Agaminews
Dr. Neem
Dr. Neem Hakim

নড়িয়ায় ভেকু দুলালের ফসলী জমিতে ভেকুর রাজত্ব


আগামী নিউজ | মোঃ জামাল হোসেন, শরীয়তপুর জেলা প্রতিনিধি প্রকাশিত: জুন ১০, ২০২১, ০৭:০৬ পিএম
নড়িয়ায় ভেকু দুলালের ফসলী জমিতে ভেকুর রাজত্ব

ছবিঃ আগামী নিউজ

শরীয়তপুরঃ জেলার নড়িয়া উপজেলায় শত শত একর ফসলি জমি কেঁটে পুকুর এবং মাছের ঘের তৈরি করা হচ্ছে।

জানাগেছে, প্রশাসনের শত চেষ্টার পরও একটি প্রভাবশালী চক্রের ইশারায় চলছে এ ধ্বংসযজ্ঞ। ফলে এ অঞ্চলের ফসলি জমির পরিমাণ দিন দিন কমতে শুরু করেছে।এতে হুমকিতে পড়ছে পুরো উপজেলার খাদ্য নিরাপত্তা।

সরেজমিনে গিয়ে আজ বৃহস্পতিবার ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার ডিঙ্গামানিক ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের রাম ঠাকুর বাড়ির পূব দিকে বোরো ধানের জমি কেটে মাছের ঘের তৈরি করে দিচ্ছে স্থানীয় প্রভাবশালী দুলাল হোসেন ওরফে ভেকু দুলাল। যাকে একনামে ভেকু দুলাল বলে চিনে সবাই।

সেখানে সংবাদ কর্মীরা যাওয়ার কথা শুনতেই চলমান বেকু বন্ধ করে পালিয়ে যায় চালক।

উপজেলা প্রশাসন সকল বেকু মালিকদের বেকু জব্দ এবং জরিমানা করে বন্ধ করতে পারলেও ডিঙ্গামানিক ইউনিয়নের কালিখোলা এলাকার এই ভেকু মালিক দুলাল হোসেনের ভেকু কেন এখনও বন্ধ করতে পারেনি ফসলী জমি কাটা এবং মাছের ঘের তৈরি করা থেকে তা নিয়ে স্থানীয় কৃষক এবং জনগনের মনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় লোকজন বলছেন, আগের থেকে অনেক ভেকু মেশিন এলাকা থেকে কমে গেছে, আগে অনেক দেখেছি এবং বেশির ভাগ ফসলী জমি কেটে ফেলেছে তবে এখনও দুলাল তার ভেকু মেশিন দিয়ে ফসলী জমি কেটেই যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে ধান আর চোখে দেখুম না আমরা। 

এদিকে নড়িয়া উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য মতে, উপজেলায় এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে।

উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ধানচাষীরা জানান,এ বছর ধানের তেমন কোন রোগ বালাই না থাকায় গত বছরের ন্যায় এবারো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে।তবে ফসলী জমি ভেকু দিয়ে এভাবে কাটলে ধানী জমি আর থাকবে না। 

এ ব্যাপারে নড়িয়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ রুকোনুজ্জামান জানান, চলতি বছরে এ উপজেলায় মোট ৫ হাজার ৯ শত ৪০ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে বোরো আবাদ। যার মধ্যে ৬ শত ৫০ হেক্টর জমিতে রয়েছে স্থানীয় বোরো। যা চরাঞ্চলে বেশি আবাদ হয়েছে। এবং যার বিঘা প্রতি ফলন ১৬/১৭ মণ।

এ ছাড়াও হাইব্রিড এবং উফশী বোরোর আওতায় ৫ হাজার ২শ ৭০ হেক্টরের মতো জমিতে আবাদ হয়েছে, যার ফলন অসাধারণ ও খুবই ভালো হয়েছে।

এ বিষয়ে ডিঙ্গামানিক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ আনোয়ার হোসাইন খান বলেন, আমার ইউনিয়নের কোন কৃষকের কাছ থেকে জোর করে জমি নিতে চাইলে ইউএনও মহোদয়ের নির্দেশে আমরা তাদেরকে প্রতিহত করি। তবে আমার ইউনিয়নে এসব অবৈধ কাজ আমি সহ্য করবো না, বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা নিষিদ্ধ করেছেন ফসলী জমি কাটতে সেই সাথে আমাদের নড়িয়া এবং সখিপুর দুুুই আসনের সংসদ এবং বাংলাদেশ সরকারের পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী একেএম এনামুল হক শামীম এমপির নির্দেশে আমরা আমাদের ইউনিয়ন কে সঠিক এবং সুুুন্দর ভাবে পরিচালনা করছি, এতে যদি কেউ এ ইউনিয়নে অবৈধ কোন কাজ করে বদনাম করার চেষ্টা করে তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠিন ভূমিকা নেয়া হবে।

এদিকে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা বলেন, বিষয়টি গত বৃহস্পতিবার জেনেছি তখন আমরা সাথে সাথে ঐখানে গিয়ে ভেকু বন্ধ করে উপরে উঠিয়ে দিয়ে এসেছি এখন আবার কাজ শুরু করেছে এটা জানলাম আমরা এখন দুপুরের খাবার খেয়েই ঐখানে যাবো।

এ ব্যাপারে নড়িয়া উপজেলা (ভারপ্রাপ্ত) নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব তানভীর আল নাসীফ বলেন, কৃষি জমি রক্ষার বিষয়ে আমাদের উপজেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ তৎপর রয়েছে। এ বিষয় টি আমি শুনেছি সরেজমিনে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।