Agaminews
Dr. Neem Hakim

বাঁচাতে চায় আড়াই বছরের শিশু তোহা


আগামী নিউজ | মোহাম্মদ শাহ আলম, হবিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৩, ২০২১, ০৭:১৪ পিএম
বাঁচাতে চায় আড়াই বছরের শিশু তোহা

সংগৃহীত

হবিগঞ্জঃ যে বয়সে মা-বাবা আর স্বজনদের কোলে চড়ে বড় হয়ে উঠার কথা, ঠিক সেই বয়সেই মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে শিশু তোহা । তাকে বাচাঁতে এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ছুটছেন তার মা-বাবা। কিন্তু কিছুতেই তাকে সুস্থ্য করে তুলতে পারছেন না।

তাকে সুস্থ্য করতে বাড়ী-ঘর বিক্রয় করে নিঃস্ব পিতা- মাতা। এখন তাকিয়ে আছেন সমাজের বিত্তবানদের দিকে। তাদের সাহায্যে যদি অবুঝ সন্তানটিকে  সুস্থ্য করে তুলতে পারেন। মাত্র আড়াই বছর বয়সে মাফিদা সুলতানা তোহার শরীরে বাসা বেঁধেছে মরণঘাতী লান্স ক্যান্সার। শিশু তোহা হবিগঞ্জ জেলার লাখাই উপজেলার বামৈ গ্রামের মাহমুদুর রহমানের কন্যা।

আজ বুধবার দুপুরে হবিগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালে শিশু তোহার মা নাসরিন আক্তারের সাথে তিনি জানন- তোহার বয়স যখন মাত্র এক বছর তখন তার ফুসফুসে সমস্যা দেখা দেয়। প্রথমে তাকে  হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে চিকিৎসকের পরামর্শে  উন্নত চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয় সিলেট এমএজি ওসমানি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষার পর লান্স ক্যান্সার ধরা পড়ে। সেখান থেকে আরও উন্নত চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয় ঢাকার পিজি হাসপাতালে।

সেখানে বেশ কিছুদিন চিকিৎসা নেয়ার পরও কোনো উন্নতি না হওয়ায় চিকিৎসরা পরামর্শ দেন ভারতে নিয়ে যাওয়ার। চিকিৎসকরা জানান, তোহার এই চিকিৎসাটি অত্যন্ত ব্যায়বহুল। কিন্তু দরিদ্র পিতা মাহমুদুর রহমানের পক্ষে সন্তানের চিকিৎসার জন্য এতো টাকা যোগাড় করা অসাধ্য হয়ে পড়ে। এরপরও নিরূপায় হয়ে আদরের সন্তানকে বাঁচাতে শেষ সম্বল বাড়ী-ঘর করে  তোহাকে নিয়ে যান ভারতের ভেলোর চেন্নাইয়ের  সিএমসি হাসাতালে। প্রায় ৬ মাসে চিকিৎসা করাতে ব্যয় হয়ে গেছে প্রায় ১০ লাখ টাকার মত।

তিনি আরো জানান, চেন্নাইয়ের নিউরোলজিষ্ট মায়া তমাস ও বক্ষব্যধি স্নেহা ভরর্কার বলেছেন আমার মেয়ের অসুস্থতা এখন যে পর্যায়ে রয়েছে তা থেকে ভালো হওয়া সম্ভব। তারা বলেছেন বাংলাদেশে চিকিৎসাকালীন সময়ে বয়সের তুলনায় হাই ডোজ এন্টিবায়োটিক ওষুধ ব্যবহার করায় তার ব্রেইনে সমস্যা হয়েছে। বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হয়েছে ভারতে। আগামি ১৫ ফেব্রুয়ারি তোহাকে নিয়ে চেন্নাইয়ে যাওয়ার তারিখ।

কিন্তু আমার স্বামীর পরিবারে এ পর্যন্ত যা ছিল বিক্রি করে সবার সহযোগিতায় এতোদিন চিকিৎসা করা হয়েছে। এখন দুই বেলা দুমুঠো পেট ভরেই খেতে পারেন না। বাড়ি- ঘর বিক্রয় করে এখন হবিগঞ্জ শহরের২নং পুল এলাকায় কোনো রকমে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকছি। এত টাকা আমাদের পক্ষে কোনোভাবেই ম্যানেজ করা সম্ভব নয়। সমাজের বিত্তবানরা যদি সহযোগিতায় এগিয়ে আসেন তবে ক্যান্সার আক্রান্ত আমার অবুঝ সন্তানটিকে বাঁচানো সম্ভব।

যোগাযোগের মাধ্যম: ০১৭৬১-৯০৫৯৮১, একাউন্ট নং-০২০০০০১২৫৫৪৩ অগ্রনী ব্যাংক-হবিগঞ্জ শাখা।

আগামীনিউজ/এএস