Dr. Neem on Daraz
Dr. Neem Hakim

নির্বাচন কমিশন একটা ঠুঁটো জগন্নাথ: তৈমূর


আগামী নিউজ | নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৪, ২০২২, ০১:৫৩ পিএম
নির্বাচন কমিশন একটা ঠুঁটো জগন্নাথ: তৈমূর

সংবাদ সম্মেলনে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী তৈমূর আলম খন্দকার। ছবিঃ সংগৃহীত

নারায়ণগঞ্জঃ সিটি করপোরেশন (নাসিক) নির্বাচনের স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী তৈমূর আলম খন্দকার বলেছেন, আচরণবিধি লঙ্ঘনের ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনকে বারবার জানানো হয়েছে। তারা শুধু আশ্বাস দিয়েছে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। জনগণের মনের ধারণা নির্বাচন কমিশন একটা ঠুঁটো জগন্নাথ। তারা সেই পথেই হাঁটছেন। এরপরও আমি নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থা রাখতে চাই।

শুক্রবার (১৪ জানুয়ারি) সকালে শহরের মমিশনপাড়া এলাকার নির্বাচনী ক্যাম্পে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন

বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হাতি মার্কার এ প্রার্থী বলেন, ১৬ ডিসেম্বর বিএনপির বিজয় র‍্যালিতে আমি রিটার্নিং অফিসারের নির্দেশে যাইনি। অথচ সরকারি দলের প্রার্থী এমপিদের নিয়ে একের পর এক সমাবেশ করে যাচ্ছেন। তারা আমাকে ও আমার কর্মীদের হুমকি দিচ্ছেন। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনে তিনটি অভিযোগ দিয়েছি। 

তিনি বলেন, তোড়ণ নির্মাণ ও সড়ক দখল করে মার্কা স্থাপন করা আচরণবিধির লঙ্ঘন। প্রশাসন আশ্বাস দিয়েছিল তারা তোড়ণ ভেঙে দেবে। কিন্তু তারা সেটা করেনি। এছাড়াও অন্যান্য আচরনবিধি লঙ্ঘনের ব্যাপারেও বারবার অবহিত করা হয়েছে। তারা শুধু আশ্বাস দিয়েছে কোনও কার্যকর ব্যাবস্থা নেয়নি।

অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার বলেন, নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন হোটেলগুলো চেক করলেই দেখতে পারবেন বিভিন্ন জেলার সরকার দলীয় নেতারা এখানে অবস্থান করছে। সার্কিট হাউস, ডাক বাংলাকে নির্বাচনের কাজে ব্যাবহার করা হচ্ছে। আইনানুসারে সরকারি কোনো গাড়ি ও ডাকবাংলো ব্যাবহার করার নিয়ম নেই। এটা আচরণবিধি লঙ্ঘন। এই আচরণবিধি লঙ্ঘন করেই সরকারি দলের মেহমানরা নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে।

তিনি আরও বলেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানক তার কিছু সঙ্গী নিয়ে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সঙ্গে আলাপ করেছেন। তিনি অবশ্য বলেছেন নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে যাননি। কিন্তু তার বক্তব্য ও দেখা করতে যাওয়ার সঙ্গে কোনো সমন্বয় নেই। প্রথমত তিনি নির্বাচনের আগে কোনোভাবেই প্রশাসনের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে পারেন না। তিনি নারায়ণগঞ্জের নাগরিকও না। এটা আইনগতভাবে আমি অন্যায় মনে করি। তিনি জনমনে ধোঁয়াশা সৃষ্টি করছেন। এটা একজন উচ্চ পর্যায়ের সম্মানিত নেতার কাছ থেকে আমরা আশা করি না।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশে তৈমূর বলেন, ‘তাদের এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জনগণ সন্দিহান হয়ে পড়েছে। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই, নারায়ণগঞ্জের মানুষ প্রত্যাশা করে আপনি এ দেশের সর্বোচ্চ ক্ষমতার মালিক হয়ে নারায়ণগঞ্জের নির্বাচনকে নির্বিঘ্নে, স্বচ্ছ এবং সুন্দরভাবে করার জন্য ব্যবস্থা নিবেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘গুজব ছড়ানো হচ্ছে, আমি নাকি বসে পড়ব। বসে পড়ার জন্য নির্বাচনে নামিনি। নির্বাচন করার জন্য নেমেছি। আমি একটা দল করি। আমি বিএনপির একজন সক্রিয় সদস্য। এই দলের জন্য রাজপথে গুলিবিদ্ধ হয়েছি। মিডিয়াতে দেখেছেন পুলিশ কতবার শারীরিকভাবে নির্যাতিত করেছে।

‘তখন আমি দলের ক্যান্ডিডেট ছিলাম। নেত্রীর নির্দেশে আমি সরে দাঁড়াই। আজ পর্যন্ত জিজ্ঞেস করিনি কেন আমাকে সরিয়ে দেয়া হলো। কারণ আমি মনে করি আমি দল করি; দলের প্রতি আমার অনুগত থাকা দরকার। তাই আমি দলের প্রতি আমার দায়িত্ব পালন করেছি।’

নারায়ণগঞ্জ সিটিতে এবারের নির্বাচনে স্বতন্ত্র হিসেবে অংশগ্রহণ নিয়ে তৈমূর বলেন, ‘ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ নারায়ণগঞ্জের একটি সভায় বলেছিলেন, একজন প্রার্থীকে বিজয়ী করতে এবং আরেকজনকে পরাজিত করতে আমরা তৈমূরকে বসিয়েছি। সেটাও আমি মাথা পেতে নিয়েছি।

‘২০১৬ সালে আমাকে মনোনীত করা হলেও আমি নির্বাচন করিনি। শহরবাসীকে দুর্ভোগ লাঘবের জন্যেই আজ আমাকে নির্বাচনে নামতে হয়েছে।’

বক্তব্যে পুলিশ তার ১৭ জন নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার অনুরোধ, যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদেরকে ছেড়ে দেয়ার জন্য।’

‘ঢাকা থেকে বড় বড় লোকরা এসে প্রভাব বিস্তার করছে, প্রশানের উপর চাপ দিচ্ছে; নির্বাচন কমিশনকে এগুলো বন্ধ করতে হবে। গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয়ে নেতা-কর্মী এবং পোলিং এজেন্টদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। তবুও আমি এ নির্বাচনের শেষ পর্যন্ত থাকব।’

আগামীনিউজ/বুরহান