Agaminews
August

৭০ বছরেও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি সড়কটিতে !


আগামী নিউজ | মোঃ জামাল হোসেন, শরীয়তপুর জেলা প্রতিনিধি প্রকাশিত: জুন ২২, ২০২১, ০১:১২ পিএম
৭০ বছরেও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি সড়কটিতে !

ছবিঃ আগামী নিউজ

শরীয়তপুরঃ সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থা, দীর্ঘ ৭০ বছর পার হয়ে গেলেও কোন উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি সড়ক টিতে। পাকা না হওয়ায় বেড়েছে এলাকা বাসীর দূর্ভোগ।
 
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার বিঝারী ইউনিয়নের ধামারন গ্রামের কমিউনিটি ক্লিনিকের সংযোগ সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় রয়েছে। রাস্তাটি মাত্র ৭০০ মিটার। এতে রাস্তাটি পূর্ব মাথায় একটি কমিউনিটি ক্লিনিক ও একটি মাদ্রাসা আছে। রাস্তাটির পশ্চিম মাথায় ধামারন ত্রিপল্লী ৩৩ নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ডাঃ কে এ জলিল উচ্চ বিদ্যালয় অবস্থিত। 
 
এসব প্রতিষ্ঠানে প্রায় হাজারের উপরে ছোট ছোট ছেলে মেয়ে পড়াশোনা করে বলে জানা গেছে। এদিকে রাস্তাটি পূর্ব মাথায় অন্তত ২০০ পরিবার বসবাস করে, এই পরিবারগুলোর বাচ্চাদের স্কুলে যাতায়াতের জন্য এই একটি মাত্র রাস্তা দিয়েই প্রতিদিন যাতায়াত করতে হয়। এবং এই একটি মাত্র রাস্তা ধরে কমিউনিটি ক্লিনিকে যাতায়াত করে অত্র এলাকার মানুষ। এই কমিউনিটি ক্লিনিকে গর্ভবতী মায়েদের ডেলিভারি করানো হয়, কিন্তু রাস্তার এমন বেহাল দশায় ভোগান্তিতে পড়ে গর্ভবতী মায়েরা। একটু বৃষ্টি হলেই দেখা দেয় হাটু পর্যন্ত কাদা। এতে করে বাচ্চাদের মাদ্রাসা এবং স্কুলে যেতে যেমন কষ্ট ভোগ করতে হয় তেমনি ব্যাপক সমস্যায় পড়েন কমিউনিটি ক্লিনিকে আসা রোগীরা।
 
বিশেষ করে যখন কোন গর্ভবতী মহিলাদের সমস্যা হয়, তখন তাৎক্ষণিকভাবে পাশে থাকা কমিউনিটি ক্লিনিকে আনতে হয়। কিন্তু ক্লিনিকে আসার জন্য এ রাস্তাটি কাঁচা হওয়ার কারণে যেমন খানাখন্দ ভরা, তেমনি বৃষ্টি হলেই হাটু পরিমাণ কাঁদা হয়ে যায়, এতে এ পথে কোনভাবেই চলাচল করা যায় না বলে জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। যার কারণে গর্ভবতী নারীদের সেবা নিতে কষ্ট হয়ে যায়। এতে যেকোন সময় দূর্ঘটনার আশংকায় পরতে পারেন বলে জানান তারা।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, এ রাস্তাটি অন্তত ৭০ বছরের পুরনো, রাস্তাটি দিয়ে কয়েকটি গ্রামের লোকজনের যাতায়াত, কিন্তু কি কারণে এই রাস্তাটি আজও ইটের সলিং বা পাকা করা হলো না সেটাই প্রশ্ন স্থানীয়দের।

এ ব্যাপারে স্থানীয় মোহাম্মদ সিরাজ সরদার বলেন, এ রাস্তাটি দিয়ে আমাদের বাচ্চারা স্কুলে যাতায়াত করে একটু বৃষ্টি হলেই বাচ্চারা স্কুলে যেতে চায় না, রাস্তায় কাদা ও পানি জমে যায় বলে বড় রাস্তা ধরে বাচ্চাদের কে স্কুলে পাঠাতে ভয় লাগে কারণ বড় রাস্তায় গাড়ি চলাচল খুব বেশি, হরহামেশাই অ্যাক্সিডেন্ট ঘটে, তাছাড়া অনেকদূর ঘুরে যেতে হয় তাই আমাদের একটাই দাবি এই রাস্তাটি যেন পাকা সড়ক করে দেওয়া হয়।
 
এলাকাবাসী বলেন, এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সংযোগ সড়ক, স্কুল ও কমিউনিটি ক্লিনিকে যাতায়াতের জন্য এ সড়কটি ব্যবহার করা হয়, আমরা আমাদের মাননীয় মন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী একেএম এনামুল হক শামীম এমপি মহোদয়ের কাছে অনুরোধ করবো যেন এই ৭০ বছরের পুরনো রাস্তাটি পাকা করে দেয়া হয়। এতে হাজারো মানুষের যাতায়াতের কষ্ট দূর হবে।
 
খুব অল্প সময়ের মধ্যে এ রাস্তাটি বাংলাদেশ সরকারের পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী একেএম এনামুল হক শামীম রোগীদের স্বার্থে পাকা করে দিবেন এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের।
 
এ ব্যাপারে স্থানীয় কমিউনিটি ক্লিনিকের কর্মকর্তা ডাঃ নুহান আক্তার বলেন, এ ক্লিনিকে মাসে দু চারটা গর্ভবতী মায়েদের নরমাল ডেলিভারি করানো হয়। কিন্তু বিষয় হচ্ছে ক্লিনিকে আসার যে রাস্তা রয়েছে সেটা খুব খানাখন্দে ভরা এবং বৃষ্টি হলেই প্রচুর কাদার সৃষ্টি হয়ে যায়, এতে করে ক্লিনিকে রোগী আসতে পারে না। যার ফলে রোগীদের চিকিৎসা সেবা নিতে কঠিন হয়ে পড়ে। তাই অতি দ্রুত এ সড়ক টি পাকা করা না হলে এলাকাবাসী এবং এখানে আসা রোগীদের ভোগান্তি কমবে না।
 
এ বিষয় নড়িয়া উপজেলা প্রকৌশলী সাহাবউদ্দীন বলেন, সড়ক টি এল জি ই ডির সেল ভূক্ত সড়ক নয়,তবে এ বছর আর সেল ভুক্ত করার সুযোগ নেই আগামীতে এল জি ই ডি থেকে সেল ভুক্ত করা হলে আমরা এ সড়ক টির ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।