Agaminews
Dr. Neem Hakim
Dr. Neem Hakim

দিনে ডাক্তার, রাতে ওটি বয়!


আগামী নিউজ | ডেস্ক রিপোর্ট প্রকাশিত: অক্টোবর ১২, ২০২০, ০৯:০২ পিএম
দিনে ডাক্তার, রাতে ওটি বয়!

সংগৃহীত

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলায় একিয়া ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকের বিরুদ্ধে অভিনব কায়দায় রোগীদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। গ্রাম ডাক্তারের সনদপত্র থাকলেও নিজেকে তিনি অভিজ্ঞ ডাক্তার পরিচয় দিয়ে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নিয়মিত রোগী দেখছেন। তবে এটাই তার একমাত্র পরিচয় নয়, তিনি রাতে জয়পুরহাটের একটি ক্লিনিকে অপারেশন থিয়েটারে সাহায্যকারী বা ওটি বয়ের কাজও করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার পাহাড়পুর ইউনিয়নে অবস্থিত একিয়া ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক জাহিদুল ইসলাম ১৯৯৮ সালে মানবিক বিভাগে মাধ্যমিক ও ২০০০ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। এরপর ২০০৪ সালে কলকাতা থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি নিয়েছেন বলে এলাকায় চাউর করেন। তার কেবল গ্রাম ডাক্তারের সনদপত্র থকালেও নিজেকে তিনি অভিজ্ঞ ডাক্তার বলে পরিচয় দিচ্ছেন। নিজের ডায়গনস্টিক সেন্টারে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নিয়মিত রোগী দেখছেন জাহিদুল। এ ছাড়া এসব রোগী দেখার নিয়মিত বিরতিতে নিজেই আলট্রাসনো, ইসিজি এবং এক্সরে করছেন। তার একই স্বাক্ষর রয়েছে ব্যবস্থাপত্রের পাশাপাশি এসব প্রতিটি রিপোর্টে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, জাহিদুল ইসলাম নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার উত্তর রামপুর গ্রামের সুবিদ আলীর ছেলে। তিনি পাশের জয়পুরহাট জেলা সদরের রওশন ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের এমএলএসএস পদমর্যাদার একজন ওটি বয় (অপারেশন থিয়েটারে সাহায্যকারী) হিসেবে কর্মরত। এখানে তিনি রাতের বেলা ডিউটি করেন। দিনের বেলা ডাক্তার হলেও রাতে তিনি ওটি বয়।

পাহাড়পুর ইউনিয়ন পরিষদের পাশেই একিয়া ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অবস্থান। প্রতিষ্ঠানটির মালিক জাহিদুল ইসলামের কাছে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, রাতে তিনি জয়পুরহাটের একটি ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ওটি বয় হিসেবে কাজ করেন। এ সময় নামের আগে ডাক্তার শব্দটি তিনি ব্যবহার করেন না বলে দাবি করলেও উপস্থিত রোগীদের সামনে এ ব্যাপারে তিনি নিরুত্তর থাকেন।

এইচএসসিতে কোন কোন সাবজেক্ট ছিল এমন প্রশ্নে বাংলা এবং ইংরেজি ছাড়া অন্যগুলো তিনি মনে করতে পারেননি। ভারতের শিয়ালদহ স্টেশন সংলগ্ন ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব অল্টারনেটিভ মেডিসিন কলকাতা থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি নিয়েছেন বলে দাবি করলেও বলতে পারেননি এমবিবিএস এর পুরো অর্থ। মানবিক বিভাগের ছাত্র হয়ে এমবিবিএস বা ডাক্তারি পড়া যায় কি না? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘ওটা আমার ভুল হয়েছে।’

এদিকে জাহিদুল ইসলাম অকপটে স্বীকার করেন যে, তার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়োগপ্রাপ্ত কোনো ডাক্তার বা প্যাথলজিস্ট কিংবা সনোলজিস্ট নেই। সবাই অনকলে আসেন অথবা অনলাইনে রিপোর্ট দেখে দেন। অনলাইনে রিপোর্ট দেখা সম্ভব হলেও তাদের স্বাক্ষর কীভাবে নেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘তারা আগেই স্বাক্ষর করে রাখেন।’

অন্যদিকে, বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের রিপোর্ট দেখা এবং স্বাক্ষরের কথা বললেও এখানকার ইসিজি, এক্সরে এবং আলট্রাসনোগ্রামের প্রত্যেকটিতে তিনি নিজেই স্বাক্ষর করেন। নিয়ম অনুযায়ী টেকনোলজিস্ট এবং ডাক্তার না থাকাসহ অন্যান্য বিষয় স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘আশপাশের জেলা ও উপজেলার সকল ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো এভাবেই চলে।’

তিনি জানান, ডায়াগনস্টিক সেন্টারের রেজিস্ট্রেশন নবায়নের সময় তারা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে আবেদন করেন। মিথ্যা তথ্য দিয়ে কিভাবে কাজটি করেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে বিশেষ ব্যবস্থা আছে।’

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে নওগাঁর সিভিল সার্জন ডা. এবিএম আবু হানিফ বলেন, ‘একিয়া ডায়াগনিস্টিক সেন্টারের বিষয়ে বদলগাছী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কানিস ফারহানাকে তদন্ত পূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন প্রাপ্তি সাপেক্ষে বিধিগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

গতকাল রোববার সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদ হলরুমে আইন শৃঙ্খলা সভায় বিষয়টি আলোচনা হয়। ওই সভায় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কানিজ ফারহানা বলেন, ‘বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে, তার ত্রুটি আছে। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবগত করার পর নির্দেশনা মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আগামীনিউজ/এএস