Dr. Neem
Dr. Neem Hakim

৪২ ইঞ্চি বর ৩৬ ইঞ্চি কনে, ধুমধাম করে বিয়ে দিলেন এলাকাবাসী


আগামী নিউজ | নিউজ ডেস্ক প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২১, ১১:৪২ এএম
৪২ ইঞ্চি বর ৩৬ ইঞ্চি কনে, ধুমধাম করে বিয়ে দিলেন এলাকাবাসী

ছবিঃ সংগৃহীত

যশোরঃ ময়না খাতুন। ৩৬টি বসন্ত পার করেছেন। কিন্তু উচ্চতা মোটে ৩৬ ইঞ্চি। বহু চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে হাল ছেড়ে দিয়েছিলেন বাবা-মা। ধরেই নিয়েছিলেন এ জন্মে আর জামাইয়ের মুখ দেখবেন না তাঁরা। অবশেষে তাঁদের আশা পূরণ হলো। শুক্রবার রাতে ধুমধাম করে বিয়ে হয় ময়নার। বর রবিউল ইসলাম। তাঁর উচ্চতা ৪২ ইঞ্চি। অবশ্য কনের চেয়ে ১০ বছরের ছোট।শনিবার বৌভাতের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।

এলাকাবাসী উদ্যোগ নিয়ে দুদিন ব্যাপী আড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ বিয়ে সম্পন্ন করেছেন। তিন ফুট উচ্চতার এ দম্পতির বিয়েতে আশপাশের বিভিন্ন গ্রামের হাজারো মানুষের ঢল নামে।

নরেন্দ্রপুর গ্রামের পোস্ট অফিস এলাকার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আলমগীর কবির জানান, গ্রামের মৃত আকবার আলীর ছেলে রবিউল ইসলামের উচ্চতা কম হওয়ায় বিয়ের জন্য পাত্রী পাচ্ছিলেন না। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় খোঁজ মেলে পাশের আন্দুলিয়া গ্রামের নাজির মোল্লার মেয়ে ময়না খাতুনের। তাঁরও উচ্চতা কম হওয়ায় দীর্ঘদিন থেকে পাত্র পাচ্ছিলেন না অভিভাবকেরা। স্থানীয় মোতাহার হোসেন বুলবুল, গাজি কামরুল ইসলাম, বিকাশ কুমার সেনসহ কয়েকজন তাঁদের বিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেন। 

আলমগীর কবির আরও জানান, সবাই মিলে দুই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে বিয়ের দিনক্ষণ ঠিক করেন। যার ফলশ্রুতিতে শুক্রবার রাতে উভয়ের মধ্যে মুসলিম শরিয়া অনুযায়ী বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। 

বরের খালু জাহাঙ্গীর বলেন, আমরা খুবই দরিদ্র। রবিউলের বাবা-মা কেউ নেই। ছোট থেকে আমরাই মানুষ করেছি। ছেলেটা প্রতিবন্ধী হওয়ায় বিয়ের জন্য মেয়ে খুঁজে পাচ্ছিলাম না। অবশেষে গ্রামবাসীর সহায়তায় পাশের আন্দুলিয়া গ্রামের ময়না খাতুনের সঙ্গে তাঁর বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। 

স্থানীয় ইউপি সদস্য সুজিত বিশ্বাস বলেন, শুক্রবার রবিউলের সঙ্গে ময়নার বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। এলাকাবাসীর সার্বিক সহযোগিতায় দুইটি মাইক্রোবাসসহ ২০টি মোটরসাইকেল যোগে এই বিয়েতে ৬০ জন বরযাত্রী ছিল। নিয়ম অনুযায়ী পরদিন শনিবার মহা ধুমধামের সঙ্গে বউভাত অনুষ্ঠানের আয়োজন করে স্থানীয়রা। কনের এলাকা থেকে ৪০ জন আসেন এ অনুষ্ঠানে। 

এদিকে দুই খুদে মানুষের বিয়েকে স্বাগত জানিয়েছে পোস্ট অফিসপাড়াসহ আশপাশের গ্রামের মানুষ। নবদম্পতিকে একনজর দেখতে এবং শুভকামনা জানাতে বর-কনের বাড়িতে ভিড় করছেন বহু নারী-পুরুষ।