Dr. Neem on Daraz
Dr. Neem Hakim

স্কুলছাত্রীর বিরুদ্ধে উল্টো মামলা


আগামী নিউজ | জেলা প্রতিনিধি, নেত্রকোণা প্রকাশিত: মে ২৪, ২০২২, ০৬:৩৭ পিএম
স্কুলছাত্রীর বিরুদ্ধে উল্টো মামলা

নেত্রকোণা: নেত্রকোণা জেলার মোহনগঞ্জের জখমী স্কুলছাত্রী তাছলিমা আক্তারের নামে এবার উল্টো মামলা দায়ের করা হয়েছে। তার ওপর হামলাকারী মুন্না মিয়ার বাবা সারোয়ার জাহান (তাইজ্জুত) বাদী হয়ে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

সোমবার নেত্রকোনার আমলী আদালতে এ মামলা করা হয়। এ মামলায় ছাত্রীকে জখম করার মুল আসামি মুন্নাকে স্বাক্ষী করা হয়েছে।

মঙ্গল বার মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণ থেকে জানা গেছে, তাছলিমা (স্কুলছাত্রী) উছৃঙ্খল প্রকৃতির। কারো বাধা নিষেধ না মেনে যেভাবে খুশি চলাফেরা করে। এসব বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে আসামিরা দেশিয় মারাত্বক অস্ত্র নিয়ে বাদীকে আক্রমণ করতে যায়। পরে বাদী দৌড়ে বাড়িতে প্রবেশ করে দরজা লাগিয়ে দেয়। পরে ঘরের দরজা ভেঙে তাছলিমা (ওই ছাত্রী) বাদী সারোয়ার জাহানকে চুলের মুটি ধরে ঘরে বাইরে এনে পড়নের কাপড় ছিড়ে শ্লীলতাহানী করে। স্বাক্ষীসহ ফেরাতে আসা অনেককে মারধর করে। এক পর্যায়ে ঘরে থাকা নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকারসহ মোট ২ লাখ ৭৫ টাকার মালামাল চুরি করে। শেষে অশ্লীল গালাগাল করে ও ‘যদি আইন আদালত করিস তাহলে খবর আছে’ এমন হুমকি দিয়ে চয়ে যায়।

স্কুলছাত্রীর বাবা শফিকুল  ইসলাম এ মামলার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ঘটনা ধামাচাপা দিতে প্রতিপক্ষ আমার মেয়েকে চরিত্রহীনা বলে প্রচারণা চালাচ্ছে। এমনকি সে ছাত্রী নয়, পড়াশোনা করে না বলেও প্রচার করছে।আমাদেরকে বিপদে ফেলার জন্য উল্টো তারা মামলা করেছে। এটি একটি উদ্দেশ্য প্রণোদিত ও ভিত্তিহীন মামলা। আমার মেয়েকে কুপিয়ে জখম করার পর তাকে নিয়ে এখন পর্যন্ত হাসপাতালে রয়েছি। তাহলে এমন ঘটনা ঘটনানো কিভাবে সম্ভব। আশা করি আদালতে ন্যায় বিচার পাব। মেয়েটি এসএসসি পরীক্ষার্থী তার টেস্ট পরীক্ষা চলছে। প্রথম পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার পর তাকে কুপিয়ে জখম করেছে মুন্না। বাকি পরীক্ষাগুলো দিতে পারছে না।

স্থানীয় খান বাহাদুর কবির উদ্দিন খান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম মৌলা বলেন, তাছলিমা আমার বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী। সে এবারের এসএসসি পরীক্ষার্থী। চলমান টেস্ট পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে। কিন্তু প্রথম পরীক্ষা দেওয়ার পর তাকে জখম করার ঘটনা শুনেছি। বর্তমানে সে মোহনগঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। ঘটনার পরদিন শিক্ষকদের সাথে নিয়ে হাসপাতালে গিয়ে তাকে দেখে এসেছি।

মোহনগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রাশেদুল হাসান বলেন, এ মামলার কোনো কাগজপত্র এখনো থানায় পৌছেনি। আর ওই ছাত্রীকে জখমের মামলার আসামিরা পলাতক আছে। তাদের ধরতে চেষ্টা চলছে।

সালাহ উদ্দীন খান রুবেল/এসএস