Dr. Neem
Dr. Neem Hakim

ইঁদুরের গর্তে লুকিয়ে থাকে তাদের আনন্দ


আগামী নিউজ | রাসেল কবির মুরাদ, কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি প্রকাশিত: নভেম্বর ২৭, ২০২১, ০৪:৪৪ পিএম
ইঁদুরের গর্তে লুকিয়ে থাকে তাদের আনন্দ

ছবি: আগামী নিউজ

কলাপাড়া (পটুয়াখালী): কলাপাড়ায় ধানক্ষেত থেকে কেটে নেওয়া ধান ইঁদুরের গর্তে খুঁজে বেড়াচ্ছে ধান কুড়ানি শিশু-কিশোররা। কারো হাতে দা-কোদাল-খোন্তা। আবার কারো হাতে ব্যাগ। আমন ধানের ক্ষেত থেকে সদ্য সাফ হওয়া ইঁদুরের জমানো ধানে ভাগ বসাচ্ছে এ শিশু-কিশোররা। এছাড়াও ক্ষেতে পড়ে থাকা ধানের শিষের মালিকও তারা। গ্রামের পর গ্রাম জুড়ে দেখা যাচ্ছে এ দৃশ্য। প্রতিদিনই এসব ধান কুড়ানি শিশুরা দল বেঁধে ছুটে যায় থানক্ষেতে। দম ফেলার ফুসরত নেই তাদের। ইঁদুরের গর্ত ও ঝরে পড়া ধান দেখলেই এ শিশুদের চোখে-মুখে ফুটে উঠছে হাসির ঝিলিক।

স্থানীয় সূত্র ও সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সকালের রোদ কিছুটা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ধানের ক্ষেতে ভিড় করে ছোট ছোট শিশুর দল। ধান কাটার পরে নাড়ার সাথে দুই/এক গোছা ধান থাকলে সেগুলো কুড়িয়ে নেয় ওরা। এছাড়াও গ্রামের হতদরিদ্র পরিবারের বউ-ঝিরা ধান কুড়িয়ে নিচ্ছেন। আমন ধান কাটার  মৌসুমে অনেক শিশু-কিশোর স্কুলে না গিয়ে দিন পার করছে ফসলের মাঠে ইঁদুরের গর্তের ধান সংগ্রহে।

বালিয়াতলী ইউনিয়নের তুলাতলী গ্রামে ক্ষেতে পরিত্যক্ত ধান কুড়াতে ব্যস্ত ছোট্ট শিশু আয়েশার সারা গায়ে লেগে আছে কাদা-মাখা ছোপ ছোপ দাগ। একটু পাশেই দেখা যায় শিশু রনি, বাতুল, হাসনু ও নিতু ইঁদুরের গর্ত থেকে ধান তোলার সবার্ন্তকরন চেষ্টা করছে। এদের একজন নয়ন এ প্রতিনিধিকে বলেন, কৃষকরা মাঠ থেকে ধান কেটে নিয়ে যাওয়ার পর এমনিতেই অনেক ধানের ছড়া ধানক্ষেতে পড়ে থাকে। ওগুলো আমরা কুড়িয়ে নেই এবং ইঁদুরের গর্ত খুঁড়লেই পাওয়া যায় প্রচুর ধান। প্রতি গর্ত থেকে ১০ কেজির বেশি ধান পাই। ধান যখন পরিমানে অনেক বেশী হবে তখন তা বিক্রি করা হবে।

কৃষক রফিকুল আলম এ প্রতিবেদককে জানায়, ফসলের মাঠে ধান কুড়াতে ক্ষেতে এ শিশুদের দল প্রতিনিয়তই হুমড়ি খেয়ে পড়ছে। এ শিশুদের টার্গেট হলো ক্ষেতে ঝরে পড়া কিংবা ইঁদুরে কেটে নেওয়া ধান সংগ্রহ। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পযর্ন্ত এ শিশু-কিশোররা ইঁদুরের গর্তে মাটি খোঁড়াখুঁড়িতে ব্যস্ত থাকে।

পশ্চিম তুলাতলী গ্রামের জয়নাল আবেদীন সাংবাদিকদের বলেন, ধান ক্ষেত থেকে ইঁদুর ধানের শিষ কেটে নিয়ে তাদের আপৎকালীন খাদ্য হিসেবে গর্তে জমায়। এসব শিশু-কিশোররা ইঁদুরের সেই গর্ত খুঁড়ে ধান  বের করে আনে। একাজে ঝুঁকিও রয়েছে প্রচুর। কখনো কখোনো ওই ইঁদুরের গর্তে বিষধর সাপও থাকতে পারে। তারপরও ধান কাটার এ মৌসুমকে ঘিরে অভাবী পরিবারের লোকজন জড়িয়ে পড়ে একাজে।

কলাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এ আর এম সাইফুল্লাহ গনমাধ্যমকে বলেন, ইঁদুরের গর্ত খুঁড়ে ধান বের করা, যা মোটেই নিরাপদ নয়। গর্তে থাকতে পারে বিষধর সাপ । তবে আধুনিক পদ্ধতিতে কৃষকরা ক্ষেতের ধান কাটলে মাঠে ধান পড়ে থাকবে না। এতে কৃষকরাও উপকৃত হবে। এছাড়া ইদুর নিধনের জন্য কৃষকদের বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

আগামীনিউজ/ হাসান