Dr. Neem
Dr. Neem Hakim

ফুসলিয়ে তিন স্কুল ছাত্রীকে ঢাকায় নেয়ার চেষ্টা করেছিলেন গৃহবধূ


আগামী নিউজ | ডেস্ক রিপোর্ট প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২১, ০৪:৪৪ পিএম
ফুসলিয়ে  তিন স্কুল ছাত্রীকে ঢাকায় নেয়ার চেষ্টা করেছিলেন গৃহবধূ

ছবিঃ আগামী নিউজ

রংপুরঃ জেলার গঙ্গাচড়া উপজেলার নোহালী ইউনিয়নের পূর্ব কচুয়া পাইকার পাড়া থেকে নিখোঁজ হওয়া তিন ছাত্রীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। দুই ছাত্রীকে নীলফামারী রণচন্ডী এবং গৃহবধূসহ অপর ছাত্রীকে ঢাকার হেমায়েতপুর থেকে উদ্ধার করা হয়। ঢাকায় গার্মেন্টসে কাজ করার প্রলোভন দেখিয়ে বিপথে নেয়ার চেষ্টা করেছিল ওই গৃহবধূ।

গঙ্গাচড়া থানার ওসি সুশান্ত কুমার জানান, বৃহষ্পতিবার তিন ছাত্রীসহ এক গৃহবধূ নিখোঁজ হওয়ার সাধারণ ডায়েরি থানায় করার সাথে সাথেই আমরা প্রযুক্তির মাধ্যমে তাদের উদ্ধারে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করি। এরই ধারাবাহিকতায় দুই ছাত্রীকে নিলফামারীর রণচণ্ডী এলাকার এক ব্যক্তির বাড়ি থেকে শুক্রবার রাতে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসি।

ওসি জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আমরা নিশ্চিত হই নিখোঁজ গৃহবধূ ময়না তাদেরকে ঢাকায় গার্মেন্টসে কাজ করার প্রলোভন দিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে এক ব্যক্তি বিষয়টি জানতে পেরে দুজনকে বুঝিয়ে রণচণ্ডীতে নিজের বাড়ি নিয়ে যায়। আর অপর ছাত্রী ও গৃহবধু ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন।

ওসি আরো জানান, গৃহবধূ ময়না ও এক ছাত্রীকে রাজধানীর হেমায়েতপুরে এক ব্যক্তির বাসায় সন্ধান পাওয়া গেছে। সেখানে পুলিশের মাধ্যমে তাদের উদ্ধার করা হয়েছে।

ওসি আরো জানান, গার্মেন্টসে কাজ করার জন্যই তাদেরকে ফুসলিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, নাকি পাচার কিংবা অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল তা তদন্ত করা হচ্ছে। গৃহবধূ ময়না ছাড়াও আরো কেউ এতে জড়িত কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান ওসি।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে গংগাচড়া মডেল থানায় করা সাধারণ ডায়েরিতে বলা হয়, নোহালি পূর্ব কচুয়া পাইকারপাড়া এলাকার তুলশীরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী (১২), তুলশীরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী (১৪) ও আলমবিদিতর উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী (১৫) এবং শাহীনুর রহমানের স্ত্রী ময়না খাতুন (২১) বুধবার সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে কাউকে না জানিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। পরে তারা বাড়িতে না ফিরলে আশেপাশের এলাকা ও স্বজনের বাড়িতে খোঁজ করেন অভিভাবকরা।

কিন্তু তাদের সন্ধান না পাওয়ায় নিখোঁজ ছাত্রীদের একজনের বাবা থানায় ডায়েরি করেন।

নোহালি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ টিটুল জানান, গৃহবধূ ময়নার একাধিক বিয়ে হয়েছে। ওই মহিলার বিরুদ্ধে স্থানীয় সুন্দরী মেয়েদের ফুসলিয়ে বিভিন্নজনের সাথে সম্পর্ক করিয়ে দেয়ার অভিযোগও আছে। বিষয়টি পুলিশ গভীরভাবে তদন্ত করলে এই ঘটনার পেছনে আর কী কী আছে তা বেরিয়ে আসবে।