Dr. Neem
Dr. Neem Hakim

৭০ বছর পর ছেলে ফিরলেন মায়ের বুকে (ভিডিও)


আগামী নিউজ | ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২১, ০৭:৪৪ পিএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়া: গল্পের শুরুটা ৭০ বছর আগে। অনেকটা সিনেমার মতো। চাচার সঙ্গে রাজশাহী বেড়াতে গিয়ে হারিয়ে যান ১০ বছর বয়সি আবদুল কুদ্দুস মুনশি। এরপর অনেকটা সময় পেরিয়েছে। কিন্তু কুদ্দুসের কোনো খোঁজ মেলেনি। ফিরতে পারেননি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নিজের গ্রামে। প্রাপ্তবয়স্ক কুদ্দুস সংসার পাতেন রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার বারুইপাড়ায়। এখন তিনি আট সন্তানের জনক। স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে সুখে-শান্তিতে দিন কাটলেও নিজের মা ও স্বজনদের ফিরে পাওয়ার জন্য ডুকরে কাঁদত কুদ্দুসের মন।

কুদ্দুস ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার সলিমগঞ্জ ইউনিয়নের বাড্ডা গ্রামের মৃত কালু মুনশির ছেলে। তিন ভাই-বোনের মধ্যে সবার বড় তিনি। তার দুই বোনের মধ্যে জ্যোৎস্না আক্তার মারা গেছেন। কুদ্দুস এখন ৮০ বছরের বৃদ্ধ। জীবনসায়াহ্নে এসে মায়ের খোঁজ পেয়েছেন তিনি।

৭০ বছর পর গতকাল শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ছলিমাবাদ ইউনিয়নের আশরাফবাদ গ্রামে ছোট বোন ঝরনা আক্তারের শ্বশুরবাড়িতে মা মঙ্গলেমা বিবি ওরফে মঙ্গলুন্নেসার সঙ্গে দেখা হয় কুদ্দুসের। মাকে দেখার পর আপ্লুত হয়ে কিছুক্ষণ জড়িয়ে ধরে রাখেন। এরপর মায়ের হাত ধরে কয়েকবার চুমু খান। চোখ ভেজান কান্নায়। ১১৫ বছরের মঙ্গলুন্নেসাও সন্তানের হাত ধরে চুমু খান।

মা-ছেলের এই দৃশ্য দেখে আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন উপস্থিত সবাই। গত এপ্রিলে ফেসবুকে বৃদ্ধ কুদ্দুস মুনশির স্বজনদের সন্ধান চেয়ে একটি ভিডিও পোস্ট করেন রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার বারুইপাড়ার বাসিন্দা খান মোহাম্মদ আইয়ূব। সেই ভিডিও নজরে আসে কুদ্দুসের চাচাতো ভাইয়ের নাতি শফিকুল ইসলামের। সেই ভিডিওর সূত্র ধরেই শফিকুল ইসলামসহ আরো কয়েকজন রাজশাহী যান কুদ্দুসের কাছে। এরপর ভিডিওকলে মা মঙ্গলুন্নেসার সঙ্গে কথা বলিয়ে দেন। কুদ্দুসের হাতে ছোটবেলার কাটা দাগ দেখে তাকে চিনতে পারেন মঙ্গলুন্নেসা।

দীর্ঘদিন পর মাকে পেয়ে আপ্লুত কুদ্দুস মুনশি বলেন, মায়ের কাছ থেকে দূরে থাকলেও সব সময় তার স্মৃতি মনে পড়ত। মাকে ফিরে পাব, সেটা কখনোই ভাবিনি।

এদিকে, বয়সের ভারে ন্যুব্জ মঙ্গলুন্নেসা হারানো ছেলেকে ফিরে পাওয়ার আনন্দ ইশারায় প্রকাশ করলেও মুখে তেমন কিছু বলতে পারেননি।