাবাদ শুরু করেছিলাম। মোটামুটি ভালো লাভ হচ্ছিলো। ২০১৬ সালের দিকে একদিন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা অজিত কুমাল পাল আমার বাগান দেখে বলেছিলেন, লেবুতে তো লাভের মুখ দেখতে ৩ বছর অপেক্ষা করতে হবে; তার চেয়ে তুমি যদি উন্নত জাতের বীজ সংগ্রহ করে পেঁপে চাষ করতে পারো তবে সবদিক থেকে তুমি লাভবান হতে পারবে। তার পরামর্শক্রমে এবং অনুপ্রেরণায় নিজের ২ বিঘা জমিতে পেঁপে চাষাবাদ শুরু করি।

তিনি আরো বলেন, পেঁপেতে লাভের মুখ দেখার পর ২০১৮ সালে ২ বিঘা জমি থেকে ১০ বিঘা জমিতে পেঁপের বাগান করি। তখন প্রায় ২ হাজার ৪শ চারা লাগাই। সে বছর ১২ লাখ টাকার পেঁপে বিক্রি করি। খরচ ছিল ৮ লাখ টাকা এবং লাভ হয় ৪ লাখ টাকা। 

২০১৯ সালে লেবু বাগানের ফাঁকে ফাঁকে আরও ১০ বিঘা জমিতে ১ হাজার চারা দিয়ে পেঁপে আবাদ করি। বছর শেষে ৬ লাখ টাকার পেঁপে বিক্রি করি। খরচ ছিল ৩ লাখ টাকা এবং লাভ হয় সাড়ে তিন লাখ টাকা। 

চলতি বছরের শুরুতে লেবু বাগানের গ্যাপে গ্যাপে নিজের ১০ বিঘা জমিতে ১ হাজার ২ শত চারা রোপণ করেছি। গাছগুলোতে ফল আসা শুরু হয়েছে। আর অল্প কিছুদিনের মধ্যেই এগুলো বাজারে বিক্রি করবো।   

এ প্রসঙ্গে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা অজিত কুমাল পাল বলেন, পেঁপে চাষাবাদ অন্য সবজি থেকে অধিকতর কঠিন। এটি উৎপাদন স্পর্শকাতর সবজি। তবে আসাদুজ্জামান প্রবল আগ্রহ আর কঠিন পরিশ্রমের মাধ্যমে পেঁপেতে সফলতা লাভ করে নিজে ভাগ্যবদল করেছেন। এলাকায় এখন তিনি অনুকরণীয় কৃষক।

আগামীনিউজ/এমআর 

Dr. Neem