Agaminews
Dr. Neem
Dr. Neem Hakim

সবজি চাষে সফল সাদুল্লাপুরের মধু মিয়া


আগামী নিউজ | শামীম সরদার, সাদুল্লাপুর(গাইবান্ধা) প্রতিনিধি প্রকাশিত: মে ৪, ২০২১, ০১:২৮ পিএম
সবজি চাষে সফল সাদুল্লাপুরের মধু মিয়া

ছবিঃ আগামী নিউজ

গাইবান্ধাঃ কৃষি প্রধান দেশ বাংলাদেশ। এ দেশের বড় সাধক হলেন কৃষক। তারা শরীরের ঘাম ঝরিয়ে উৎপাদন করেন সোনার ফসল। পুরো জাতি তাকিয়ে থাকে ওই কৃষকের দিকে। যে কৃষকের কারণে অর্থনৈতিক মুক্তি আসে নিজের, পরিবারের এবং সমাজের। ফলে বদলে যায় একটি জনপদ। আর উৎসাহিত হয় আশেপাশের অনেক মানুষ।

এমনই একজন আদর্শ কৃষকের নাম মধু মিয়া। তার বাড়ি গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর  উপজেলার জামালপুর  ইউনিয়নের পাতিল্লাকুড়া-চকদাড়িয়া গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের মৃত্যু ফয়েজ ব্যাপারীর ছেলে।

সরেজমিনে জানা যায়, কৃষক মধু মিয়ার বয়স যখন ১২ বছর, তখন মারা গিয়েছে পিতা ফয়েজ ব্যাপারী। ইচ্ছে থাকা সত্তেও সংসারের অভাবের কারণে স্কুলে যাওয়ার সুযোগ হয়নি তার। যুবক বয়সে জীবিকার তাগিতে কাজ করতেন অন্যের বাড়িতে। এছাড়াও  মাঝে মধ্যে দেশের বিভিন্ন এলাকার কৃষকের মাঠে শ্রম বিক্রি করতেন মধু মিয়া।

এসময় নানা ফসল উৎপাদনে অভিজ্ঞতা অর্জন হয় তার। এরপর নিজে ফসল ফলিয়ে স্বাবলম্বি হবেন, এমন স্বপ্ন দেখতে থাকেন। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বাড়িতে এসে অন্যের জমি বর্গা নিয়ে শুরু করেন শাক-সবজির আবাদ। কিশোর বয়স থেকেই কৃষি কাজের প্রতি প্রচণ্ড আগ্রহ ছিল মধু মিয়ার। কঠোর পরিশ্রম আর দক্ষতার কারণেই প্রথমবার পটল চাষে দেখেন সফলতার মুখ। সব খরচ বাদে তার লাভ হয় প্রায় ১ লাখ টাকা। পরের বছর অন্যের জমি লিজ নিয়ে ব্যাপকভাবে শুরু করেন পটল চাষ। এতে লাভ হয় প্রত্যাশার চেয়ে বেশি।

বর্তমানে তার ক্ষেতে রয়েছে মরিচ, করলা, ঝিঙ্গা, শসা, লাউ, পুঁইশাক, পেঁপেঁ প্রভৃতি ফসল।দীর্ঘদিন ধরে এসব ফসল উৎপাদন করে পাইকারি ও খুচরা বিক্রি করে বার্ষিক আয় করছেন লক্ষাধিক টাকা। এর ফলে মধু মিয়ার দুঃখের সংসারে ফিরে এসেছে স্বচ্ছলতা। হাসি ফুটেছে পরিবার-পরিজনের। থাকছেন এখন পাকা ঘরে। 

ইতিমধ্যে মধু মিয়ার ক্রয় করা জমির পরিমান দাঁড়িয়ে প্রায় ৪ বিঘা। এখন শুধু সবজি চাষই নয়, এর পাশাপাশি আবাদ করছেন ধানও।

আদর্শ কৃষক মধু মিয়া জানান, সঠিক পরিকল্পনা অনুযায়ী সবজি চাষাবাদ করলে স্বাবলম্বী হওয়া সম্ভব। সেই সঙ্গে সরকার যদি সহজ শর্তে ঋণ দিয়ে অন্যকে কৃষি কাজে উৎসাহিত করেন, তাহলে আরো অসংখ্য কৃষক নিজের ভাগ্য বদলাতে পারবেন।

তিনি আরো বলেন, নিজের চেষ্টায় সবজি ফসল উৎপাদন করা হলেও কৃষি বিভাগের কোন সহযোগিতা বা কর্মকর্তাদের পরামর্শ পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে সাদুল্লাপুর উপজেলা কৃষি বিভাগের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আম্বিয়া বেগম বলেন, মধু মিয়া সবজি চাষাবাদ করছেন সেটি জানা রয়েছে। অধিক ফসল উৎপাদনের জন্য তাকে সার্বিক পরামর্শ দেওয়া হবে।

আগামীনিউজ/এএস