Agaminews
 অমর একুশে
Dr. Neem Hakim

ইয়াবা দিয়ে ফাঁসাতে গিয়ে ফাঁসলেন সাংবাদিক


আগামী নিউজ | শরীফ হায়দার, চট্রগ্রাম জেলা প্রতিনিধি প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২১, ১০:১০ এএম
ইয়াবা দিয়ে ফাঁসাতে গিয়ে ফাঁসলেন সাংবাদিক

ছবি: আগামী নিউজ

চট্টগ্রামঃ নগরীর নাসিরাবাদ এলাকায় এক ব্যবসায়ীকে গুলি ও ইয়াবা দিয়ে ফাঁসাতে গিয়ে গ্রেপ্তার হয়েছে ঘটনায় জড়িত অপরাধ চক্রের পাঁচজন।এদের মধ্যে দুজন নিজেদের সাংবাদিক ও অন্য একজন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যের গাড়িচালক হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন।

গতকাল শনিবার রাতে জাকির হোসেন সড়কে (হেয়ার এন্ড ফেয়ার) নামের এক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে।এই ঘটনায় হেয়ার এন্ড ফেয়ারের মালিক মো. মান্নান শেখকে ফাঁসাতে পরিকল্পিতভাবে সিএমপির ডিবি পুলিশের এক সোর্সকেও ব্যবহার করে তারা।

ঘটনায় জড়িত গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন আনোয়ারা থানাধীন তৈলারদ্বীপ এলাকার এনামুল করিম চৌধুরীর ছেলে ইফতেখার করিম চৌধুরী (৪৮), কুমিল্লা জেলার চান্দিনা থানাধীন মালিকা এলাকার আবদুল আলীমের ছেলে মো. সোহেল (২৬), নেত্রকোনা জেলার সদর থানাধীন মুন্সিবাড়ি এলাকার মৃত ফজলুল করিমের ছেলে মো. ফয়সাল (২০), কুমিল্লা জেলার চান্দিনা থানাধীন বসন্তপুর এলাকার নুরুল ইসলামের ছেলে মো. নজরুল ইসলাম (৪২) ও চাঁদপুর জেলার কচুয়া থানাধীন বিতারা এলাকার মো. বেলাল হোসেনের ছেলে মো. জামাল হোসেন (৪১)।

এদের মধ্যে ইফতেখার করিম চৌধুরী নিজেকে দৈনিক মুক্ত খবরের সাংবাদিক ও চট্টগ্রামের স্থানীয় সনামধন্য একটি দৈনিক পত্রিকার সম্পাদকের আত্মীয় এবং নজরুল ইসলাম নিজেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যের গাড়িচালক হিসেবে পরিচয় দিয়ে নগররীর বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ পথচারী বা যেকোনো মানুষকে মাদক দিয়ে ফাঁসিয়ে হয়রানি করে আসছে বলে জানান, কয়েকজন ভুক্তভোগী।

এই চক্রটির সাথে কয়েকজন পুলিশের অসাধু কর্মকর্তা ও জড়িত আছে বলে আগামী নিউজকে জানান খুলশী থানাধীন আমবাগান এলাকার ভুক্তভোগী এক মাছ ব্যবসায়ী।

মাছ ব্যবসায়ী সাগর এই প্রতিবেদককে বলেন, গত (১২ জানুয়ারী)  ব্যাবসায়ীক কাজ শেষ বাসায় ফেরার পথে কথিত সাংবাদিক ইফতেখার ও পুলিশের এক এ,এস, আই সহ চারজন তার পকেটে ইয়াবা ট্যাবলেট ডুকিয়ে দিয়ে দশ হাজার টাকা দাবী করে, দাবীকৃত টাকা না দেওয়ায় পরদিন মাছ ব্যবসায়ী সাগরকে ১২ পিচ ইয়াবা দিয়ে তাকে কোর্টে চালান করে।

গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) মুহাম্মদ আলী হোসেন জানান, গত শনিবার সকালে আমাদের কাছে তথ্য আসে হেয়ার অ্যান্ড ফেয়ার নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ইয়াবা ও গুলি রয়েছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে আমরা সেখানে অভিযান চালাই। তথ্য অনুযায়ী ওই প্রতিষ্ঠানের সোফার নিচ থেকে ২০০ পিস ইয়াবা ও চার রাউন্ড গুলি উদ্ধার করি। বিষয়টি নিয়ে আমাদের সন্দেহ হলে তাৎক্ষণিক ওই প্রতিষ্ঠানের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ চেক করি। সিসিটিভি ফুটেজে তখন সেখানে সোফায় বসা এক যুবককে সোফার নিচে ইয়াবা ও গুলি রাখতে দেখা যায়। 

ঘটনাস্থলের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ঘটনায় জড়িত ফয়সালকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মূলত ইয়াবা ও গুলি রাখার পর ফয়সাল সেখানে দাঁড়িয়ে পাহারা দিচ্ছিল যাতে কেউ সেগুলো সরাতে না পারে। আটকের পর ফয়সাল জানায় ৫০০ টাকার বিনিময়ে সোহেল তাকে ইয়াবাগুলো সেখানে রাখতে দিয়েছে। এবং ফয়সালের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ডিবি পুলিশ খুলশী থানাধীন টাইগারপাস এলাকা থেকে সোহেলকে আটক করি। পরে সোহেলে র দেওয়া তথ্যমতে রাতভর অভিযান চালিয়ে ঘটনায় জড়িত বাকিদের একের পর এক গ্রেপ্তার করি।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (জনসংযোগ) শাহ আবদুর রউফ আগামী নিউজকে বলেন, ঘটনায় জড়িত গ্রেপ্তারকৃতরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হেয়ার অ্যান্ড ফেয়ারের মালিক মো. মান্নান শেখকে ফাঁসানোর জন্য সেখানে ইয়াবা ও গুলি রেখেছে বলে স্বীকার করেছে।

এই পুরো পরিকল্পনাটার মাস্টারমাইন্ডের মুল হোতা কথিত সাংবাদিক ইফতেখার করিম চৌধুরী। তবে তারা কী কারণে এই ধরনের অপরাধ  করেছে তা বলেনি। আমরা আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করবো।

আগামীনিউজ/সোহেল