Agaminews
Dr. Neem Hakim

হবিগঞ্জ হাসপাতাল এখন ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের দখলে


আগামী নিউজ | মোহাম্মদ শাহ আলম, হবিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি প্রকাশিত: জানুয়ারি ৭, ২০২১, ০২:০৮ পিএম
হবিগঞ্জ হাসপাতাল এখন ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের দখলে

ছবি: আগামী নিউজ

হবিগঞ্জঃ সদর হাসপাতাল ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের দখলে  দিনভর ওষুধ কোম্পানির তারা ওয়ার্ডগুলোতে অবাধ বিচরণ করতে থাকেন।
 
দলে দলে ভাগ হয়ে হাসপাতালের ভেতরে ডাক্তারের চেম্বারের সামনে অবস্থান নিয়ে রোগীদের ব্যবস্থাপত্র নিয়ে টানা হেঁচড়া করেন। দেখেন কোন কোম্পানির ওষুধ সেখানে লেখা হয়েছে।
 
অনেকে আবার রোগীদের বলে দেন পরীক্ষা-নিরীক্ষার কথাও। কেউবা নিজেদের মোবাইল ফোন নম্বর দিয়ে বলেন অমুক ক্লিনিকে পরীক্ষা করান। বিভিন্ন ওয়ার্ডে ঢুকে সিস্টারদের কাছে থাকা রোগীদের ফাইল নিয়েও টানাটানি করেন তারা। সিস্টাররাও নির্দিধায় ফাইল দিয়ে দেন তাদের কাছে।
 
হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ও বহি:বিভাগের সামনে ওষুধ কোম্পানির কয়েকজন প্রতিনিধি অবস্থান করছিলেন। পরিচয় জানতে চাইলে তাদের একজন নিজেকে জিসকা কোম্পানির প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয় দেন।
 
একই সময় হাসপাতালের নিচতলায় বহির্বিভাগের গেটের সামনে অবস্থান করছিলেন শাওন নামে একজন। তিনি বলেন, কয়েকটি কোম্পানির হয়ে তিনি কাজ করেন। মূলত কোম্পানিগুলোর তথ্য সংগ্রহ করাই তার কাজ।
 
ওষুধ বিতরণ কেন্দ্রের সামনে অবস্থান নিয়ে রোগীর ব্যবস্থাপত্রের ছবি তুলেন কয়েকজন প্রতিনিধি জানান, কারও সমস্যা সৃষ্টি করছেন না। শুধু ছবি তুলছেন।
 
বৃহস্পতিবার (৬ জানুয়ারি) সকালে সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, অফিস সময়ে হাসপাতালে যাওয়ার নিয়ম না থাকলেও সকাল ১০টার আগেই দলে দলে ভাগ হয়ে সেখানে অবস্থান নিচ্ছেন প্রতিনিধিরা।
 
হাসপাতালের ডাক্তারদের বিভিন্ন কক্ষের সামনের রোগীদের ভিড় থাকার সুযোগ নেন তারা। কক্ষ থেকে রোগী বের হওয়া মাত্রই তাদের ব্যবস্থাপত্র নিয়ে একেকজন টানাটানি শুরু করে দেন।
 
ডাক্তার কোন কোম্পানির ওষুধ লিখেছেন তা জানার চেষ্টা করেন। কেউ কেউ আবার একটি ওষুধের বদলে নিজের কোম্পানির ওষুধ কেনার পরামর্শ দেন। কেউ আবার সুযোগ বুঝে ঢুকে পড়েন ডাক্তারের কক্ষে। রোগী দেখার সময় সেখানে অবস্থান নিয়ে তিনি নিজের কোম্পানির ওষুধ লেখানোর চেষ্টা করেন।
 
সকাল থেকে জরুরি বিভাগ ও বহির্বিভাগের চক্ষু কক্ষের সামনে অবস্থান করছিলেন বেশ কয়েকজন ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি। এ সময় হাসপাতালে রোগীর ভিড় ছিল মারাত্মক।
 
একেকজন রোগী ডাক্তারের কক্ষ থেকে বের হন আর তাদের ব্যবস্থাপত্র নিয়ে টানাটানি শুরু করে দেন প্রতিনিধিরা। তাদের ছবি ওঠানোর বিষয়টি টের পেয়ে কয়েকজন দ্রুত সটকে পড়েন। অবস্থান নেন হাসপাতালের মূল ভবনের প্রবেশকক্ষের গেটের সামনে।
 
ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা শুধু এখানেই নয়, তারা বিভিন্ন ওয়ার্ডে গিয়ে সিস্টারদের কাছ থেকে ফাইল নিয়ে ব্যবস্থাপত্র দেখেন। টানা হেঁচড়াও করেন। ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের এমন দৌরাত্ম হাসপাতালের প্রতিদিনের চিত্র। এ অবস্থায় নার্স, ব্রাদাররা যেন অনেকটা অসহায় হয়ে পড়েন। রোগীসহ তাদের স্বজনরাও মারাত্মক বিব্রতকর অবস্থায় পড়েন।
 
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আধুনিক সদর হাসপাতালের আরএমও ডা. শামীমা আক্তার  জানান, অফিস চলাকালীন ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের হাসপাতালে আসা অবৈধ। তবে এ বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে।
 
আগামীনিউজ/এএস