Agaminews
August

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পশু জবাই ও মাংস কাটতে গিয়ে আহতদের ভিড়


আগামী নিউজ | মো. আজহার উদ্দিন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি প্রকাশিত: জুলাই ২১, ২০২১, ০৬:১৪ পিএম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পশু জবাই ও মাংস কাটতে গিয়ে আহতদের ভিড়

ছবিঃ আগামী নিউজ

ব্রাহ্মণবাড়িয়াঃ জেলায় কোরবানির পশু জবাই করা ও মাংস কাটতে গিয়ে বিভিন্ন স্থানে শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। আহতরা জেলা সদর হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গুলোতে ভীড় জমিয়েছেন।

বুধবার (২১ জুলাই) সকাল থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল  হাসপাতালের জরুরি বিভাগের রেজিস্ট্রার খাতার পরিসংখ্যানে জানা গেছে।

পশু জবাই ও মাংস কাটতে গিয়ে বেশির ভাগেরই আগতরা হাত-পায়ের আঙ্গুলসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ কেটে গিয়ে ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ১৫ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে তাদের কারও অবস্থা গুরুতর নয় বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আজ ঈদুল আজহা উপলক্ষে শহরের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় অসংখ্য পশু জবাই করা হয়েছে। এতে মৌসুমি কসাই এবং কোরবানি দেওয়া পরিবারের সদস্যদের পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকার কারণে পশু জবাই ও মাংস কাটতে গিয়ে তাদের কারও হাতে কারও পায়ে ছুরির পোঁচ লেগে কেটে যায়। আহতদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

আহতদের মধ্যে শহরের উত্তর মৌড়াইল  এলাকার আহত বাবলু চৌধুরী জানান, মাংস কাটতে গিয়ে পায়ে আংগুলে কোপ পড়ে। পরে পরিবারের লোকজন তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসে। তার পায়ে তিনটি সেলাই দেওয়া হয়েছে।

জেলা শহরের মধ্যপাড়ার আরমান মিয়া জানান, গরুর মাংস কাটতে গিয়ে তার অসাবধানতাবসত আমার ডান পায়ে আঘাতে কুড়ালের কুপ পড়েন। রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। হাসপাতালে এসে ব্যান্ডেজ করেছি।

সরাইল উপজেলার চুন্টা ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের আহত আব্দুল হাফিজ জানান, গরু জবাই করার সময় বাঁধন ছিঁড়ে গিয়ে তার ওপর ছিটকে পড়ে। এতে তার হাত, মুখ এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। তার বাম হাতটি  আঘাতপ্রাপ্ত হয়। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ভর্তি দিয়েছেন।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক ধীমান দেবনাথ জানান, ঈদের দিন হলেও রোগীর অনেক চাপ আজকে। কোরবানির সময় এমনটা প্রায়ই হয়। সকাল থেকে অনেকগুলো রোগী এসেছেন যারা কোরবানি দিতে গিয়ে আহত হয়েছেন। কারো হাত, কারো পা কিংবা আঙুল কেটে গেছে। আজকে বিকেল পর্যন্ত যারা এসেছেন চিকিৎসা নিতে তাদের বেশিরভাগই কোরবানি দিতে গিয়ে আহত হয়েছেন।  

জেলা হাসপাতালসহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিত্রও ব্যতিক্রম নয়। সেখানে রোগীদের ভিড়। কোরবানি দিতে গিয়ে আহত হওয়া অন্তত শ’ খানেক রোগী প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানায় সেখানকার জরুরি বিভাগে কর্মরত চিকিৎসক। তাদের মতে, দিন গড়ালে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। বিকেল পর্যন্ত গুরুতর আহত কেউ আসেনি বলে জানান চিকিৎসক।