Dr. Neem
Dr. Neem Hakim

নেত্রকোণা জেলা আ‍‍`লীগের সাধারণ সম্পাদক পদ প্রার্থী অধ্যাপক ওমর ফারুক


আগামী নিউজ | সালাহ উদ্দীন খান রুবেল, নেত্রকোণা প্রতিনিধি প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২১, ১১:৩৫ এএম
নেত্রকোণা জেলা  আ‍‍`লীগের সাধারণ সম্পাদক পদ প্রার্থী অধ্যাপক ওমর ফারুক

ছবি: সংগৃহীত

নেত্রকোণাঃ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী টেবিলে পড়তে থাকা অবস্থায় তার বাবা হাত ধরে নিয়ে যোগদান করিয়েছিলো ছাত্রলীগের মিছিলে যার নাম ওমর ফারুক, বর্তমানে জেলা আওয়ামী লীগের সম্মানিত সদস্য ও অধ্যাপনা পেশায় নিয়োজিত, তিনি ভাষাসৈনিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা’র সন্তান, আওয়ামী লীগের এই বিপ্লবী, সংগ্রামী এবং আপোষহীন রাজনীতিবিদ নেত্রকোণা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হয়েছেন।

নেত্রকোণা সদর উপজেলার রৌহা ইউনিয়ন পরিষদের বার বারের প্রাক্তন চেয়াররম্যান, আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সংগঠক- নেত্রকোণা সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক, প্রাক্তন সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের প্রাক্তন সহ-সভাপতি এবং ভাষা সৈনিক-বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম নূরুল হুদা -এঁর সুযোগ্য সন্তান অধ্যাপক ওমর ফারুক। তিনি নেত্রকোণা সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক ক্রীড়া সম্পাদক, নেত্রকোণা জেলা ছাত্রলীগের সাবেক দুইবারের সাধারণ সম্পাদক, আওয়ামী যুবলীগ জেলা শাখার সাবেক আহ্বায়ক বর্তমানে নেত্রকোণা জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সম্মানিত সদস্য।

অধ্যাপক ওমর ফারুক জানান- তৃণমূল থেকে উঠে এসেছি, সেই ১৯৭৩/৭৪সালের দিকের কথা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী থাকা অবস্থায় আওয়ামী লীগ ও সকল সহযোগি সহ অঙ্গসংগঠনের বিক্ষোভ মিছিল, সভা-সমাবেশ এবং আওয়ামীলীগের বিভিন্ন কর্মসূচীতে অংশগ্রহনের মধ্য দিয়ে বাবার হাত ধরে রাজনীতিতে পর্দাপণ করি সেই সঙ্গে বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ অনুপ্রাণিত হয়ে ১৯৭৮ সালে নবম শ্রেণির ছাত্র থাকাবস্থায় বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্রাথমিক সদস্যপদ লাভ করি। ১৯৭৯ সালে দশম শ্রেণিতে অধ্যয়নকালীন জিয়া সরকারের পতনের আন্দোলনে কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে নেত্রকোণা সদর সহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করি। ১৯৮০ সালে এইচ.এস.সি প্রথম বর্ষে অধ্যয়নরত অবস্থায় বাংলাদেশ ছাত্রলীগ মনোনীত প্যানেলে নেত্রকোণা সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদে শিক্ষার্থীদের বিপুল ভোটে ক্রীড়া সম্পাদক পদে জয়লাভ করি। ১৯৮১ সালে ১৭ই মে বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান -এঁর সুযোগ্য কন্যা, গণতন্ত্রের মানস কন্যা, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করার দিন জেলা আওয়ামী লীগের সকল সহযোগী ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ সহ বিমান বন্দরের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করি এবং ১৮ই মে তৎকালীন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক বাহালুল মজনু চন্নু এবং ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় ছাত্র সংসদের তৎকালীন কমনরুম সম্পাদক ও আটপাড়া-কেন্দুয়ার সাবেক এমপি মঞ্জুর কাদের কোরইশীর নেতৃত্বে জননেত্রী শেখ হাসিনার সহিত পরিচিত হই। ১৯৮২সালে ২৪শে মার্চ সামরিক শাসন জারি হওয়ার পর ১৯৮২হতে ১৯৮৪সাল পর্যন্ত জেলা ছাত্রলীগের দায়িত্ব নিয়ে স্বৈরাচার বিরোধী প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রাম বেগবান করার লক্ষ্যে সেই সঙ্গে স্বৈরাচার শাসক গোষ্ঠী হঠাও তারই সিদ্ধান্তে নেত্রকোণা জেলায় কেন্দ্রীয় সকল কর্মসূচী বাস্তবায়ন করি। পুনরায় ১৯৮৫হতে ১৯৮৭সাল পর্যন্ত জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব নিয়ে এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কর্মসূচী পালণ করতে গিয়ে গ্রেফতার হয়ে কারাবরণ করি। ১৯৯০সালে এরশাদ পতন আন্দোলনে গণঅভ্যূন্থানে জেলা ছাত্রলীগের নেতৃত্বে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সকল কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালিত করি। ২০০১সালে ২৮শে নভেম্বর তৎকালীন আওয়ামী যুবলীগের নেত্রকোণা জেলা শাখার সাবেক সভাপতি স্বপন জোয়ারদারকে তেরী বাজার মোড়ে বি.এন.পি’র সন্ত্রাস বাহিনী কর্তৃক গুলি করে হত্যা করে, শহীদ স্বপন জোয়ারদারের হত্যা মামলার আসামীদের বিচারের আওতায় আনার জন্য জেলা যুবলীগের পক্ষ থেকে ব্যাপক আন্দোলন ব্যবস্থা গ্রহণ করি। ২০০৫সালে আওয়ামী লীগের বর্তমান কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য তৎকালীন আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কবির নানক (সাবেক এমপি-সাবেক মন্ত্রী), আওয়ামী লীগের বর্তমান কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক তৎকালীন আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মির্জা আযম এমপি ও সাবেক মন্ত্রী কর্তৃক আওয়ামী যুবলীগ নেত্রকোণা জেলা শাখার আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব দেয়ার পর পরেই জেলার ১০টি উপজেলা, ৫টি পৌরসভা ও ৮৬টি ইউনিয়ন সহ ওয়ার্ড থেকে শুরু করে প্রত্যেকটি ইউনিটের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করি। তৎকালীন জামায়াত-বিএনপি’র জোট সরকারের অবৈধ সকল কর্মসূচী প্রতিহত করার লক্ষ্যে জেলায় যুবলীগের নেতৃত্বে আন্দোলন-সংগ্রাম গড়ে তুলি। তথাকথিত ১/১১এ গণতন্ত্রের মানসকন্যা, বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য তনয়া, উন্নত বাংলাদেশ ও ডিজিটাল বাংলার রূপকার, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা এমপি তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় যুবলীগের নির্দেশে গণস্বাক্ষর অভিযান জেলা যুবলীগের নেতৃত্বে প্রায় ২লক্ষ গণস্বাক্ষরপত্র কেন্দ্রে প্রেরণ করি। সেই সঙ্গে বাঙালির জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য উত্তরসূরী জননেত্রী, দেশরত্ন শেখ হাসিনা তৎকালীন বিরোধী নেতা থাকা অবস্থায় অবৈধভাবে গ্রেপ্তার করার প্রতিবাদে এবং মুক্তির দাবিতে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নির্দেশে নেত্রকোণা জেলায় বিক্ষোভ মিছিল সংগঠিত করি। ২০০১সালে জাতীয় নির্বাচনের পর জামায়াত-বিএনপি’র জোট সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন নেত্রকোণা জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে তখনকার সময় কাউকে আসতে দেখিনি, বর্তমানে জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় পদে থাকা অধিকাংশ নেতাগণ, সেই সময় আমি সহ তৃণমূলের আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী ও জেলা যুবলীগের নেতা-কর্মী নিয়ে নেত্রকোণা জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে প্রতিদিন অবস্থান করে রাজনৈতিক কর্মসূচী বাস্তবায়ন করি। শ্রদ্ধাভাজন নেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা বিরোধী দলীয় নেতা থাকা অবস্থায় বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে তৎকালীন সময়ে অবৈধভাবে কারাগারে প্রেরণ ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে সকল কর্মসূচী বাস্তবায়ন সহ কেন্দ্র হতে প্রেরিত পোস্টার একমাত্র আমার ও নেত্রকোণা জেলা যুবলীগের নেতৃবৃন্দের নেতৃত্বে জেলায় সাঁটানো হয়েছে। ফখরুদ্দীন-মঈনুদ্দীনের তথাকথিত ১/১১ সময়ে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় ও নেত্রকোণার রাজপথ ছাড়িনি, তখনকার সময়ে জেলার অধিকাংশ শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ আত্নগোপনে ছিলেন। সেই দূর্বিসহ দিনে দেশরত্ন শেখ হাসিনা’র নির্দেশিত প্রতিটি কর্মসূচী বাস্তবায়ন করেছি। তৎকালীন সময়ের জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন সহ সরকারের বিভিন্ন গোয়ান্দা সংস্থা আমাকে নজরদারীতে রেখেছে কঠোরভাবে। জামায়াত-বিএনপি’র জোট সরকারের ও পরবর্তীতে অবৈধ ত্বত্তাবধায়কের আমলে কেন্দ্রীয় কর্মসূচী বাস্তবায়ন ও বিক্ষোভ মিছিল করতে গিয়ে বার বার জামায়াত-বিএনপি’র পেটোয়া বাহিনীর হামলার স্বীকার হয়েছি এবং প্রশাসনের তল্লাশীর কারণে বাসা-বাড়ী ছাড়া হয়েছি, সেই সঙ্গে একাধিক মামলার স্বীকার হয়েছি।  

তিনি আরও জানান- আমার বাবা ভাষাসৈনিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম নূরুল হুদা ১৯৪৯সালে নেত্রকোণা মহুকুমা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য থাকা অবস্থায় কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের প্রত্যেকটি কর্মসূচী সফল ও স্বার্থকভাবে পালণ করার জন্য চুঙ্গা-মাইক দিয়ে প্রচার-প্রচারণা করতে গিয়ে টি.বি রোগে আক্রান্ত হন। বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমার বাবাকে ব্যাক্তিগতভাবে চিনতেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব নিজে আমার বাবাকে মহাখালী টি.বি হাসপাতালে দির্ঘদিন চিকিৎসা করান। আমার বাবা ১৯৫২সালে ২১শে ফেব্রুয়ারী ভাষা আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে নেত্রকোণা মহুকুমায় মিছিল সহ সকল কর্মসূচী বাস্তবায়ন করেন। আমার বাবা ১৯৬৬সালে ৬দফা আন্দোলন হতে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নেত্রকোণা সদর উপজেলা শাখার বিভিন্ন সময় পর্যায়ক্রমে সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি পদে দায়িত্ব পালণ করেছেন। তিনি ১৯৭১সালে বাঙালি জাতির মুক্তি ও স্বাধীনতার মহান ঘোষক, স্বাধীন বাংলার মহান স্থপতি বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এঁর ডাকে সাড়া দিয়ে বাঙালি জাতিকে মুক্ত করার লক্ষ্যে সশস্ত্র স্বাধীনতার যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৭৫সালে ১৫ই আগস্ট কালোরাত্রিতে বাঙালির জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, সুতিক্ষè বুদ্ধিজীবি বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব সহ সকল শহীদগণের হত্যার প্রতিবাদ করতে গিয়ে গ্রেফতার হয়ে ময়মনসিংহ জেলখানায় কারাবরণ করেন সেই সঙ্গে বঙ্গবন্ধু স্বপরিবারে শহীদ হওয়ার পর পরেই আমার পরিবারকে সহ্য করতে হয়েছে অমানসিক নির্যাতন, ছোট-ভাই বোনদের নিয়ে ফেরারী জীবন-ঝাপন করতে হয়েছে দীর্ঘসময়। নিজের বাসা-বাড়ী ছেড়ে আত্নীয়স্বজনদের বাড়ীতে আত্নগোপনে থাকছি।

অধ্যাপক ওমর ফারুক আরও জানান- আমি সুনামগঞ্জ-১ আসনের প্রাক্তন এমপি ও প্রাক্তন গর্ভনর বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম আব্দুল হেকিম চৌধুরীর দৌহিত্র। এছাড়াও আমার পরিবারের সকল সদস্যবৃন্দ আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে জড়িত। তাছাড়াও প্রখ্যাত সংগীত শিল্পী ও উপমহাদেশের খ্যাতনামা বংশীবাদক বারী সিদ্দীকী আমার ছোট ভগ্নীপতি ছিলেন।