Dr. Neem
Dr. Neem Hakim

নৌকার মনোনয়ন না পেয়ে নেত্রকোণায় আ.লীগের একাধিক প্রার্থী


আগামী নিউজ | নেত্রকোণা প্রতিনিধি প্রকাশিত: অক্টোবর ১৯, ২০২১, ০২:৪৩ পিএম
নৌকার মনোনয়ন না পেয়ে নেত্রকোণায় আ.লীগের একাধিক প্রার্থী

ছবি: আগামী নিউজ

নেত্রকোণা: জেলার ৩ উপজেলার ২৬ টি ইউনিয়নে আগামী ১১ নভেম্বর দ্বিতীয় ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এরই মধ্যে ঘোষিত ওই ইউনিয়নে দলের মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে আওয়ামীলীগ। কিন্তু ওই তালিকায় আওয়ামীলীগের তৃণমূলের অনেক জনপ্রিয় প্রার্থীদের ঠাঁই হয়নি। স্থানীয়ভাবে জনপ্রিয় মনোনয়ন বঞ্চিত অনেকেই ভোটারদের দাবিতে রয়েছেন নির্বাচনী মাঠে। এমন দাবী মনোনয়ন বঞ্চিত প্রার্থীদের।

তবে ভোটাররা বলছেন, বিএনপি মাঠে না থাকায় ভোটে স্বতন্ত্র প্রার্থী থাকলে তারা তাদের পছন্দের প্রার্থীদের বেছে নিতে পারবেন। প্রতিটি ইউনিয়নে রয়েছে আওয়ামীলীগের একাধিক প্রার্থী।

স্থানীয় সূত্র বলছে, দীর্ঘদিন মাঠে কাজ করে আসা পরীক্ষিত নেতাদের অনেকেই দলীয় মনোনয়ন বাছাইয়ে বাদ পড়েছেন। এক্ষেত্রে কেন্দ্র থেকে দেয়া দলীয় প্রার্থীকে মেনে নিতে পারছেন না অনেকেই।

ইতিমধ্যে কেন্দ্র থেকে বাছাই করা নেত্রকোণা সদরের লক্ষিগঞ্জ ইউনিয়নের আওয়ামীলীগের এক প্রার্থীকে পরিবর্তন করে আওয়ামীলীগের অন্য প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছে। এমনকি স্থানীয়ভাবে বির্তকিত, হত্যা মামলার আসামী,  এলাকায় অপেক্ষাকৃত কম জনপ্রিয় প্রার্থীদের নিয়ে বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় নেতৃবৃন্দও।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নেতাকর্মী বলেন, কেন্দ্র থেকে যে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে তাদের নিয়ে নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়া কঠিন হবে। হ্যাভিওয়েট প্রার্থীদের বাদ দিয়ে উপজেলা/জেলার নেতাদের পছন্দের প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। কিন্তু মাঠে তাদের একদম জনপ্রিয়তা নেই। এক্ষেত্রে মনোনয়ন বঞ্চিত প্রার্থীর বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। 

নেত্রকোণা সদরের রৌহা ইউনিয়নের আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী (জনপ্রিয় সংগীত শিল্পী ও উপমহাদেশের প্রখ্যাত বংশীবাদক মরহুম বারী সিদ্দিকীর স্ত্রী) ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, ‘গত নির্বাচনে স্থানীয় ২/১জন স্বার্থান্বেষী নেতার পরামর্শে জেলা আওয়ামীলীগের একটি মহলের যোগসাজশে মাত্র ২৩ ভোটে আমি পরাজিত হয়েছিলাম। দলের সভানেত্রীর ঘোষণামতে আমি নারী প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পাওয়ার কথা ছিল। আমার জেলায় মাত্র তিন জন নারী প্রার্থী মনোনয়ন চেয়েছিলাম। কিন্তু একজনকেও দেয়া হয়নি। এবারও আমি স্থানীয় ৪/৫ নেতা-কর্মীর ষড়যন্ত্রের স্বীকার হয়ে আওয়ামীলীগের নৌকা প্রতীকের মনোনয়ন পায়নি। তবে গত ১০ বছর ধরে নারী হয়ে মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে জন সমর্থন নিয়েছি। এখন নির্বাচন ছাড়া আমার কোনো পথ নাই। দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ায় আমার কর্মী সমর্থকরা বাড়ি ছাড়ছে না। আমার বাবা বীরমুক্তিযোদ্ধা ও ভাষাসৈনিক ছিলেন, সেই সঙ্গে আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাতা সংগঠক ছিলেন। তিনি ওই ইউনিয়নের ৩ বারের চেয়ারম্যান ছিলেন। সেই হিসেবে আমি সাথে থেকে কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলাম। ’

বারহাট্টা উপজেলার সিংধা ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী সন্ধ্যা রাণী বলেন,আমার ইউনিয়নে বির্তকিত লোককে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। আমি মাঠে ঘাটে কাজ করেছি। ভোটারদের কথায়, চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়ছি। ভোটাররা ভোট দিতে পারলে আমি বিজয়ী হবো।

আগামীনিউজ/ হাসান