Dr. Neem on Daraz
independent day of bangladesh

শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হবে না কোনো শিশু: প্রধানমন্ত্রী


আগামী নিউজ | জেলা প্রতিনিধি, গোপালগঞ্জ প্রকাশিত: মার্চ ১৭, ২০২৩, ০১:৫২ পিএম
শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হবে না কোনো শিশু: প্রধানমন্ত্রী

গোপালগঞ্জঃ স্মার্ট বাংলাদেশের কোনো শিশুই শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হবে না বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শুক্রবার (১৭ মার্চ) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে টুঙ্গিপাড়ায় আয়োজিত শিশু সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্মার্ট বাংলাদেশের কোনো শিশু শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হবে না। আজকের শিশুরাই হবে আগামী দিনের স্মার্ট জনগোষ্ঠী, যারা আগামীতে এগিয়ে নেবে দেশকে।

সরকারপ্রধান বলেন, জাতির পিতার আদর্শেই শিশুদের বিনামূল্যে বই ও উপবৃত্তি তুলে দিচ্ছে আওয়ামী লীগ।

আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় এসেছে তখনই শিশুদের কথা বিবেচনা করে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, শিশুরা যাতে যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠে সেটাই তার সরকারের লক্ষ্য।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় এসেছে, শিশুদের কথা বিবেচনায় নিয়েই বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। বিভিন্ন আইন প্রণয়ন করে নারী ও শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করেছি। ১ কোটি ২০ লাখ শিশুকে উপবৃত্তি দিচ্ছি। সব মিলিয়ে উপবৃত্তি পাচ্ছে ২ কোটি শিক্ষার্থী।

শেখ হাসিনা বলেন, শিশুদের খেলাধুলা, শরীরচর্চার দিকে নজর দিতে হবে। মেনে চলতে হবে অভিভাবক ও শিক্ষকদের। হতে হবে মানবিক গুণসম্পন্ন ও সহানুভূতিশীল। আত্মবিশ্বাস নিয়ে গড়ে উঠবে শিশুরা। মানুষের জন্য কাজ, মানুষের জন্য ত্যাগ করতে হবে-সেভাবেই গড়ে উঠতে হবে।

কোনো মানুষ ভূমিহীন ও গৃহহীন থাকবে না উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু আজ আমাদের মধ্যে নেই, কিন্তু তার আদর্শ আছে। তার আদর্শ নিয়েই এগিয়ে যাব আমরা। কোনো মানুষ গৃহহীন থাকবে না। সবাই পাবে মৌলিক অধিকার।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু জীবনটাকে উৎসর্গ করেছিলেন বাংলার মানুষের মুক্তির জন্য। তার ভেতরে যে মানসিকতা ছিল, মানুষের প্রতি দরদ ছিল এটা কিন্তু ছোটবেলা থেকেই প্রকাশ পেয়েছিল। স্কুলে যখন পড়তেন তখন যার বই নেই তাকে নিজের বই দিয়ে দিতেন। গায়ের জামা কাপড় দরিদ্র মানুষকে বিলিয়ে দিতেন। এমনকি দুর্ভিক্ষের সময় নিজের গোলার ধানও মানুষকে বিলিয়ে দিয়েছেন। ছোটবেলা থেকে এই বিষয়গুলো  লক্ষ্য করেছিলেন আমার দাদা-দাদি। বড় হয়ে যারা শোষিত ও বঞ্চিত ছিল, একবেলা খাবার পেত না, যাদের কোনো পুষ্টি ছিল না, রোগের চিকিৎসা করার সামর্থ্য ছিল না, ঘরবাড়ি ছিল না সেই সব মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে তিনি সংগ্রাম করেছেন। আজ আমরা মাতৃভাষায় কথা বলতে পারি, বাংলা ভাষায় কথা বলতে পারি। সেই ৪৮ সাল থেকেই এই আন্দোলন তিনি শুরু করেছিলেন। তারই নেতৃত্বে আমরা পেয়েছি স্বাধীনতা, স্বাধীন জাতি হিসেবে আত্মপরিচয়। কাজেই জাতির পিতার এই জন্মদিনটিকে আমরা শিশু দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছি। 

শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী। এ সময় সেনা, নৌ এবং বিমান বাহিনীর একটি চৌকস দল গার্ড অব অনার প্রদান করে। পরে পচাত্তরে নিহত বঙ্গবন্ধুসহ পরিবারের সব শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন তারা। 

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে প্রধানমন্ত্রী মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত শিশু সমাবেশে যোগ দিয়েছেন। এ বছর জাতীয় শিশু দিবসের প্রতিপাদ্য হলো ‘স্মার্ট বাংলাদেশের স্বপ্নে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন, শিশুদের চোখ সমৃদ্ধির স্বপ্নে রঙিন’।

বুইউ