Agaminews
Dr. Neem Hakim
ঠাকুরগাঁওয়ে টানা বৃষ্টিতে প্লাবিত নিম্লাঞ্চলের

ধান-ভুট্টো উত্তোলনে কৃষকের ক্ষতি,বজ্রপাতে মৃত-২


আগামী নিউজ | ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি প্রকাশিত: জুন ২৬, ২০২০, ০৮:৩৮ পিএম
ধান-ভুট্টো উত্তোলনে কৃষকের ক্ষতি,বজ্রপাতে মৃত-২

সংগৃহীত ছবি

বুধবার অনুমানিক রাত সাড়ে ১০টা থেকে ঠাকুরগাঁওয়ে একাধারে টানা বৃষ্টি শুরু হয়। বৃহস্পতিবার বিকেলে এক-দুই ঘন্টা বৃষ্টি থামলেও সন্ধ্যা থেকে আবার শুরু হয় বৃষ্টি, সেই বৃষ্টি অব্যাহত থাকে শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত। টানা বৃষ্টির কারণে বেড়েছে টাঙ্গন নদীর পানি। তাই নদীর ধারে বসবাসরত প্রায় পাঁচশত পরিবারের ঘর-বাড়ি পানিতে প্লাবিত হয়ে গেছে । ধান ও ভুট্টা উত্তোলনকারী কৃষকরা শুকাতে না পেরে পচে যেতে বসেছে তাদের ধান ও ভুট্টা। অন্যদিকে আমন ধানের চারা ডুবে গেছে অনেক কৃষকের।এদিকে বৃষ্টির সাথে বজ্রপাতে পীরগঞ্জ ও রাণীশংকৈলে মারা গেছেন ১ কৃষক ও ১ জেলে। পানি বন্দী পরিবার গুলো শিশু ও বয়ষ্কদের নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছে । 

পানি বন্দী হয়ে বসবাসকারীদের অভিযোগ , নদীর ধারে ঠিক মতো ব্লক ও বোল্ডার স্থাপন করে নদী শাসন ও বাঁধ নির্মাণ না করায় এবং পানি নিষ্কাশন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার ত্রুটি থাকায় প্রায় প্রতি বছরই বর্ষার সময় সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়েন শহরের হঠাৎবস্তি , ডিসিবস্তি,খালপাড়া,মুন্সিপাড়া, এসি ল্যান্ড বস্তিসহ টাঙ্গন পাড়ের মানুষজন। পৌরসভা,সংসদ সদস্যসহ জনপ্রতিনিধি, ক্ষমতাসীন দলের নেতৃত্ব, পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে বারবার প্রতিশ্রতি দেয়া হলেও উন্নয়ন ঘটেনি এসব বস্তিবাসীদের। হঠাৎ বস্তি পাড়ার রশিদুল বলেন, আমরা অবহেলিত তাই প্রতি বছর একই অবস্থার মুখোমুখি হলেও কারও মাথাব্যাথা নাই। একই পাড়ার করোনাকালীন কাজ হারানো ম্যাচের বুয়া আসিয়া বেগম বলেন, প্রত্যেক বছর আমর আশ্বাস পাই কিন্তু একইভাবেই আমরা পানিবন্দী হয়ে থাকি।ডিসি বস্তির শাহ জামাল অভিযোগ করেন, আমাদের পানি বন্দী দশায় এখনো কোনো সরকারি সাহায্য আমরা পাইনি। খালপাড়ার ইয়াসিন আলী অভিযোগ করেন, বোল্ডার আর ব্লক বানানো হতে দেখি প্রত্যেক বছর কিন্তু বাঁধ নির্মাণ কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় আমাদের দূর্দষার শেষ হয়না। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত প্রায় ৫ শ পরিবারের অন্তত আড়াই হাজার মানুষের বাড়িঘর ডুবে গিয়ে আমরা আশ্রয়হীন হয়েছি, কোনো সরকারি উদ্যোগ দেখিনি। 
এদিকে অতি বর্ষণের সাথে বজ্রপাতে ঝলসে জেলায় ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন , পীরগঞ্জ উপজেলার কোষারাণীগঞ্জ গ্রামের আব্দুল হামিদের ছেলে আজিমুল হক(৪১) , তিনি বৃহষ্পতিবার সকালে নিজ জমিতে হালচাষ করতে গেলে বজ্রাঘাতে ঝলষে ঘটনাস্থলেই মারা যান। নিহত অপর জন হলেন রাণীশংকৈল উপজেলার ধর্মগড় ইউনিয়নের রাজদীঘি গ্রামের টংকনাথর রায়ের ছেলে জেলে শান্ত রায় (২২), বিলে মাছ ধরতে গিয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন বৃহষ্পতিবার বিকেলে।এছাড়া, অতিবর্ষণে না শুকাতে পেরে নষ্ট হচ্ছে সারা জেলায় কৃষকের বিলম্বে গাড়া বোরোধান ও ভুট্টা। এছাড়া নিম্ঞ্চনলে ডুবে গিয়ে ব্যপক ক্ষতি হয়েছে কৃষকের আমন ধানের বীজতলার যা স্বীকার করেছেন কৃষি সম্প্রসারণ উপ পরিচালক আলতাফ হোসেন।

এবিষয়ে পৌরসভার  ৯ নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রদীপ কুমার ৫শ পরিবারের পানিবন্দী দশার কথা স্বীকার করে জানান, সেখানে পানি নিষ্কাশনের জন্য কিছু ড্রেন করা হয়েছে এবং আগমীতে আরও করা হবে। মূলত নদীর পানিতে তাদের বাড়ি ঘর প্লাবিত হচ্ছে। নদীর ধারে ব্লক দিয়ে বাঁধ তৈরী করে দেয়া হলে তারা পানি থেকে রক্ষা    পেতে পারেন। আর এই বাঁধ ও ব্লক তৈরী করে বসানোর বরাদ্দ বা বাজেট আমাদেও পৌরসভার নেই। সেটা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাজ।গ তাই তিনি এবিষয়ে সরকারের সদয় দৃষ্টি কামনা করেন। এদিকে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন শুক্রবার ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শন করে , পানিতে ডুবে যাওয়া মানুষজনদের জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আশ্রয় গ্রহণ করার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা তৈরি করে পরবর্তিতে তাদের সাহায্যের ব্যবস্থা করা হবে।

অন্যদিকে শুক্রবার বিকেলে ঠাকুরগাঁও পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন,গত ৪৮ ঘন্টায় অতি বৃষ্টিতে পানি প্রায় ১২ সেন্টিমিটার বেড়েছে। তিনি বলেন, নদী ভাঙ্গন প্রবণ এলাকাগুলো পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বরাদ্দ পেলে বাঁধ নির্মাণ করা হবে বলে তিনি জানান।
 জেলা প্রশাসক ড.কামরুজ্জামান সেলিম বলেন, করোনা মোকাবেলার এই দুঃসময়ে যারা অতি বর্ষণের কারণে ভোগান্তির স্বীকার হয়েছেন,তাদের জন্য ২ শ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ করা হয়েছে। আশ্রয়দানের জন্য শিল্পকলা একাডেমি ভবন ছাড়াও বন্ধ স্কুল কলেজ ভবনগুলো রয়েছে। 

আগামীনিউজ/শামসুল/জেএস

Dr. Neem