Dr. Neem
Dr. Neem Hakim

সরকারি জমি দখল : ৪১ বছর পর মামলা


আগামী নিউজ | বেনাপোল প্রতিনিধি:  প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২১, ০৬:৪৯ পিএম
সরকারি জমি দখল : ৪১ বছর পর মামলা

প্রতিকি ছবি

যশোরঃ জেলার শার্শা উপজেলায় সরকারি জমি জালিয়াতি করে দখলকারী আট জালিয়াতের বিরুদ্ধে ৪১ বছর পর মামলা হয়েছে। শার্শার ঐতিহ্যবাহী কাচারি বাড়ির সরকারি জমি গোপনে ব্যক্তি মালিকানায় রেকর্ড করে নেয়ায় ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে এ মামলা করেছেন যশোর জেলা প্রশাসক (ডিসি)। আদালতের সরকারি কৌঁসুলী কাজী বাহাউদ্দিন ইকবাল বৃহস্পতিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) আদালতে এ মামলা দাখিল করেন। বিচারক আসামিদের প্রতি সমন জারি করে ২০২২ সালের ১১ জানুয়ারি মামলার দিন ধার্য করেছেন। 

মামলার আসামিরা হলেন, শার্শার মোড়লপাড়ার মৃত ফজলুর রহমানের স্ত্রী রেহেনা খাতুন ও মমতাজ বেগম, ছেলে জসিম উদ্দিন, কবির হোসেন, মনির হোসেন, ইমাম হোসেন, মেয়ে শাহিনা খাতুন ও বোন জাহানারা খাতুন। 

জানা যায়, শার্শা উপজেলার ৭২ নম্বর শার্শার মৌজার সাবেক ১২৫৫ দাগের ৩৫ শতক সরকারি জমি ফজলুর রহমান প্রথমে একসনা বন্দোবস্ত নেন। এরমধ্যে ৩২ দশমিক ৬৩ শতক (প্রায় এক বিঘা) জমি ১৯৮০ সালের ২ ফেব্রুয়ারি নিজ নামে রেকর্ড করে নেন ফজলুর রহমান। প্রথম দিকে অতি গোপন থাকলেও তার মৃত্যুর পর ছেলে কবির হোসেন, জসিম উদ্দিন, মনির হোসেন ও ইমাম হোসেন সেখানে অবকাঠামো নির্মাণ করে প্রকাশ্যে দখলে নেন।

পরবর্তীতে সরকারি ওই জমি কীভাবে ব্যক্তি মালিকানায় রেকর্ড হলো তা নিয়ে নড়েচড়ে বসে স্থানীয় প্রশাসন। উপজেলা ভূমি অফিস থেকে এ বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়। তৎকালিন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) খোরশেদ আলম চৌধুরী ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর স্বাক্ষরিত এক পত্রে উল্লেখ করেন, কালেক্টরেট যশোরের নামে কাচারি বাড়ির বাস্তু শ্রেণির জমি। যা প্রতারণা করে কাচারি বাড়ির জমি ধানী হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। ফজলুর রহমানের মৃত্যুর পর তার সন্তানদের নামে এ জমি রেকর্ড করা হয়। এ বিষয়ে তিনি জেলা প্রশাসককে অবহিত করে চিঠি লেখেন। এরপর যশোরের জেলা প্রশাসকের দফতরে থেকে এলএসটি মামলা করার জন্য সরকারি কৌঁসুলীকে চিঠি দেয়া হয়।

যশোর আদালতের সরকারি কৌঁসুলী কাজী বাহাউদ্দীন ইকবাল জানান, চিঠি পেয়ে তিনি সরেজমিনে ঘটনাস্থলে যান। কাগজপত্র যাচাই করে দেখেন সরকারের কাচারি বাড়ির সম্পত্তি জাল দলিল করা হয়েছে। তিনি আরো জানান, শার্শা মৌজার প্রিন্ট পর্চার রেকর্ড প্রকাশিত হলেও গেজেট বের হতে দেরি হয়। যে কারণে ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে মামলা করতেও বিলম্ব হয়। বৃহস্পতিবার ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল আদালতে ৮ জনের নামে মামলা করা হয়েছে। বিচারক আসামিদের প্রতি সমন জারি করে আগামী বছর ২০২২ সালের ১১ জানুয়ারি মামলার দিন ধার্য করেছেন।
এই জমির মধ্যে সরকারী রাস্তা ও পানি নিস্কাশনের ড্রেন আছে বলেও জানা যায়। যা ব্যবহারের সময় স্থানীয় লোকজন ফজলুর রহমানের ৫ সন্তানের কাছে একাধিকবার হামলার শিকার হয়েছেন। স্থানীয় লোকজন দাবি করছে জমিটি সরকারের আওতায় আনা হোক।