Agaminews
Dr. Neem
Dr. Neem Hakim

৪০ যাত্রী নিয়ে সাগরে আটকা পরা ট্রলার ১১ ঘন্টা পর সেন্টমার্টিনে


আগামী নিউজ | জাফর আলম, কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি প্রকাশিত: আগস্ট ৪, ২০২১, ০৭:০৮ পিএম
৪০ যাত্রী নিয়ে সাগরে আটকা পরা ট্রলার ১১ ঘন্টা পর সেন্টমার্টিনে

ফাইল ফটো

কক্সবাজারঃ জেলার টেকনাফ সেন্টমার্টিন নৌ-রুটে ১১ ঘন্টা সাগরে চড়ে প্রায় ৪০ জন যাত্রী নিয়ে আটকে থাকা ট্রলার শাসরুদ্ধকর উদ্ধার তৎপরতায় সেন্টমার্টিন তীরে ফিরেছে। সবাই নিরাপদে রয়েছেন বলে জানা গেছে।

বুধবার (৪ আগষ্ট) ভোর ৫ টার দিকে তারা সেন্টমার্টিন জেটিতে পৌঁছালে অপেক্ষায় থাকা স্বজনেররা তাদের গ্রহণ করে নেন। ট্রলার ও সেন্টমার্টিনের বাসিন্দার সাথে কথা বলে জানা গেছে, বেলা ৫ টার দিকে গণযাত্রীবাহী একটি ট্রলার সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে টেকনাফ ছেড়ে যায়। যেতে যেতেই মিয়ানমার সীমান্ত নাইক্ষংদিয়ার পাশের চড়ে পৌঁছালে ইঞ্চিন বিকল হয়ে পড়ে। ঠিকাঠাক করতেই জোয়ারের পানি নেমে ভাটা হয়ে যায়। এতে চড়ে আটকা পড়ে ট্রলারটি। চালক অপর একটি ট্রলারকে উদ্ধারের জন্য খবর দেয়। ট্রলারে পুরুষের পাশাপাশি ৪০ জন নারী ও শিশু ছিলো।

তারা দীর্ঘ ১১ ঘন্টা উদ্বেগ ‍উৎকন্ঠায় ছিলো। তারাদের মধ্যে অনেকেই টিকা দিতে টেকনাফ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গিয়েছিলেন। বাকিরা মালামাল নিয়ে সেন্টমার্টিনে ফিরছিলেন। সেন্টমার্টন থেকে অপর একটি ট্রলার উদ্ধারে গেলে, সেটিও চড়ে আটকা পড়ে। পরে উপজেলা প্রশাসনের পরামর্শক্রমে উদ্ধারে যায় অপার দুইটি ট্রলার। ট্রলারদ্বয় জোয়ারের ভাটার কারণে বেশ কিছু সময় উদ্ধারের কাজ চালাতে পারেনি।

পরে জোয়ার আসলেই উদ্ধার করে ভোর ৫ টা সেন্টমার্টিনের জেটিতে ভিড়ে।ট্রলারের যাত্রী আব্দুল্লাহ, মহি উদ্দিন, আরেফা ও ছেনুয়ার বেগমের জানিয়েছেন, উদ্বেগ উৎকন্ঠায় ঘুমহীন রাত পার করতে হয়েছে। প্রাকৃতিক ডাক সহ নানা সময় এক ধরণের বন্দিশালায় ছিলেন বলেও জানান তারা। সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুর আহমেদ বলেন, সন্ধ্যা ৬ টার দিকে একটি যাত্রীবাহী ট্রলার সেন্টমার্টিন যাওয়ার উদ্দেশ্যে টেকনাফ ছেড়ে আসে।

নৌপথের নাইক্ষ্যংদিয়ার কাছাকাছি পৌঁছালে ট্রলারটি একটি চড়ের মধ্যে আটকা পড়ে। পরে ট্রলারটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। ওই ট্রলারে ৩০ জনের বেশি যাত্রী ছিলো। দ্রুত তাদের উদ্ধারে অপর একটি ট্রলারে গেলে দ্বিতীয় ট্রলারটিও আটকে যায়। পরে আরো দুইটি ট্রলারের মাধ্যমে তাদের উদ্ধার করা হয়েছে। এসব যাত্রীদের অনেকেই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে টিকে নিতে গিয়েছিলেন।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও মোঃ পারভেজ চৌধুরী জানান, ট্রলার দুটিকে উদ্ধারের জন্য কোস্টগার্ডের সহযোগিতায় আরও দুইটি ট্রলার পাঠিয়ে উদ্ধার করা হয়। সেই সঙ্গে যাত্রীদের নিয়মিত খোঁজ খবর রেখে নিরাপদের কথা নিশ্চিত করেন ইউএনও।