ফের সীমান্ত থেকে ভেসে আসছে গোলাগুলির শব্দ


আগামী নিউজ | জেলা প্রতিনিধি, কক্সবাজার প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২২, ১১:৩০ পিএম
ফের সীমান্ত থেকে ভেসে আসছে গোলাগুলির শব্দ

কক্সবাজারঃ কক্সবাজারের টেকনাফ শাহপরীর দ্বীপে মিয়ানমার থেকে ভেসে আসা বিকট গুলির  শব্দ শোনা গেছে। এতে নতুন করে রোহিঙ্গা ঢলের আশঙ্কা করছে স্থানীয়রা৷ বুধবার বিকেল থেকে সন্ধ্যা অবধি  প্রায় ১২-১৫ বার এই শব্দ শোনা গেছে।

টেকনাফ ২-বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে.কর্নেল শেখ খালিদ মোহাম্মদ ইফতেখার  বলেন, ‘সীমান্তজুড়ে মিয়ানমারের ভেতরে সংঘর্ষ চলছে। ফলে এপারে মাঝেমধ্যে গোলার শব্দ পাওয়া যায়। আমাদের বিজিবি যেকোনো পরিস্থিতি ঠেকাতে কঠোর অবস্থানে রয়েছি। বিশেষ করে সীমান্তের বাসিন্দারা যাতে কোনো ভয়ভীতির মধ্যে না থাকে সে ব্যাপারে কাজ করে যাচ্ছি। অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধেও সর্তক অবস্থানে আছে বিজিবি।

এছাড়া বুধবার বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নের নাজির পাড়া থেকে শাহপরীর দ্বীপ সীমান্তের বসবাসকারীরা ভারি অস্ত্রের গুলির শব্দ পেয়েছেন বলে জানান। নাফ নদী ও সমুদ্রঘেরা এই ইউনিয়নে লক্ষাধিক মানুষের বসতি। বসতিদের একটি বড় অংশ নাফ নদীর তীরবর্তী এলাকায় থাকেন।

সীমান্তের বাসিন্দারা জানান, টেকনাফের নাজির পাড়া ও শাহপরীর দ্বীপের ওপারে মিয়ানমারের পাতংজা পাড়া ও মগ্নি পাড়ার অবস্থান। বিকেলে সেখানে গোলাগুলি হয়েছে। যার শব্দ শুনতে পাওয়া গেছে। এমন পরিস্থিতিতে সীমান্তের বাসিন্দারা আশংকা করছেন, আবারও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের ঢল নামতে পারে। কারণ, ২০১৭ সালে ২৫ আগস্ট রোহিঙ্গা একটি বড় অংশ এই এলাকা দিয়ে অনুপ্রবেশ করেছিল।

সীমান্তের নাজির পাড়ার বাসিন্দা ছৈয়দ আলম  বলেন, ‘সীমান্তের ওপারে মিয়ানমার থেকে গুলির শব্দ পাওয়া গেছে। সীমান্তে আমাদের বিজিবি টহলে আছে। সাধারণ মানুষকে আতংকিত না হতে বলা হয়েছে।

সীমান্তের শাহপরীর দ্বীপ ইউপি সদস্য আবদুস সালাম বলেন, ‘বিকেলে এলাকার লোকজন বিকট শব্দ পেয়েছেন। বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের অবগত করেছি।

ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদ  সদস্য মো. আলম বলেন, গত দেড় মাস ধরে তুমব্রু সীমান্তে মর্টারশেল ও গোলাগুলি চলছিল। তবে গত দুইদিন ধরে সীমান্তে  বড় ধরনের কোনো  গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়নি।

শাহপরীর দ্বীপে নাফ নদী তীরের বাসিন্দা আবুল কাশেম  বলেন, ‘বিকেলে নাফ নদীর বেড়িবাঁধে বসেছিলাম। হঠাৎ মিয়ানমার সীমান্তে বিকট গুলির শব্দ শুনতে পাই। এতে নারী-শিশুরা ভয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে আসে। পরে বুঝতে পারি ওপারে সংঘর্ষের শব্দ এপারে পাওয়া যাচ্ছে। অন্তত ১২-১৫ বার শব্দ শোনা গেছে। এখানকার লোকজন বলাবলি করছে হয়তো আবারও রোহিঙ্গাদের ঢল নামতে পারে।

তবে নতুন করে কোনো রোহিঙ্গা ঢুকতে দেওয়া হবে না উল্লেখ করে টেকনাফ উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা এরফানুল হক চৌধুরী বলেন, ‘সীমান্তের কাছাকাছি যেসব জায়গায় গোলাগুলির শব্দ পাওয়া যাচ্ছে সেখানকার বাসিন্দাদের আমরা খোঁজ-খবর রাখছি। পাশাপাশি এসব এলাকার বাসিন্দাদের তালিকা তৈরি করছি। যাতে পরিস্থিতি বুঝে ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হয়।

এসএস